
জাভেদ মোস্তফা 🇧🇩
গত ১৫ মাসে দেশে যে পরিবর্তন হয়েছে এটা অন্তবর্তীকালীন সরকারের সফলতা বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। মঙ্গলবার বিকেলে সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) এ ৪ঋ মডেল’ এর রেপ্লিকা উদ্বোধন ও সেমিনারে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এসময় উপদেষ্টা আরো বলেন,বর্তমান সরকার দেশে নতুন ভাবে সব কাজ করেছে নানা ধরণের মানুষকে সম্পক্তা করে সুযোগ পেয়েছে এবং চিন্তা করেছে এটাও সফলতা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ভাবে যে যে সমস্যা সামনে আসছে আমরা তাৎক্ষনিক ভাবে সমাধানের চেষ্টা করছি এবং ভবিষৎ সরকারের জন্য আমরা অনেক গুলো নীতি পরিবর্তন করে দিচ্ছি সামনে যে সরকারেই আসুক তাদের কাজে লাগবে এবং তারা এটা চালিয়ে নিবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন,দেশে গরুর মাংসের দাম একটু বেশী এজন্য প্রান্তিক খামারীরা ভালো দাম পাচ্ছেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জনাব গাজী মো. ওয়ালি-উল-হক,প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান, বিএলআরআই এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক।
সিংক ফরিদা আখতার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার আরো বলেন, আমেরিকা আমাদের দেশে মাংস রপ্তানি করতে চায়, ব্রাজিল স্বল্পমূল্যে মাংস রপ্তানি করতে চায়; কিন্তু আমি বিদেশে গিয়ে দেখেছি তাদের ডোমেস্টিক মাংসের দাম কম না। তারা আসলে তাদের প্রাণিসম্পদ ইন্ডাস্ট্রির উদ্বৃত্ত মাংস আমাদের দেশে রপ্তানি করতে চায়। বিদেশ থেকে মাংস আমদানির ক্ষেত্রে নানাবিধ ঝুঁকি রয়েছে। একটি ঝুঁকি তো হলো- মাংস আমদানি করা হলে আমাদের খামারিরা বিপদে পড়বে, তাদের গরুর মাংস বিক্রি হবে না। এছাড়া বিদেশি মাংস সাবান-শ্যাম্পুর মতো ইন্ডাস্ট্রির পণ্য হওয়ায়, এগুলো আমদানির ফলে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিও থেকে যায়।
সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘আইওটি বেইজড 4F মডেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের খরা-প্রবণ ও উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই জলবায়ু সহিষ্ণু প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সেমিনার ও ‘4F মডেল’ এর রেপ্লিকা উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি ভাষণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, কোনো সেক্টরই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের বাইরে নয়। সেখানে জলবায়ু পরিবর্তন এবং কার্বন নিঃসরণ রোধকল্পে ‘4F মডেল’ একটি আকর্ষণীয় মডেল। এই মডেল মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সম্ভব হবে। আমার আরও ভালো লেগেছে এটি জেনে যে, এই মডেলটি বিশেষ করে আমাদের দেশের ক্ষুদ্র খামারিদের জন্য অধিক উপযোগী। এতে একদিকে যেমন প্রান্তিক খামারিরা লাভজনক খামার করতে পারবে, তেমনিভাবে জৈবগ্যাস ও জৈবসার তাদের বাড়তি লাভের জোগানও দিতে পারবে।
উক্ত রেপ্লিকা উদ্বোধন এবং সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) গাজী মো. ওয়ালি-উল-হক। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধান অতিথি এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা বিএলআরআই গবেষণা খামারে অবস্থিত প্রকল্প এলাকার কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এসময় প্রকল্প আওতায় স্থাপিত ‘4F মডেল’ এর রেপ্লিকা উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। এ সময় তিনি প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
এরপর অতিথিরা বিএলআরআই এর চতুর্থ তলার কনফারেন্স রু্মে আয়োজিত সেমিনারে অংশ নেন। বিকাল ৩টায় পবিত্র কুরআন হতে তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সেমিনারটি শুরু হয়। এর পর আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক ড. এবিএম মুস্তানুর রহমান।
