
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে “Cyber Security Awareness Day 2026” পালিত
জাভেদ মোস্তফা 🇧🇩
নিরাপদ সাইবার স্পেস, দায়িত্বশীল অনলাইন আচরণ ও ডিজিটাল সচেতনতা জোরদারে গুরুত্বারোপ
২০ জানুয়ারি ২০২৬, ঢাকা: ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটি ক্যাম্পাসে আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি ২০২৬) দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে “সাইবার সিকিউরিটি অ্যাওয়ারনেস ডে (CSAD) ২০২৬”। “From Law to Headlines – Reinforcing Trust & Leading to Safe Cyberspace” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সাইবার আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা এবং দায়িত্বশীল অনলাইন আচরণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের এসপি মো. জাহেদ পারভেজ চৌধুরী। উদ্বোধনী সেশনে সেশন চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের জয়েন্ট ডিরেক্টর (আইসিটি), ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সেক্রেটারিয়েট, বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রধান কার্যালয়, ঢাকা— মো. জাহিদুল ইসলাম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষকমণ্ডলী ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা নিরাপদ ডিজিটাল স্পেস নিশ্চিত করতে আইনগত কাঠামোর যথাযথ প্রয়োগ, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সচেতন অনলাইন আচরণের ওপর গুরুত্ব দেন।
দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল “The Power of Words in a Digital World: Why Online Behavior Matters” শীর্ষক সেমিনার। এতে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও ইনফ্লুয়েন্সারদের অংশগ্রহণে অনলাইনে ভাষা ও আচরণের সামাজিক প্রভাব, সাইবার বুলিং প্রতিরোধ এবং দায়িত্বশীল কনটেন্ট নির্মাণ নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে অনলাইন শিষ্টাচার ও নিরাপদ ডিজিটাল উপস্থিতির বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে “Towards a Safe Cyberspace: Multi-Stakeholder Collaboration & National Cyber Resilience Strategy” শীর্ষক প্যানেল ডিসকাশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন ডিএমপি’র এডিশনাল ডিসি রুবেল হক, এনসিসি ব্যাংকের হেড অব ডাটা সায়েন্স শওকতুল ইসলাম, বাংলাদেশ সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস ফোরামের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ আশফাকুর রহমান এবং আইসিটি বিভাগের সিসিএ কার্যালয়ের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট কন্ট্রোলার নাজনীন আক্তারসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা। আলোচনায় জাতীয় সাইবার রেজিলিয়েন্স গঠনে নীতিনির্ধারক, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, ব্যাংকিং খাত, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
কারিগরি সেশনে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মো. আতিকুল ইসলাম এবং পাঠাও পে-এর ডিফেন্সিভ সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ার বাদশা ফয়সাল “ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ও পার্সোনাল ডাটা এক্সপোজার” বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। পাশাপাশি মোবাইল ফোনে ম্যালওয়্যার আক্রমণের লাইভ ডেমোনস্ট্রেশন, শিক্ষকদের জন্য “Think Before You Post” শীর্ষক বিশেষ সেমিনার এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা যাচাইয়ে দিনব্যাপী “Capture The Flag (CTF)” প্রতিযোগিতা, সাইবার সিকিউরিটি প্রজেক্ট শোকেসিং ও আইডিয়া প্রেজেন্টেশন আয়োজন করা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সেশন চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য। এ পর্বে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, এ আয়োজন শিক্ষার্থী ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তথ্য সুরক্ষা, অনলাইন ঝুঁকি শনাক্তকরণ এবং নিরাপদ ডিজিটাল আচরণ সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে নিরাপদ সাইবার পরিবেশ গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তাও নতুনভাবে সামনে এসেছে।
শেষ –
Edit with the Docs app
