
আলোর যুগ প্রতিনিধিঃ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনের হাজার হাজার বাসিন্দা শনিবার রাস্তায় নেমেছেন। একই দিনে গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। কোপেনহেগেনে বিক্ষোভকারীরা গ্রিনল্যান্ডের পক্ষে নানা স্লোগান দেন। তাদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘গ্রিনল্যান্ড থেকে হাত সরাও’ ও ‘গ্রিনল্যান্ড গ্রীনল্যান্ডিয়াদের জন্য’।
ডেনমার্কে বসবাসরত গ্রিনল্যান্ডীয়দের সংস্থা ‘উগাত’ তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো গ্রিনল্যান্ডের গণতন্ত্র ও মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি স্পষ্ট ও ঐক্যবদ্ধ বার্তা পাঠানো।’ গ্রিনল্যান্ডের রাজনীতিবিদ এরিক জেনসেন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাদের একসঙ্গে থাকা এবং তা বিশ্ববাসীর সামনে দেখানো খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমারা দেখাতে চাই, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়, আমরা কখনোই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চাই না এবং যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা অধিগ্রহণও মেনে নেব না।’
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেনও নুকে বিক্ষোভে যোগ দেন। বিক্ষোভকারীরা ‘আমরাই আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করব’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে মার্কিন কনস্যুলেটের দিকে মিছিল করেন। দুই শহরের এই বিক্ষোভ আয়োজন করেছে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের এনজিও ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। তারা বলেন, ‘আমরা ডেনমার্কের রাজ্য ও গ্রিনল্যান্ডের স্বশাসনের অধিকার রক্ষার দাবি জানাচ্ছি।’
মতামত জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের ৮৫ ভাগ জনগণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের অঞ্চলের যুক্ত করার ঘোর বিরোধী। অন্য ইউরোপীয় দেশগুলোও ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে। তারা বলছে, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ন্যাটোর যৌথ দায়িত্ব হওয়া উচিত। ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্য গ্রিনল্যান্ডে কিছু সেনা পাঠিয়েছে।
এদিকে ইউরোপের আটটি দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার তিনি জানান, গ্রিনল্যান্ড দখলে নেওয়ার বিরোধিতা করায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। নতুন এ শুল্ক কার্যকর হবে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে।
