
আলোর যুগ প্রতিনিধিঃ কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে জেলেসহ সবার সমন্বিত ভূমিকা জরুরি। বিশ্বে উৎপাদিত জাটকার বড় অংশই চাঁদপুরে পাওয়া যায়, তাই এই অঞ্চলের দায়িত্বও বেশি। মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন এলাকায় তিন নদীর মোহনায় জাতীয় জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ১৯৮০ সালের পূর্বে দেশে যে পরিমাণ মাছ উৎপাদন হয়েছে তার ২০ শতাংশ হয়েছিল ইলিশ। মাঝের সময়ে ইলিশের উৎপাদন কমেছে। তবে, বর্তমানে পাঁচ লাখ টনের ওপরে ইলিশ উৎপাদন হচ্ছে। জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ২০০৩-০৪ সাল থেকে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। জাটকা নিধনে কারেন্ট জালের প্রভাব গত ১০-১৫ বছরে খুব দ্রুত উত্থান হয়েছে বলেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, নেট ফ্যাক্টরিগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে শুধু নেট তৈরি করার জন্য। এর মধ্যে কিছু দুষ্টু লোক চুরি করে কারেন্ট জাল তৈরি করছে। কারেন্ট জাল ব্যবহার বন্দে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সারা বিশ্বে ইলিশের জন্য বাংলাদেশের বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। তাই সরকার চায়, বাংলাদেশে প্রতিবছর ২০ লাখ টন ইলিশ উৎপাদন করবে। তিনি আরও বলেন, নদীদূষণ এই দেশে অনেক ক্ষতি করছে। যেকোনো অবস্থাতে নদীর দূষণ প্রতিরোধে সরকার বদ্ধপরিকর।
আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষি খাত শক্তিশালী হলেই দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। যতদিন পর্যন্ত আমাদের কৃষি খাত মজবুত না হবে, ততদিন দেশের অর্থনীতিকে টেকসইভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এই সরকার ভোটের কালি শুকানোর আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আসন্ন পয়লা বৈশাখ থেকে কৃষক কার্ড চালু করা হবে বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। স্বাগত বক্তব্য দেন মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান, জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম, নো পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামসহ সরকারী বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলার জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের আগে মন্ত্রী তিন নদীর মোহনা পরিদর্শন করেন এবং এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রশংসা করেন।
