একজন প্রিয় শিল্পী ….. মিলন মাহমুদ

0
70

এ কে আজাদ ,বিশেষ প্রতিনিধি আলোর যুগ:
বিশ্ব মহামারির তান্ডবে সারা বিশ্ব যখন থমকে গেছে তখন বিনোদন জগতেও লেগেছে এর ছোঁয়া। শিল্পীরা ঘরে বন্দি হয়েছেন । কিন্তু এই শিল্পের সাথে জড়িতরা নিজেকে কিছুটা নিরাপদে রাখলেও থাকতে পারেন নি আর বদ্ধ ঘরে। তিন মাস যেতে না যেতেই অন্তর মনের চাহিদাকে বিকশিত করতে লেগে যাচ্ছেন কাজে। সীমিত আকারে হলেও শিল্পীরা আর বসে নেই, সম্প্রতি এই প্রতিবেদকের সাথে পরিচয় ঘটলো দেশের জনপ্রিয় কন্ঠ শিল্পী ও সংগীত পরিচালক মিলন মাহমুদ এর সাথে। জানলাম, ছোট বেলা থেকেই মিলন মাহমুদ গানকে তার সঙ্গী করে নিযয়েছেন। তিনি সময়ের অন্যতম আলোচিত কন্ঠশিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করছেন। এখন কিছুটা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এই নিরিবিলি পরিবেশে। ওপার বাংলার এক শিল্পীকে নিয়ে তিনি মিউজিক ভিডিও নিয়ে কাজ করছেন। চমৎকার এই কাজে তিনি মনোযোগ দিয়েছেন কিছুদিন ধরেই।
মুক্ত বাতাসের ভেলায় চড়ে নিরিবিলি ও মনমুগ্ধকর পরিবেশে দুই মাস আগেই চলে আসেন রাজউকের ১৮ নং সেক্টরে। শিল্প বাসনাকে উপলব্ধি করতে তিনি শহরের কোলাহল ছেড়ে দিয়া বাড়ী সংলগ্ন উত্তরার এই স্থানকেই বেছে নিয়েছেন তিনি। সাইকেল চালিয়ে গান গেয়ে এবং বন্ধু বান্ধব ও স্বজনদের নিয়ে আড্ডা মেরে কাটিয়ে দিচ্ছেন সোনালী দিন গুলো।

তারুন্বের প্রতীক এই তরুণ শিল্পী জায়গা করে নিয়েছেন লাখো তরুনের হৃদয়ে। তিন মাস আগেই তার সংসারে আগমন ঘটেছে একটি ফুট ফুটে অতিথির। তাই স্ত্রী সুমাইয়া জামান ও কন্যা শিশুকে নিয়েও কাটে তার কিছু রঙিন সময়। সুউচ্চ ভবনের একটি ফ্ল্যাটে তিনি সংসারের পাশাপাশি সাজিয়েছেন ছোট্ট স্টুডিও, যেখানে সময় পার করেন তার শিল্প-কর্ম নিয়ে।

সমালোচকদের দ্বারা তিনি বরাবরই প্রশংসিত হয়ে আসছেন এবং নানা সময় ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় তিনি দৃস্টি আকর্ষন করছেন। গায়ক, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক এর পাশাপাশি অভিনেতার তকমাও যোগ হয়েছে তার ঝুলিতে। প্রথমবারের মতো তিনি একটি ‘আমার মেয়ে নায়িকা’ নামের একটি ১০ পর্বের ওয়েব সিরিজে অভিনয় করছেন।
এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, করোনভাইরাস মহামারীর কারনে মার্চ মাসে যখন সংগীত জগত বন্ধ হয়ে যায়, তার পরই কিছু প্রকৃতির স্বাদ নিতে এখানে চলে আসা। বলেন, অপরিচিত সময়কালে অপরিচিত ও পরিবর্তিত প্রাকৃতিক দৃশ্যে থাকতে পেরে আমি আরও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি। আমি এই চমৎকার অ্যাপার্টমেন্টে সবেমাত্র বসবাস করছি এবং এ নিয়ে পড়ছি এবং দেখছি এবং জীবনযাপন করছি। কি ভাবে সময় কাটছে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বললেন , সুন্দর সময় কাটছে ” খুব শিঘ্রই তার নুতন একটি এলবাম প্রকাশ পাবে। ওপার বাংলার নুতন এক মেয়েকে নিয়ে কাজ চলছে। কথা বলে যা বুঝলাম, তিনি যে কাজটি ভালোবাসেন এবং তা যদি তাঁকে একইভাবে ভালবাসে তখন তার সমস্ত সময় এবং শক্তি এতে প্রবেশ করাতে তিনি পছন্দ করেন।
মিলন শুধু শিল্পি নন, একজন দুর্দান্ত বক্তা বলেই আমার মনে হয়েছে, তাই কথোপকথন এর সময় থেকে শুরু করে প্রতিটি বিষয়েই তিনি যত্নবান বলে মনে হলো। গানের স্ব-সেন্সরশিপ নিয়ে কথা বললে তিনি বলেন, গানের স্ব-সেন্সরশিপ প্রতিহত করতে হবে। সেন্সার বিহীন গান যেন প্রকাশ না হয় এ নিয়ে তিনি অনেক বছর ধরেই দাবী তুলে আসছেন। মিলন বলেন,সরকারকে এই প্রসিডিউর প্রনয়ন করতে হবে এবং অডিও শিল্পকে মনিটরিং এর আওতায় নিয়ে আসতে হবে।এতে কিছু খারাপ চর্চা বন্ধ হয়ে যেত এবং শিল্পের মান আরো ভাল হতো। তিনি বলেন, শিল্পীর প্রথম দায়ীত্ব তার কাজের স্বাক্ষর রাখা। দেশের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ সমন্বত রেখে একজন সত্যিকার শিল্পীকে কাজ করতে হয়। তাই প্রকৃত ভাবে এই শিল্পকে আরো সুন্দর আঁঙ্গিনায় আনতে সরকারের সেন্সর নজদারী অবশ্যই কাম্য।
মিলন আরো যোগ করেন, বিশ্বব্যাপী দেখা যায় একজন শিল্পী লক্ষ-কোটি মানুষকে বিনোদন দিয়ে থাকেন। কিন্ত যখন তার জীবনের শেষ সময় চলে আসে তখন তার বিনোদন ও সকল ধরনরে সহায়তা সরকার করে থাকে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে শিল্প ও শিল্পীদের রক্ষার্থে সরকার ও তার সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রনালয়কে অগ্রনী ভুমিকা রাখা উচিত। এটা সময়ের দাবী উল্লেখে করে তিনি বলেন, আর যেন কোন শিল্পিকে চিকিৎসার জন্য ফ্লাট বিক্রি করতে না হয়। শিল্পীরা দেশের সম্পদ এদের সব ধরনের সহায়তা-চিকিৎসা সেবা সরকারকেই বহন করা উচিত। সংস্কৃতি জগতে স্বাস্থ্য সংকটের দুর্ঘটনায় কোন শিল্পীর জীবনাবসান না ঘটে সেদিকে সরকার ও তার সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রনালয়কে এগিয়ে আসতে হবে।
মিলন মাহমুদের প্রথম অ্যালবাম ‘ধ্যান’ প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালে। অন্য অ্যালবামগুলো হল ‘ভালোবাসার আহ্বান’, ‘চারিদিকে কোলাহল’, ‘গোপনে’, ‘মন যমুনা’, ‘স্বপ্ন ডানা’,‘পরবাস’ ও ‘আলিঙ্গন’। ‘মন যমুনা’ ও ‘পরবাস’ অ্যালবাম দুটি ছিল ফোক ঘরানার। তার গাওয়া ‘চলো সবাই.., ‘আরেকটি বার হাতটি ধরো ভালোবেসে’, ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’, ক্রিকেট থিম সং ‘লাল সবুজের পতাকা’ গানগুলো বেশ জনপ্রিয়তা পায়।ওয়েবসাইটে দেখা যায় ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’ জনপ্রিয় গানটি ১৪ মিলিয়ান দর্শকদের ভালবাসা পেয়েছে।

সুদর্শন ও স্মার্ট দেখতে এই কন্ঠ শিল্পী একজন অভিনেতা হিসেবে বলেন, আমার জন্য এটা ছিল নতুন অভিজ্ঞতা। এখানে প্রযোজকের চরিত্রে অভিনয় করেছি। চেষ্টা করেছি কাজটি ভালোভাবে করার, যাতে দর্শক পছন্দ করে। একটি সিনেমার গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন বলে জানান তিনি। শিল্পী হতে গেলে যে কতোটা বিনয়ী হতে হয় তা তার সাথে দেখা না হলে বুঝতাম না। তার চমৎকার বচন ভঙ্গি ও বুদ্ধিদীপ্ত কথাবার্তা মুগ্ধ করে তুলবে যে কাউকে। অহংকার বিহীন এই মানুষটাকে কাছে পাওয়া সৌভাগ্যের বলে মনে করেন তার ভক্তরা।