
আলোর যুগ স্পোর্টসঃ চ্যাম্পিয়নস লিগ মানেই অঘটনের মঞ্চ। আর সেই অঘটনের নতুন অধ্যায় লিখল নরওয়েজিয়ান ক্লাব বোদো/গ্লিম্ট। ইউরোপের শক্তিশালী দল ম্যানচেস্টার সিটিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিল কিয়েতিল ক্নুটসেনের শিষ্যরা। নরওয়েতে যেন নিজের ছায়াতেই বন্দী হয়ে পড়লেন আর্লিং হালান্ড, বিপরীতে নায়কের মুকুট পরলেন স্বদেশি কাসপার হগ।
ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই ভয়ডরহীন আক্রমণে নামে বোদো। তাদের গতি আর চাপ সামলাতে হিমশিম খায় সিটির রক্ষণ। ২২ মিনিটে ওলে ডিডরিক ব্লমবার্গের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে স্কোরলাইন খুলে দেন হগ। গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র ১১৯ সেকেন্ড পর আবারও ব্লমবার্গের পাসে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। প্রথমার্ধেই দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে পেপ গার্দিওলার দল।
বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা থাকলেও ৫৮ মিনিটে যেন সিটির ওপর নেমে আসে বজ্রপাত। মাঝমাঠ থেকে একক প্রচেষ্টায় এগিয়ে এসে জেন্স পিটার হাগ দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শটে বল জড়ান সিটির জালে। এক মিনিট পর রায়ান চেরকি একটি গোল শোধ দিলেও, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন পুরোপুরি বোদোর দখলে। ৬০ মিনিটের পর সিটির রাত আরও অন্ধকার হয়ে ওঠে। মাত্র ৫৩ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি হলুদ কার্ড দেখে লাল কার্ডে মাঠ ছাড়েন মিডফিল্ডার রদ্রি। দশজনের দলে পরিণত হওয়ার পর আর কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি ইংলিশ জায়ান্টরা।
পুরো ম্যাচজুড়ে নিষ্প্রভ ছিলেন আর্লিং হালান্ড। মাত্র ১৪ বার বল স্পর্শ করা নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার গোলের তো দেখা পানইনি, বরং তার অনুপস্থিতিই যেন আরও চোখে পড়েছে। বিপরীতে, হগ একের পর এক সুযোগ তৈরি করেন; অফসাইডের ফাঁদে পড়ে তার দুটি গোল বাতিল না হলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। এই ঐতিহাসিক জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্লে-অফে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখল বোদো/গ্লিম্ট। আর শীর্ষ আটে থেকে সরাসরি নকআউটে যাওয়ার পথে বড় ধাক্কা খেল ম্যানচেস্টার সিটি।
