Thursday, February 26, 2026
Homeখেলানিজেই জানালেন স্পেনের হয়ে কেন খেলেননি মেসি

নিজেই জানালেন স্পেনের হয়ে কেন খেলেননি মেসি

আলোর যুগ স্পোর্টসঃ জীবনের কঠিন বাস্তবতায় অল্প বয়সেই পরিবারসহ দেশ ছাড়তে হয়েছিল লিওনেল মেসিকে। স্পেনে পাড়ি জমানোর পর খুব দ্রুতই তার অসাধারণ ফুটবল প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে চুক্তি করে নেয় বার্সেলোনা। ক্লাবের জার্সিতে একের পর এক সাফল্যের মাঝে মেসির সামনে খুলে যায় স্পেনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগও। তবে সব প্রলোভন ছাপিয়ে তার মনপ্রাণ জুড়ে ছিল একটাই নাম- আর্জেন্টিনা। জন্মভূমির প্রতি সেই গভীর ভালোবাসার কারণেই স্পেনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার গল্প নিজেই শোনালেন ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসি।

বলা যায়, ক্যারিয়ারের শেষ ধাপে পৌঁছে গেছেন মেসি। যদিও ৩৮ বছর বয়সেও তার পায়ের জাদু কমেনি। স্বপ্ন দেখছেন আরেকবার ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে মাঠে নামার এবং বিশ্বসেরার মুকুট ধরে রাখার। এই সময়ে মিরো দে আত্রাস পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নানা বিষয় নিয়ে কথা বললেন মেসি। তারই এক ফাঁকে ফিরে গেলেন প্রায় দুই যুগ আগে। মেসি তখন খেলছিলেন বার্সেলোনার যুব দলে। তখনই তার স্পেন বয়সভিত্তিক দলে খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়, বিশ্ব ফুটবলে অবশ্য এমন ঘটনা দেখে যায় অহরহ।

মেসি বলেন- একটা সময়ে (স্পেনের জার্সিতে খেলার সম্ভাবনার বিষয়ে) আমাকে বলা হলো, কারণ আমি তখন বার্সেলোনার হয়ে খেলছিলাম। তারা সেইরকম ইঙ্গিতই দিয়েছিল, বিষয়টা বেশ স্বাভাবিকই, কারণ অনেক তরুণ খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রেই এমনটা ঘটে।” কিন্তু মেসি তখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। আর ওই দ্বিধার কারণেই ২০০৩ সালের ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে খেলতে পারেননি তিনি। ওই আসরেই সেমি-ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছিল স্পেন, যে ম্যাচে জোড়া গোল করেছিলেন সেস ফাব্রেগাস।

মেসি জানান, সে (ফাব্রেগাস) তখন আর্সেনালে খেলছিল এবং (আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ওই ম্যাচে) জোড়া গোল করেছিল। তখন তারা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল যে, আমি কেন স্পেনের হয়ে খেলছি না এবং তখন থেকেই মূলত বিষয়টার শুরু। রপর সরাসরি তাকে প্রস্তাবও দেওয়া হয় স্পেনকে প্রতিনিধিত্ব করার। কিন্তু ততদিনে মেসি নিজের কাছে পরিষ্কার হয়ে যান, আকাশী-সাদা জার্সিতেই নিজেকে দেখেন তিনি। মেসি বলেন, যদিও আমি খুব অল্প বয়সে বার্সেলোনায় গিয়েছিলাম এবং সেখানে আমি প্রায় সব বয়সভিত্তিক ক্যাটাগরিতেই খেলেছিলাম, তারপরও আমি মনে-প্রাণে আর্জেন্টাইন। তবে (স্পেনে হয়ে খেলার) সুযোগটা ছিল এবং সেটা হতেও পারতো। কিন্তু আমার সবসময়ের আকাঙ্ক্ষা ছিল আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার।

পরের বছরই আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে মাঠে নামেন মেসি এবং এক বছর পর জয় করেন ফিফা যুব বিশ্বকাপ। ২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিকসে গলায় পরেন সোনার পদক। কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে একটা ট্রফির অপেক্ষা আর ফুরাচ্ছিল না মেসির। অবশেষে সেই অপেক্ষা ঘুঁচে যায় ২০০১ সালে, কোপা আমেরিকা জয়ের মধ্য দিয়ে। এরপর সাফল্য কেবল আসতেই থাকে। ২০২২ সালে দেশের তৃতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের মিশনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন মেসি এবং ২০২৪ সালে উঁচিয়ে ধরেন আরেকটি কোপা আমেরিকা ট্রফি। রেকর্ড আটবারের বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জয়ী তারকা ২০২২ সালের ফিনালিস্সিমাও জয় করেন। এই ট্রফি আবার জয়ের লক্ষ্যে আগামী মাসে ইউরোর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হবে তারা। এরপরই জুন-জুলাইয়ে বিশ্বকাপে মাঠে নামবেন তিনি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments