Friday, February 6, 2026
Homeজাতীয়গণতন্ত্রে সত্যিকারের উত্তর আসে তখনই, যখন মানুষ বলতে পারে, “হ্যাঁ”, “না”, অথবা...

গণতন্ত্রে সত্যিকারের উত্তর আসে তখনই, যখন মানুষ বলতে পারে, “হ্যাঁ”, “না”, অথবা “আমার আপত্তি আছে”

ফায়াজুন্নেসা চৌধুরী 🇧🇩

হ্যাঁ–না’র ফরমে গণতন্ত্র মাপে না: সংস্কার না কি মতামত নিয়ন্ত্রণ?
৮৪টি প্রশ্নের একটি ফরম।
প্রতিটি প্রশ্নের পাশে দুটি ঘর। হ্যাঁ। না।
প্রথম কয়েকটি সহজ। টিক দেওয়া যায়। কিন্তু ধীরে ধীরে বোঝা যায়, বিষয়গুলো একরকম নয়। কিছু প্রশ্ন প্রশাসনিক, কিছু অর্থনৈতিক, কিছু সামাজিক, আবার কিছু নীতিগত ও নৈতিক। অর্থাৎ সবকিছু এক ধরনের নয়, অথচ উত্তর একটাই পদ্ধতিতে দিতে হবে।
এখানেই অস্বস্তি শুরু।
ধরা যাক, ৮৪টির মধ্যে ৮০টির সঙ্গে আমি একমত। কিন্তু বাকি ৪টি আমার কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। হয়তো সেগুলো সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল, হয়তো ধর্মীয়ভাবে বিতর্কিত, হয়তো সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। আবার এ-ও হতে পারে, সংখ্যায় কম হলেও সেই ৪টিই দীর্ঘমেয়াদে বেশি প্রভাব ফেলবে।
তাহলে আমি কী করব?
সবকিছুতে “হ্যাঁ” বলব?
নাকি আপত্তির কারণে সবকিছুতেই “না”?
এই ফাঁদটাই মূল সমস্যা।
এটি আর মতামত নেওয়া নয়, বরং মতামতকে সরলীকৃত করে ফেলতে বাধ্য করা।
সংস্কার কি একপ্যাকেজে হয়?
কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্কার কখনও একরৈখিক নয়। অর্থনৈতিক সংস্কার, প্রশাসনিক সংস্কার, শিক্ষা সংস্কার, নাগরিক অধিকার, সংখ্যালঘু অধিকার, লিঙ্গ ও যৌন পরিচয় বিষয়ক নীতিমালা, সবই আলাদা মাত্রার প্রশ্ন।
উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, কোনো প্রস্তাবনায় দুর্নীতি দমন, ডিজিটাল স্বচ্ছতা, সেবার জবাবদিহি, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির মতো ইতিবাচক বিষয় আছে। এগুলোতে আপত্তির সুযোগ কম।
কিন্তু একই তালিকার মধ্যে যদি LGBTQ বা অন্যান্য পরিচয়ভিত্তিক অধিকার নিয়ে এমন কিছু নীতি যুক্ত থাকে, যা সমাজে এখনও বিস্তৃত আলোচনা, সংলাপ ও প্রস্তুতি ছাড়া চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে মনে হয়, তাহলে অনেকেই দ্বিধায় পড়বেন।
এটি সমর্থন বা বিরোধিতার সরল প্রশ্ন নয়। এটি মূল্যবোধ, সংস্কৃতি, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও সময়োপযোগিতার প্রশ্ন।
এই ধরনের জটিল বিষয়ে নাগরিকের অবস্থান সাধারণত শর্তযুক্ত হয়। কেউ বলতে পারেন, “মানবাধিকার দরকার, কিন্তু সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে ধীরে এগোনো উচিত।” কেউ বলতে পারেন, “অধিকার হোক, কিন্তু শিক্ষার মাধ্যমে আগে প্রস্তুতি তৈরি হোক।” আবার কেউ সরাসরি দ্বিমতও করতে পারেন।
এই বহুমাত্রিক মতামতকে যদি “হ্যাঁ–না”র মধ্যে আটকে দেওয়া হয়, তাহলে সেটি প্রকৃত মতামত নয়, বরং একটি কৃত্রিম সম্মতি।
প্যাকেজ কৌশল
রাজনীতিতে একটি পরিচিত কৌশল আছে। একে বলা যায় “প্যাকেজিং”। ভালো-মন্দ, জনপ্রিয়-অজনপ্রিয় সব প্রস্তাব একসঙ্গে বেঁধে দেওয়া। ফলে মানুষকে পুরো প্যাকেজ গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য করা হয়।
এতে কী হয়?
যারা ৮০ শতাংশে একমত, তারাও দ্বিধায় পড়ে।
যারা ২০ শতাংশে আপত্তি করেন, তাদের কণ্ঠ হারিয়ে যায়।
ফলে শেষ পর্যন্ত যে ফলাফল আসে, তা সমাজের প্রকৃত অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না।
এই কৌশল নতুন নয়। ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে, বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে জনপ্রিয় সিদ্ধান্তের আড়ালে লুকিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি
ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশ শাসকরা “পরামর্শ” ও “সংস্কার”-এর কথা বলতেন। কিন্তু বাস্তবে সিদ্ধান্ত হতো তাদের সুবিধামতো। জনগণকে অংশগ্রহণের অনুভূতি দেওয়া হতো, কিন্তু বিকল্প খুব সীমিত ছিল।
প্রশ্ন ছিল, উত্তর ছিল, কিন্তু সিদ্ধান্ত আগে থেকেই নির্ধারিত।
স্বৈরশাসনের সময়ও আমরা একই প্রবণতা দেখেছি। গণভোট, সমর্থন জরিপ, উন্নয়ন মতামত সংগ্রহ। বাইরে থেকে গণতান্ত্রিক দেখালেও ভেতরে ছিল নিয়ন্ত্রণ।
আজকের “হ্যাঁ–না” ফরম সরাসরি সেই সময়ের পুনরাবৃত্তি নয়, কিন্তু মানসিকতায় মিল আছে। কাঠামো এমনভাবে তৈরি, যাতে জটিল মতামত প্রকাশের সুযোগ না থাকে।
গণতন্ত্রের মৌলিক সমস্যা কোথায়
গণতন্ত্রের শক্তি সংখ্যায় নয়, বৈচিত্র্যে।
কতজন সমর্থন করল, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কেন করল, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
যদি কেউ বলেন, “আমি অধিকাংশ প্রস্তাব সমর্থন করি, কিন্তু কয়েকটিতে আপত্তি আছে”, এই বক্তব্যই গণতান্ত্রিক। কারণ এখানে চিন্তা আছে, সমালোচনা আছে, দায়িত্ববোধ আছে।
কিন্তু “হ্যাঁ–না”র ফরম এই চিন্তার জায়গা কেটে দেয়।
এতে নাগরিক ধীরে ধীরে বিশ্লেষক নয়, কেবল ভোটদাতা হয়ে ওঠে।
প্রশ্নকারী নয়, টিকদাতা।
এটি গণতন্ত্রের পরিণত রূপ নয়।
সংবেদনশীল ইস্যুতে সতর্কতা দরকার
বিশেষ করে LGBTQ-এর মতো বিষয়গুলোতে আরও সতর্কতা প্রয়োজন। এগুলো কেবল আইনি নয়, গভীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত।
এ ধরনের বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে জনআলোচনা, একাডেমিক গবেষণা, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের সংলাপ, সচেতনতা কার্যক্রম, সবকিছুর প্রয়োজন।
একটি ফরমে “হ্যাঁ–না” দিয়ে এমন বিষয় নির্ধারণ করা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি অবিচার। এতে সমর্থকরাও সন্তুষ্ট হন না, বিরোধীরাও নয়।
বরং বিভাজন আরও বাড়ে।
তাহলে সমাধান কী
যদি সত্যিই জনগণের মতামত জানতে চাওয়া হয়, তাহলে কাঠামো বদলাতে হবে।
বহুস্তরীয় উত্তর
আলাদা আলাদা ইস্যুতে ভোট
মন্তব্যের সুযোগ
খোলা প্রশ্ন
এগুলো থাকলে বোঝা যাবে মানুষ কী ভাবছে। তখন হয়তো দেখা যাবে, ৮০ শতাংশ সমর্থন আছে, ১৫ শতাংশ সংশোধন চায়, ৫ শতাংশ সরাসরি আপত্তি করছে। এই তথ্যই বাস্তবসম্মত।
এতে নীতি নির্ধারণও আরও দায়িত্বশীল হয়।
শেষ কথা
সংস্কার মানে শুধু সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া নয়। সংস্কার মানে সমাজকে সঙ্গে নিয়ে এগোনো।
যদি নাগরিককে কেবল “হ্যাঁ–না”র খোপে বন্দি করা হয়, তাহলে সেটি সংস্কার নয়, বরং মতামত নিয়ন্ত্রণ।
গণতন্ত্রের সৌন্দর্য তার জটিলতায়। মানুষ একসঙ্গে সমর্থন ও সমালোচনা করতে পারে। সেই অধিকার কেড়ে নিলে আমরা ধীরে ধীরে নাগরিক থেকে প্রজায় পরিণত হই।
৮৪টির মধ্যে ৮০টিতে সম্মতি থাকা সত্ত্বেও যদি ৪টির কারণে আমি কথা বলতে না পারি, তাহলে সমস্যাটি আমার নয়, কাঠামোর।
গণতন্ত্রে সত্যিকারের উত্তর আসে তখনই, যখন মানুষ বলতে পারে, “হ্যাঁ”, “না”, অথবা “আমার আপত্তি আছে”।

প্রশ্নের একটি ফরম।
প্রতিটি প্রশ্নের পাশে দুটি ঘর। হ্যাঁ। না।
প্রথম কয়েকটি সহজ। টিক দেওয়া যায়। কিন্তু ধীরে ধীরে বোঝা যায়, বিষয়গুলো একরকম নয়। কিছু প্রশ্ন প্রশাসনিক, কিছু অর্থনৈতিক, কিছু সামাজিক, আবার কিছু নীতিগত ও নৈতিক। অর্থাৎ সবকিছু এক ধরনের নয়, অথচ উত্তর একটাই পদ্ধতিতে দিতে হবে।
এখানেই অস্বস্তি শুরু।
ধরা যাক, ৮৪টির মধ্যে ৮০টির সঙ্গে আমি একমত। কিন্তু বাকি ৪টি আমার কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। হয়তো সেগুলো সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল, হয়তো ধর্মীয়ভাবে বিতর্কিত, হয়তো সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। আবার এ-ও হতে পারে, সংখ্যায় কম হলেও সেই ৪টিই দীর্ঘমেয়াদে বেশি প্রভাব ফেলবে।
তাহলে আমি কী করব?
সবকিছুতে “হ্যাঁ” বলব?
নাকি আপত্তির কারণে সবকিছুতেই “না”?
এই ফাঁদটাই মূল সমস্যা।
এটি আর মতামত নেওয়া নয়, বরং মতামতকে সরলীকৃত করে ফেলতে বাধ্য করা।
সংস্কার কি একপ্যাকেজে হয়?
কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্কার কখনও একরৈখিক নয়। অর্থনৈতিক সংস্কার, প্রশাসনিক সংস্কার, শিক্ষা সংস্কার, নাগরিক অধিকার, সংখ্যালঘু অধিকার, লিঙ্গ ও যৌন পরিচয় বিষয়ক নীতিমালা, সবই আলাদা মাত্রার প্রশ্ন।
উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, কোনো প্রস্তাবনায় দুর্নীতি দমন, ডিজিটাল স্বচ্ছতা, সেবার জবাবদিহি, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির মতো ইতিবাচক বিষয় আছে। এগুলোতে আপত্তির সুযোগ কম।
কিন্তু একই তালিকার মধ্যে যদি LGBTQ বা অন্যান্য পরিচয়ভিত্তিক অধিকার নিয়ে এমন কিছু নীতি যুক্ত থাকে, যা সমাজে এখনও বিস্তৃত আলোচনা, সংলাপ ও প্রস্তুতি ছাড়া চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে মনে হয়, তাহলে অনেকেই দ্বিধায় পড়বেন।
এটি সমর্থন বা বিরোধিতার সরল প্রশ্ন নয়। এটি মূল্যবোধ, সংস্কৃতি, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও সময়োপযোগিতার প্রশ্ন।
এই ধরনের জটিল বিষয়ে নাগরিকের অবস্থান সাধারণত শর্তযুক্ত হয়। কেউ বলতে পারেন, “মানবাধিকার দরকার, কিন্তু সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে ধীরে এগোনো উচিত।” কেউ বলতে পারেন, “অধিকার হোক, কিন্তু শিক্ষার মাধ্যমে আগে প্রস্তুতি তৈরি হোক।” আবার কেউ সরাসরি দ্বিমতও করতে পারেন।
এই বহুমাত্রিক মতামতকে যদি “হ্যাঁ–না”র মধ্যে আটকে দেওয়া হয়, তাহলে সেটি প্রকৃত মতামত নয়, বরং একটি কৃত্রিম সম্মতি।
প্যাকেজ কৌশল
রাজনীতিতে একটি পরিচিত কৌশল আছে। একে বলা যায় “প্যাকেজিং”। ভালো-মন্দ, জনপ্রিয়-অজনপ্রিয় সব প্রস্তাব একসঙ্গে বেঁধে দেওয়া। ফলে মানুষকে পুরো প্যাকেজ গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য করা হয়।
এতে কী হয়?
যারা ৮০ শতাংশে একমত, তারাও দ্বিধায় পড়ে।
যারা ২০ শতাংশে আপত্তি করেন, তাদের কণ্ঠ হারিয়ে যায়।
ফলে শেষ পর্যন্ত যে ফলাফল আসে, তা সমাজের প্রকৃত অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না।
এই কৌশল নতুন নয়। ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে, বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে জনপ্রিয় সিদ্ধান্তের আড়ালে লুকিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি
ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশ শাসকরা “পরামর্শ” ও “সংস্কার”-এর কথা বলতেন। কিন্তু বাস্তবে সিদ্ধান্ত হতো তাদের সুবিধামতো। জনগণকে অংশগ্রহণের অনুভূতি দেওয়া হতো, কিন্তু বিকল্প খুব সীমিত ছিল।
প্রশ্ন ছিল, উত্তর ছিল, কিন্তু সিদ্ধান্ত আগে থেকেই নির্ধারিত।
স্বৈরশাসনের সময়ও আমরা একই প্রবণতা দেখেছি। গণভোট, সমর্থন জরিপ, উন্নয়ন মতামত সংগ্রহ। বাইরে থেকে গণতান্ত্রিক দেখালেও ভেতরে ছিল নিয়ন্ত্রণ।
আজকের “হ্যাঁ–না” ফরম সরাসরি সেই সময়ের পুনরাবৃত্তি নয়, কিন্তু মানসিকতায় মিল আছে। কাঠামো এমনভাবে তৈরি, যাতে জটিল মতামত প্রকাশের সুযোগ না থাকে।
গণতন্ত্রের মৌলিক সমস্যা কোথায়
গণতন্ত্রের শক্তি সংখ্যায় নয়, বৈচিত্র্যে।
কতজন সমর্থন করল, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কেন করল, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
যদি কেউ বলেন, “আমি অধিকাংশ প্রস্তাব সমর্থন করি, কিন্তু কয়েকটিতে আপত্তি আছে”, এই বক্তব্যই গণতান্ত্রিক। কারণ এখানে চিন্তা আছে, সমালোচনা আছে, দায়িত্ববোধ আছে।
কিন্তু “হ্যাঁ–না”র ফরম এই চিন্তার জায়গা কেটে দেয়।
এতে নাগরিক ধীরে ধীরে বিশ্লেষক নয়, কেবল ভোটদাতা হয়ে ওঠে।
প্রশ্নকারী নয়, টিকদাতা।
এটি গণতন্ত্রের পরিণত রূপ নয়।
সংবেদনশীল ইস্যুতে সতর্কতা দরকার
বিশেষ করে LGBTQ-এর মতো বিষয়গুলোতে আরও সতর্কতা প্রয়োজন। এগুলো কেবল আইনি নয়, গভীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত।
এ ধরনের বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে জনআলোচনা, একাডেমিক গবেষণা, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের সংলাপ, সচেতনতা কার্যক্রম, সবকিছুর প্রয়োজন।
একটি ফরমে “হ্যাঁ–না” দিয়ে এমন বিষয় নির্ধারণ করা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি অবিচার। এতে সমর্থকরাও সন্তুষ্ট হন না, বিরোধীরাও নয়।
বরং বিভাজন আরও বাড়ে।
তাহলে সমাধান কী
যদি সত্যিই জনগণের মতামত জানতে চাওয়া হয়, তাহলে কাঠামো বদলাতে হবে।
বহুস্তরীয় উত্তর
আলাদা আলাদা ইস্যুতে ভোট
মন্তব্যের সুযোগ
খোলা প্রশ্ন
এগুলো থাকলে বোঝা যাবে মানুষ কী ভাবছে। তখন হয়তো দেখা যাবে, ৮০ শতাংশ সমর্থন আছে, ১৫ শতাংশ সংশোধন চায়, ৫ শতাংশ সরাসরি আপত্তি করছে। এই তথ্যই বাস্তবসম্মত।
এতে নীতি নির্ধারণও আরও দায়িত্বশীল হয়।
শেষ কথা
সংস্কার মানে শুধু সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া নয়। সংস্কার মানে সমাজকে সঙ্গে নিয়ে এগোনো।
যদি নাগরিককে কেবল “হ্যাঁ–না”র খোপে বন্দি করা হয়, তাহলে সেটি সংস্কার নয়, বরং মতামত নিয়ন্ত্রণ।
গণতন্ত্রের সৌন্দর্য তার জটিলতায়। মানুষ একসঙ্গে সমর্থন ও সমালোচনা করতে পারে। সেই অধিকার কেড়ে নিলে আমরা ধীরে ধীরে নাগরিক থেকে প্রজায় পরিণত হই।
৮৪টির মধ্যে ৮০টিতে সম্মতি থাকা সত্ত্বেও যদি ৪টির কারণে আমি কথা বলতে না পারি, তাহলে সমস্যাটি আমার নয়, কাঠামোর।

লিখক:

শিক্ষক
ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments