মায়ার্সের ডাবল সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চট্টগ্রাম টেস্ট জয়

0
7


আলোর যুগ রিপোর্ট: আশা দেখানোর ম্যাচেও হেরে গেল বাংলাদেশ। যেখানে টাইগারদের জয় চোখের সামনেই ছিল, অথচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ অসাধ্য সাধন করল অবিশ্বাস্য দৃঢ়তা দেখিয়ে। ক্যারিবীয়দের জয়ের নায়ক অভিষিক্ত কাইল মায়ারস। তার মহাকাব্যিক এক ডাবল সেঞ্চুরিতে ভর করেই ৩ উইকেট হাতে রেখেই হেসেখেলে মাঠ ছেড়েছে সফরকারিরা। এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে ক্রেইগ ব্রাথওয়েটের দল।

লক্ষ্য ছিল ৩৯৫ রানের। পঞ্চম দিনের শেষ ঘন্টাতেও বোঝা যাচ্ছিল না। শেষতক সেই হাসিটা হাসল ক্যারিবীয়রাই। হতাশায় ডুবাল ঘরের মাঠের বাংলাদেশকে।

অভিষিক্ত কাইল মায়ারসের ব্যাটে বিষাদের বিউগল বাজল টাইগার শিবিরে আর উল্টো চিত্র ক্যারিবীয়দের ডাগআউটে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মূল দল এলে হয়তো সুযোগই পেতেন না মায়ারস, সেই তিনিই হলেন ক্যারিবীয়দের অবিস্মরণীয় জয়ের অবিসংবাদিত নায়ক।

প্রায় আড়াইশ বছরের টেস্ট ইতিহাসে এর চেয়ে বেশি রান তাড়া করে জেতার নজির রয়েছে মাত্র ৪টি। আজ ইতিহাসের পঞ্চম সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টেস্টে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জয়ের বিশ্বরেকর্ডটাও ওয়েস্ট ইন্ডিজেরই দখলে। নাঈম হাসানের বলে মিড অনে ঠেলে দিয়ে দ্রুত সিঙ্গেল নিয়ে আজকের জয়টি নিশ্চিত করেছেন মায়ারস।

ম্যাচের শেষ দিন জয়ের জন্য ৭ উইকেট হাতে নিয়ে ২৮৫ রান প্রয়োজন ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চতুর্থ উইকেট জুটিতে রেকর্ড ২১৬ রান যোগ করে ম্যাচ সহজ করেন এনক্রুমাহ বোনার ও কাইল মায়ারস। পরে ষষ্ঠ উইকেটের ১০০ রানের জুটি গড়ে বাকি কাজ সারেন মায়ারস ও জশুয়া ডা সিলভা। শেষপর্যন্ত মায়ারস ২১০ রানে অপরাজিত থাকেন। বোনারের ব্যাট থেকে আসে ৮৬ রান।

অথচ আজ দিনের প্রথম সেশনের প্রথম ঘণ্টায় একাধিক সুযোগ তৈরি করেছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম। কিন্তু কখনও রিভিউ না নেয়ার ভুল, আবার কখনও ক্যাচ ছেড়ে ক্যারিবীয়দের সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ। যার সুবাদে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যায় সফরকারীরা।

চতুর্থদিন করা ৩ উইকেটে ১১০ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আজ দুই প্রান্ত থেকে মেহেদি মিরাজ ও তাইজুলকে দিয়ে আক্রমণ শুরু করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক। প্রথম সেশনে মেলেনি সাফল্য, সুযোগ পেয়ে মায়ারস ও বোনার অবিচ্ছিন্ন জুটিতে যোগ করেছেন ১৩৮ রান।