Thursday, February 26, 2026
Homeআন্তর্জাতিকইরান-যুক্তরাষ্ট্র 'যুদ্ধের প্রথম ৪৮ ঘণ্টা' কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ‘যুদ্ধের প্রথম ৪৮ ঘণ্টা’ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

আলোর যুগ প্রতিনিধিঃ মধ্যপ্রাচ্যে যদি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তার গতিপ্রকৃতি নির্ধারিত হবে সংঘাতের প্রথম কয়েক ঘণ্টায় ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতার ওপর। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্ড্রু ল্যাথামের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর সামরিক সমীকরণ। তার মতে, তেহরান হয়তো আকাশপথে বা সমুদ্রে মার্কিন শ্রেষ্ঠত্বের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবে না কিন্তু তাদের বিশাল মিসাইল ভাণ্ডার যুদ্ধের শুরুর দিকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে স্থবির করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন বিমান ঘাঁটিগুলোর অবস্থান একদম সুনির্দিষ্ট এবং স্থায়ী। আল-উদেইদ বা আল-ধাফরার মতো ঘাঁটিগুলোর রানওয়ে বা ফুয়েল ফার্মগুলো সরিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইরান ঠিক এই দুর্বলতাকেই পুঁজি করতে চায়। ফাতেহ-১১০ বা জোলফাগারের মতো উন্নত প্রযুক্তির সলিড-ফুয়েল ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করে ইরান যুদ্ধের প্রথম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে বৃষ্টির মতো গোলাবর্ষণ করতে পারে। এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য মার্কিন যুদ্ধবিমানের উড্ডয়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা।

যদিও মার্কিন বাহিনী প্যাট্রিয়ট এবং থাডের মতো অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে এসব ঘাঁটি রক্ষা করে, তবুও ইরানের লক্ষ্য নিখুঁত নিশানার চেয়ে মিসাইলের সংখ্যা বা ভলিউমের ওপর বেশি। ল্যাথাম বলছেন, একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একসাথে কতগুলো লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারবে তার একটা সীমাবদ্ধতা আছে। এছাড়া একবার ইন্টারসেপ্টর মিসাইলগুলো খরচ হয়ে গেলে তা পুনরায় লোড করতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। এই সময়টুকুই ইরানের জন্য বড় সুযোগ। এমনকি যদি মিসাইল সরাসরি আঘাত নাও করে, আকাশেই ধ্বংস হওয়া মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ রানওয়েতে পড়ে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে পারে।

তবে ইরানের এই সামরিক কৌশলের একটি বড় সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। মোবাইল লঞ্চার ব্যবহার করে তারা প্রথম দিকে মার্কিন গোয়েন্দা নজরদারি এড়িয়ে হামলা চালাতে পারলেও, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে মার্কিন ইসর বা ইন্টেলিজেন্স সক্ষমতা লঞ্চারগুলোর অবস্থান শনাক্ত করে ফেলবে। সময়ের সাথে সাথে ইরানের মিসাইল মজুত কমতে থাকবে এবং মার্কিন পাল্টা হামলার মুখে তাদের লঞ্চিং সাইটগুলো টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। অর্থাৎ, ইরান শুরুর দিকে মার্কিন বাহিনীকে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারলেও দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে মার্কিন লজিস্টিক গভীরতা এবং উন্নত প্রযুক্তির সামনে এই মিসাইল কৌশল কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েই যায়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments