Tuesday, February 3, 2026
Homeআন্তর্জাতিকরেভল্যুশনারি গার্ডকে ‘সন্ত্রাসী’ ঘোষণার প্রতিবাদে ইরানের কড়া প্রতিক্রিয়া

রেভল্যুশনারি গার্ডকে ‘সন্ত্রাসী’ ঘোষণার প্রতিবাদে ইরানের কড়া প্রতিক্রিয়া

আলোর যুগ প্রতিনিধিঃ ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (রেভল্যুশনারি গার্ড) ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ইইউর সব রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইরান। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।

ইরান বলেছে, ইইউর এই সিদ্ধান্ত তেহরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, রবিবার থেকে রাষ্ট্রদূতদের ডাকা শুরু হয় এবং তা সোমবার পর্যন্ত চলে। তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পাল্টা পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত সপ্তাহে ২৭ দেশের জোট ইইউ জানায়, জানুয়ারিতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে বিপ্লবী গার্ডের ভূমিকার কারণে বাহিনীটিকে সন্ত্রাসী তালিকায় রাখা হয়েছে। ওই সময় দেশটিতে বিক্ষোভে হাজারো মানুষ নিহত হন এবং বহু মানুষ আটক হন বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা দাবি করেছে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বলেন, ২০১৯ সালের একটি আইনের ভিত্তিতে ইরান এখন ইইউভুক্ত সব দেশের সেনাবাহিনীকে সন্ত্রাসী হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, উত্তেজনার মধ্যেও তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালু রাখা হবে এবং সামরিক সংঘাত এড়াতে সংযম দেখাতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তুরস্ক নতুন করে আলোচনা শুরু করার চেষ্টা করছে। তুরস্কের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকি কমানো। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ ও ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করেছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক শক্তি ব্যবহার করবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বিপ্লবী গার্ড ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর গঠিত হয়। এটি নিয়মিত সেনাবাহিনীর পাশাপাশি কাজ করে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতে প্রভাব রাখে। সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমনে গার্ডের অধীন বাসিজ বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, চলমান দমন-পীড়নে হাজারো মানুষ নিহত ও প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে ইরান সরকার নিহতের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম বলে দাবি করছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments