
আলোর যুগ প্রতিনিধিঃ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ক্ষমতার জন্য নয়, দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করি। তিনি বলেন, আমি জিয়াউর রহমানের সন্তান, খালেদা জিয়ার সন্তান। কিন্তু এ পরিচয়ের চেয়েও বড় পরিচয় হলো, আমি আপনাদেরই সন্তান। আপনাদের পাশে থেকে কাজ করতে চাই। গতকাল বিকালে রাজধানীর মহাখালী কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় কড়াইল বস্তিবাসী আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান কড়াইল বস্তির আবাসন সমস্যা সম্পর্কে বলেন, কাঁচা ঘরে যাঁরা থাকেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সেখানে বড় বড় বিল্ডিং করে ফ্ল্যাট বানিয়ে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা হবে আল্লাহর রহমতে। প্রত্যেকের নামে ফ্ল্যাটগুলো রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হবে। আপনারা থাকার কষ্ট করছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে আমরা আপনাদের সেই কষ্ট ধীরে ধীরে দূর করতে চাই। তিনি আরও বলেন, আমাদের এখানে ছোট ছোট ফ্ল্যাট নির্মাণের পাশাপাশি একটি ক্লিনিক স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। রাজধানীর সবচেয়ে বড় এ বস্তিতে ৪০ হাজারের মতো ঘরে নিম্ন আয়ের মানুষ বসবাস করেন।
বিকাল ৪টায় এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আবদুস সালাম। এতে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আলম, দলের গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমান এমন একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য কড়াইলবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ’২৪-এর আন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। করাইল বস্তিবাসীর সন্তানদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, আমরা চাই আপনাদের সন্তানেরা বিদেশি ভাষায় কথা বলতে শিখুক। উন্নত চিকিৎসাসেবা পাক। এ জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান।
খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বনানীতে দোয়া মাহফিল : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় সব ক্লাবের উদ্যোগে রাজধানীর বনানীতে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। গতকাল সন্ধ্যায় চেয়ারম্যানবাড়ি মাঠসংলগ্ন ১ নম্বর রোডে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনি প্রচারণা কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, সদস্য সচিব ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব এ. কে. এম এহসানুল হক, এম এ জালাল, ডা. মো. ফরিদুল ইসলাম ও বিএনপি নেতা শামিমুর রহমান শামীম।
দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন সোসাইটি। এ ছাড়াও আয়োজনে যুক্ত ছিল গুলশান ক্লাব, বনানী ক্লাব, বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক ক্লাব, গুলশান নর্থ ক্লাব, গুলশান ইয়ুথ ক্লাব, নিকেতন ক্লাব, বারিধারা কসমোপলিটন ক্লাব, অল কমিউনিটিস ক্লাব। স্মৃতিচারণা করে তারেক রহমান জানান, তিনি একসময় ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় থাকতেন। সেই বাড়ি যেভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, তিনি তা ভুলে যাননি। এসব অভিজ্ঞতা থেকেই সাধারণ মানুষের কষ্ট তিনি অনুভব করেন এবং করাইলবাসীর জন্য কাজ করতে চান। করাইলবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ যদি রহম করেন এবং আপনারা দোয়া করেন, তাহলে আমরা এসব কাজ বাস্তবায়ন করতে পারব ইনশা আল্লাহ।
তারেক রহমান আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, আমি জানি না, এ অনুষ্ঠানটা নির্বাচন আচরণবিধিতে পড়বে কি না, কেউ ষড়যন্ত্র করবে কি না। কিন্তু আমি যা করতে চাই, আমি আল্লাহর রহমত নিয়ে সবকিছু করতে চাই। ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে যে ঢাকা-১৭ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়েছেন তারেক রহমান, কড়াইল বস্তিটি ওই নির্বাচনি এলাকার অন্তর্ভুক্ত। রাশিয়াসহ চার দেশের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ : বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিনসহ নর্ডিক অঞ্চলের দেশ সুইডেন, ডেনমার্ক ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূতরা।
সাক্ষাতে বাংলাদেশে আসন্ন সংসদ নির্বাচন, তারেক রহমানের উন্নয়ন ভাবনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ডেমোক্র্যাটিক ট্রানজেকশনের দিকে যাচ্ছে বলেও সাক্ষাতে তারেক রহমানকে বলেছেন রাষ্ট্রদূতরা। গতকাল রাজধানীর গুলশানে চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পৃথক সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির। দুপুর ১২টার দিকে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত। এর আগে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সুইডেন, ডেনমার্ক ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূতরা। সাক্ষাতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক রাশেদুল হক, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী উপস্থিত ছিলেন।
পরে সাংবাদিকদের হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের একটি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। তাঁর নেতৃত্ব ও বাংলাদেশ নিয়ে তাঁর উন্নয়ন ভাবনার প্রতিও আগ্রহ রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে আজ (মঙ্গলবার) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন রাশিয়ার রাষ্টদূত। এসব সাক্ষাৎ ছিল সৌজন্য, সেখানে আমরা কীভাবে তাঁদের সঙ্গে কাজ করতে পারি, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
শিক্ষাসহ বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি যে আমরা বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছি এবং জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে কীভাবে আমরা তাঁদের সঙ্গে কাজ করতে পারি এ বিষয়গুলো নিয়েও আলাপ-আলোচনা হয়েছে।’ হুমায়ুন কবির আরও বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে আগ্রহী রাষ্ট্রদূতরা। তাঁরা আশাবাদী বাংলাদেশ একটা গণতান্ত্রিত পদ্ধতির দিকে যাবে, ডেমোক্র্যাটিক ট্রানজেকশনের দিকে যাবে। যেভাবে বাংলাদেশের মানুষও আগ্রহ নিয়ে আছে যে তারা ১৭ বছর পরে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে। সেভাবে আন্তর্জাতিক মহলেও একটা আগ্রহ আছে।’
