অনাথ ও ছিন্নমূলদের নির্ভরতার প্রতীক `নাজমী জান্নাত’

0
86


আলোর যুগ বিশেষ প্রতিবেদন: ঢাকাস্থ সাভারে পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র সিআরপির কয়েকশ’ প্রতিবন্ধী মানুষদের পাশে থেকে তাদের নতুন উদ্যোমে বাঁচার অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছেন সমাজকর্মী বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের কাছে নির্ভরতার প্রতীক নাজমী জান্নাত। যেকোন প্রয়োজনে অসহায় ও গরীব-দুখী এবং ছিন্নমুল মানুষের পাশে দাঁড়ান তিনি। বাড়িয়ে দেন তার সহায়তার হাত। তারই উজ্জল দৃষ্টান্ত সাভারের সিআরপিতে প্রতিবন্ধীদের মুখে হাসি ফুটানো এই তরুণ নারী।

বর্তমান সময়ের অন্যতম পরিচিত মুখ নাজমী জান্নাত। টিভিপর্দায় উপস্থাপকের ভূমিকায় দেখা গেলেও পর্দার বাইরে উদীয়মান এই তারকা খুবই মিশুক ও পরোপকারী। সামাজিক কর্মকাণ্ডগুলো তার ব্যক্তিত্বে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। অসহায় পথশিশুদের প্রতি গভীর মমতা তাকে মানুষের জন্য কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে।
শৈশব থেকেই বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে অসহায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন নাজমী জান্নাত। কখনো পথশিশুদের খাবার খাইয়ে দেন, আবার কখনো তাদের গায়ে পড়িয়ে দিয়েছেন নতুন পোশাক। হাসি ফুটিয়েছেন অনাথ ও প্রতিবন্ধীদের মুখে।

বর্তমানে তিনি দেশের অন্যতম প্রতিবন্ধীবান্ধব সংগঠন ড্রীম ফর ডিসএ্যাবিলিটি ফাউন্ডেশনে অ্যাডভাইসার হিসেবে কাজ করছেন। এরিমধ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসতে নানা রকম পদক্ষেপও গ্রহণ করছেন নাজমী জান্নাত। তাদের জন্য বিনোদন ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বছর পাঁচেক আগে পথশিশুদের নিয়ে তার কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলো বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে সমাজের সব মহলে। তার পর থেকেই ব্যক্তিগত বা বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে অসহায় মানুষের বিশেষ করে শিশুদের কল্যাণে বিভিন্ন কাজে তিনি অংশগ্রহণ করেন নাজমী জান্নাত।

শৈশবে ভারতের দার্জিলিং এর মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে উচ্ছ্বল স্কুল জীবন পেরোলেও দেশে ফিরেই উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন সময়ের অন্যতম প্রিয়মুখ নাজমী জান্নাত।

উচ্চশিক্ষা শেষ করেছেন যথাক্রমে শান্ত মরিয়ম ইউনিভার্সিটি অফ ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে। পড়াশোনার পাশাপাশি ফ্যাশন ডিজাইনিং, টিভি উপস্থাপনা ও নানাবিধ সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন নাজমী। বেশকিছু সম্মাননা তথা অ্যাওয়ার্ডও রয়েছে তার ঝুলিতে। বর্তমানে তিনি উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে ফ্যাশন ডিজাইনিং ও ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

মিষ্টভাষী গুণী এই নারীকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করা যায় অসহায় পথশিশু ও প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি তার ভালোবাসা দিয়ে। শৈশব থেকে যখনই সুযোগ পেয়েছেন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কখনো সতীর্থদের সাথে, কখনোবা নিভৃতে। তার এই সামাজিক কাজগুলো প্রথম নজরে আসে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার করা একটি পোস্ট থেকে। সেসময় তিনি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হন ও এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা লাভ করেন। তারপর আর থেমে থাকেন নি নাজমী।

সতীর্থদের নিয়ে কিংবা বিভিন্ন সংগঠনের সাথে সংযুক্ত হয়ে পথশিশু ও অসহায় প্রতিবন্ধীদের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। খাবার খাইয়েছেন, শীতবস্ত্র কিংবা ঈদের নতুন জামা পরিয়ে তাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন। অনাথ শিশুদের বিনামূল্যে পাঠদান করছেন। প্রতিবন্ধীদের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়ামূলক আয়োজনে বক্তা হিসেবে নতুন করে বেঁচে থাকার প্রেরণা যুগিয়ে যাচ্ছেন।

ভবিষ্যতে নাজমী আরো বড় পরিসরে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান। এজন্য তিনি সকলের সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করেন। তিনি মনে করেন, সবাই এগিয়ে আসলেই সুবিধাবঞ্চিত সমাজ দেশের মূল স্রোতধারায় মিশে যাবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাবে দেশ। গড়ে উঠবে স্বপ্নের সোনার বাংলা।