
আলোর যুগ স্পোর্টসঃ চোটের দীর্ঘ অন্ধকার পেরিয়ে আলোয় ফিরলেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। আর প্রত্যাবর্তনের মঞ্চটা হলো ইউরোপের অন্যতম ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম-সান সিরোতে। চ্যাম্পিয়নস লিগে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে আর্সেনালের ৩-১ ব্যবধানে জয়ের নায়ক তিনি। টানা সাত ম্যাচ জয়ে নতুন ক্লাব রেকর্ড গড়েছে মিকেল আর্তেতার দল।
মঙ্গলবার রাতের ম্যাচের শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় আর্সেনাল। ১০ মিনিটেই গোলের দেখা পায় সফরকারীরা। জুরিয়েন টিম্বারের শট থেকে ছিটকে আসা বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় ফিনিশ করেন জেসুস। তবে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি আর্সেনাল। ১৮ মিনিটে পেতার সুসিচের গোলে সমতায় ফেরে ইন্টার মিলান।
সমতায় ফিরলেও আর্সেনালের আক্রমণের ধার কমেনি। একের পর এক আক্রমণে নড়বড়ে হয়ে পড়ে স্বাগতিকদের রক্ষণ। ৩১ মিনিটে বুকায়ো সাকার কর্নার থেকে লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্ডের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরলে, সুযোগটি কাজে লাগাতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি জেসুস। রিবাউন্ডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে আবারও আর্সেনালকে এগিয়ে দেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে ইন্টার মিলান। তবে মার্কাস থুরামের মতো অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ডও বড় সুযোগ নষ্ট করেন। উল্টো দিকে আর্সেনাল আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। শেষ দিকে বদলি হিসেবে নামা ভিক্টর গয়োকেরেস, গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির পাস থেকে গোল করে নিশ্চিত করেন আর্সেনালের ৩–১ ব্যবধানের জয়। এই জয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকেই চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আর্সেনাল। পাশাপাশি ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় টানা সাত ম্যাচ জয়ের নতুন ক্লাব রেকর্ড গড়েছে মিকেল আর্তেতার দল।
ম্যাচ শেষে আবেগ সামলাতে পারেননি জেসুস। তিনি বলেন, “এটা আমার স্বপ্নের রাত। ছোটবেলায় সিরি আ দেখেই বড় হয়েছি। এই স্টেডিয়ামে গোল করা জীবনের বিশেষ মুহূর্ত। চোটের সময়টা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে।” আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতার কণ্ঠেও ছিল তৃপ্তি, তিনি বলেন “জেসুসের ফিরে আসা আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি। সে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।” চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা এখনও অধরা আর্সেনালের। শেষ ২০০৬ সালে ফাইনালে উঠলেও বার্সেলোনার কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয় দলটির।
