
জাভেদ মোস্তফা 🇧🇩
সাভারে আর্মি ক্যাম্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে গত ২ সপ্তাহে সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে ১০ জনকে গ্রেফতার ও অবৈধ মামামাল উদ্ধার সহ লক্ষাধিক টাকা জড়িমানা করেছে।
গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১৯০০ ঘটিকায় হেমায়েতপুর আর্মি ক্যাম্পের একটি নিয়মিত টহল দল আমিনবাজার বোরদেশী এলাকায় নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। এ সময় বোরদেশী মফিদ-ই-আম স্কুল প্রাঙ্গণ অতিক্রমকালে টহল দল কয়েকজন ব্যক্তিকে ইয়াবা সেবন ও বিক্রয় কার্যক্রমে লিপ্ত অবস্থায় দেখতে পায়।
টহল দল ঘটনাস্থল থেকে ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৭,৪৫০ টাকা নগদ (ইয়াবা বিক্রির টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে), ২টি মোবাইল ফোন, ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত ২টি ছুরি, মাদক সেবনে ব্যবহৃত ১টি সিরিঞ্জ এবং ২টি এফেড্রিন (ইনজেকশনযোগ্য মাদক) সহ একজন ব্যক্তিকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি ইয়াবা বিক্রয় ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। আটক ব্যক্তির নাম মোঃ আপন ইসলাম আগুন (২৬), পিতা: শামসুল হক, ঠিকানা: বোরদেশী পশ্চিমপাড়া, আমিনবাজার।
পরবর্তীতে আটক ব্যক্তি এবং উদ্ধারকৃত মাদক, অস্ত্র, মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাভার মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গত ২০ জানুয়ারী জামগড়া আর্মি ক্যাম্প সাভারের হেমায়েতপুর কাঁচা বাজার এলাকায় সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহল কার্যক্রমের সময় জুয়া ও চাঁদাবাজিতে জড়িত তিনজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে হেমায়েতপুর কাঁচা বাজার সংলগ্ন এলাকায় টহলরত সেনাদল কয়েকজন ব্যক্তিকে চাঁদাবাজি এবং জুয়ায় লিপ্ত অবস্থায় দেখতে পায় এবং সাথে সাথে তিনজনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটককৃত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে হেমায়েতপুর বাজার এলাকায় অবৈধ জুয়া পরিচালনা করে আসছিল। তারা সাধারণ মানুষকে প্রথমে সামান্য লাভ দেখিয়ে পরে কৌশলে সর্বস্ব হাতিয়ে নিত। স্থানীয় জনগণও আটককৃতদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের জুয়া ও চাঁদাবাজি কার্যক্রমের বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ করেন।
আটককৃতদের কাছ থেকে বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে ভুয়া পুরস্কারের সামগ্রী, জুয়ার টিকিট, ভয়ভীতি প্রদর্শনে ব্যবহৃত ধারালো ও লোহার সরঞ্জাম, নগদ অর্থ, জুয়ার লেনদেন সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং মোবাইল ফোন। পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয় থানাকে অবহিত করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আটককৃত ব্যক্তি ও উদ্ধারকৃত মালামাল তাদের জিম্মায় নেয়। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আসামিদের পুলিশ হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড রোধে সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
গত ২১ জানুয়ারী জামগড়া আর্মি ক্যাম্প এর সদস্যরা নবাবগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পের টহল দলের তৎপরতায় নবাবগঞ্জের পুরাতন বান্দুরা এলাকায় মাদক সেবন ও বিক্রির সাথে জড়িত তিনজনকে আটক করে ও তাদের নিকট থেকে মাদক ও নগদ অর্থ উদ্ধার করে।
জানা যায়,নবাবগঞ্জের পুরাতন বান্দুরা এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও সেবনের সাথে জড়িত তিনজনকে নবাবগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পের সেনাবাহিনীর নিয়মিত রাত্রিকালীন টহল দল আটক করেছে।
এ সময় তারা স্থানীয় রেস্তোরাঁর পাশে সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে । সেনা টহল দলকে দেখে তারা ঘটনাস্থল হতে পলায়নের চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে দুইজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরবর্তী তল্লাশিতে তাদের কাছ থেকে ১৪ (চৌদ্দ) পিস ইয়াবা, আনুমানিক ২০ গ্রাম গাঁজা, ২টি মোটরসাইকেল, ২টি মোবাইল ফোন এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে একজনকে মাদকাসক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। উক্ত রেস্তোরাঁ এলাকায় নিয়মিত ইয়াবা সরবরাহকারী মাদক ব্যবসায়ী নাজমুল সেনা টহল দলকে দেখে পার্শ্ববর্তী বাড়িতে পলায়ন করে গেট বন্ধ করে দেয়। সেনা টহল দল নবাবগঞ্জ থানার পুলিশের সহায়তায় মাদক ব্যবসায়ী নাজমুলকে আটকের চেষ্টায় বাড়িটি তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিকালে পুলিশ উক্ত মাদক ব্যবসায়ীকে তার বাসা থেকে আটক করে এবং তার কাছ থেকে মাদক বিক্রির সর্বমোট ৩৮,৩২০/- (আটত্রিশ হাজার তিনশত বিশ) টাকা উদ্ধার করে, যা সে আনুমানিক ১০০ পিস ইয়াবা বিক্রি করে আয় করেছিল বলে নিজেই ( মাদক ব্যবসায়ী নাজমুল) স্বীকার করে। পরবর্তীতে আটককৃত ব্যক্তিদের নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে জব্দকৃত মালামালসহ পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য হস্তান্তর করা হয়
উদ্ধারকৃত মালামালে ছিল ১৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, আনুমানিক ২০ গ্রাম গাঁজা, ৩৮,৩২০/- টাকা, ২টি মোটরসাইকেল, ২টি মোবাইল ফোন এবং মাদক সেবনের সরঞ্জাম।
আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন,
ক. এস কে মোহাম্মদ নাজমুল হোসেন (বয়স ২৯ বছর)।
খ. সোহাগ বিশ্বাস (বয়স ২৪ বছর)।
গ. মহসিন মল্লিক (বয়স ৩৬ বছর)।

গত ২৭ জানুয়ারী হেমায়েতপুর আর্মি ক্যাম্প কর্তৃক কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া বাজারে অবৈধভাবে খোলা জ্বালানি তেল বিক্রয়ের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে। এ সময় কেরানীগঞ্জ উপজেলার কলাতিয়া বাজার এলাকায় অবৈধভাবে খোলা (লুজ) জ্বালানি তেল বিক্রয়ের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সন্ধ্যা ১৯৩০ ঘটিকা থেকে রাত ২২৩০ ঘটিকা পর্যন্ত কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন কলাতিয়া বাজার এলাকায় হেমায়েতপুর আর্মি ক্যাম্প কর্তৃক নিয়মিত টহল চলাকালে অবৈধভাবে খোলা অকটেন মজুত ও বিক্রির কার্যক্রম শনাক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে ঘটনাস্থলে কেরানীগঞ্জের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। মোবাইল কোর্ট চলাকালীন তিনটি পৃথক দোকান থেকে সর্বমোট ১২৬৩ লিটার খোলা অকটেন উদ্ধার করা হয়। অভিযানে অভিযুক্ত দোকান মালিকদের বিদ্যমান আইন লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একইসঙ্গে উদ্ধারকৃত জ্বালানি তেল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদিত চ্যানেলের মাধ্যমে বিক্রয়ের নির্দেশ প্রদান করা হয়।
উদ্ধার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে
রাকিব অটো, মালিক কবির হোসেন (৪৫), ঠিকানা: কলাতিয়া, কেরানীগঞ্জ
উদ্ধারকৃত অকটেন ১০০০ লিটার
অর্থদণ্ড দেওয়া হয় ৩০,০০০ টাকা
হামিম স্টোর, মালিক: হুমায়ুন কবির (৪৭), ঠিকানা: কলাতিয়া, কেরানীগঞ্জ
উদ্ধারকৃত অকটেন: ১০৩ লিটার
অর্থদণ্ড: ১০,০০০ টাকা
হৃদয় স্টোর, মালিক: আলতাফ হোসেন (৪৮), ঠিকানা: কলাতিয়া, কেরানীগঞ্জ
উদ্ধারকৃত অকটেন: ১৬০ লিটার
অর্থদণ্ড: ১০,০০০ টাকা। অভিযানটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং সেনাবাহিনী প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান ও এলাকা নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। বেসামরিক প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
জনস্বার্থে অবৈধ জ্বালানি ব্যবসার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
নবাবগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পের টহল দলের তৎপরতায় নবাবগঞ্জের পুরাতন বান্দুরা এলাকায় মাদক সেবন ও বিক্রির সাথে জড়িত তিনজন আটক, মাদক ও নগদ অর্থ উদ্ধার। নবাবগঞ্জের পুরাতন বান্দুরা এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও সেবনের সাথে জড়িত তিনজনকে নবাবগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পের সেনাবাহিনীর নিয়মিত রাত্রিকালীন টহল দল আটক করেছে।

সেনা ক্যাম্প থেকে জানানো হয়,জনস্বার্থে অবৈধ জ্বালানি ব্যবসার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
