এ বছর শুরু হতে পারে ফাইভ জি নেটওয়ার্ক তৈরির কাজ

0
3


আলোর যুগ প্রযুক্তি:-
বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে ফোর-জি (এলটিই) নেটওয়ার্ক বিস্তার অব্যাহত রয়েছে। তবে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ ফাইভ-জিতে চলে গেছে। বাংলাদেশে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক তৈরির কাজ এ বছর শুরু হতে পারে। বিটিআরসির ২২৯ তম কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশে ফাইভ-জি প্রযুক্তি প্রবর্তনের জন্য ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি প্রয়োজনীয় তরঙ্গের চাহিদা নিরূপণ, তরঙ্গ বরাদ্দের সময়কাল নির্ধারণ, স্পেক্ট্রাম শেয়ারিংয়ের বিষয়ে মতামত ইতোমধ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এখন মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে কবে নাগাদ ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক চালু হবে।

এদিকে এরিকসনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতবছর বিশ্বের ৮০ শতাংশেরও বেশি মানুষ ফোর-জি কভারেজের আওতাভুক্ত হয়েছে। আর ২০২৬ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৯৫ শতাংশে পৌঁছাবে। বর্ধিত ধারণক্ষমতা এবং দ্রুতগতির ডেটা সরবরাহ করতে ফোর-জি নেটওয়ার্কের উন্নয়নের কাজ চলছে। ২০২১ সালের মধ্যে ফোর-জি নেটওয়ার্ক সারাবিশ্বেই স্থাপন হবে। ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক স্থাপন করতে আরও সময় লাগবে। বিশ্বের অল্প কয়েকটি দেশ ফাইভ-জি নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে। বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে ফাইভ-জি প্রবর্তনে উদ্যোগ নিয়েছে। টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারীদের ও বাংলাদেশের আইসিটি সেক্টরের উন্নতি ঘটেছে। তবে ফোর-জি সেবা থেকে এখন সারাবিশ্ব ফাইভ-জি কাভারেজের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর এরিকসন মোবিলিটি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

এরিকসন মোবিলিটি রিপোর্টের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে প্রতি ১০টি মোবাইল সাবস্ক্রিপশনের মধ্যে ৪টি হবে ফাইভ-জি। বর্তমানে, মানুষের ফাইভ-জি সাবস্ক্রিপশনের প্রতি বিপুল আগ্রহ ও সম্পৃক্ততা অন্য যে কোন প্রজন্মের মোবাইল সংযোগ থেকে দ্রুততার সঙ্গে হচ্ছে। প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে, গত বছর বিশ্বের ১শ’ কোটিরও বেশি মানুষ ফাইভ-জি নেটওয়ার্কের মধ্যে প্রবেশ করেছেন। এই সংখ্যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ। বছর শেষে সারাবিশ্বের মধ্যে ২২ কোটি ফাইভ-জি সাবস্ক্রিপশন তৈরি হবে। ২০২৬ সালে বিশ্বের ৬০ শতাংশ মানুষ ফাইভ-জি কাভারেজের আওতাভুক্ত হবে। তখন ফাইভ-জি সাবস্ক্রিপশন ৩ শ’ ৫০ কোটিতে পৌঁছে যাবে। এমনটাই ধারণা করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। ২০২৬ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ওশেনিয়াতে এলটিইর পরে ফাইভ-জি দ্বিতীয় সর্বাধিক জনপ্রিয় প্রযুক্তি হবে।

এরিকসন কনজ্যুমার ল্যাবের নতুন ফাইভ-জি কনজ্যুমার পোটেনশিয়াল প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ফাইভ-জি কনজ্যুমার মার্কেটের মূল্য ৩১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। যোগাযোগ সেবাদানকারীরা (সিএসপি) আয় করবে মোট ৩ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। ডিজিটাল সেবায় নতুন সুযোগ বৃদ্ধির সঙ্গে এই আয়ের পরিমাণ আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ অঞ্চলে যৌগিক বার্ষিক বৃদ্ধির হার (সিএজিআর) ৩৩ শতাংশ অনুসারে মোট মোবাইল ডেটা ট্রাফিক ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, এটি ২০২৬ সালে ৩২ ইবিতে পৌঁছাবে, যা প্রত্যেক স্মার্টফোনে প্রতি মাসে ৩৩ জিবির সমতুল্য। মোবাইল ডেটা ব্যবহার বৃদ্ধির পেছনে আছে বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলের মোবাইল অপারেটরদের বিপুল পরিমাণ ডেটা প্ল্যান সুবিধা প্রদান। চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং থাইল্যান্ডে লাইভ নেটওয়ার্কসহ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ওশেনিয়াতে বাণিজ্যিকভাবে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে ফাইভ-জি চালু হতে দেখা গেছে। ২০২১ সালে তরঙ্গ নিলাম পরিকল্পনায় বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম এবং মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোতে পরের বছরে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক চালুর বিষয় বিবেচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এরিকসন বাংলাদেশ অফিস জানিয়েছে, এরিকসন মোবিলিটি প্রতিবেদনে আলোকপাত করা হয়েছে ফাইভ-জি’র সাফল্য কেবল কাভারেজ এবং সাবস্ক্রিপশনের পরিমাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর মূল্যায়ন নতুন ব্যবহারকারী ও তাদের ব্যবহার দ্বারাও নির্ধারিত হবে। প্রথমটি ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ফাইভ-জি নেটওয়ার্কে ক্রিটিক্যাল আইওটি চালু করা হবে। একই সঙ্গে ক্লাউড গেমিং এ্যাপ্লিকেশন ক্যাটাগরিও চালু হবে।

প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ওশেনিয়াতে ২০৩০ সালের মধ্যে ফাইভ-জি সক্রিয় গ্রাহক রাজস্ব খাতে (সিএসপির) ২৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার উপার্জন করতে পারবে। ফাইভ-জি ব্রডব্যান্ড সার্ভিস মার্কেট ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ২২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যাবে। সামগ্রিক সেবা প্রদানকারীদের মধ্যে ফাইভ-জি ডিজিটাল সেবার ৭৯ শতাংশের রাজস্ব ২০৩০ সালের মধ্যে হবে ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফাইভ-জি ডিজিটাল সেবার মধ্যে ভিডিও, মিউজিক, গেমিং, বর্ধিত-ভার্চুয়াল বাস্তবতা এবং ভোক্তা আইওটি সেবার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।