
আলোর যুগ স্পোর্টসঃ ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশের ফুটবল। গত বছর ২ জুলাই মিয়ানমারকে তাদেরই মাটিতে হারিয়ে এএফসি এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করে বাংলাদেশের মেয়েরা। ইতিহাস গড়েছিল তখনই। প্রথমবারের মতো এ টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে প্রশংসায় ভেসেছিলেন ঋতুপর্ণা, মণিকা, তহুরা, শামসুন্নাহাররা। এরপর কেটে গেছে বেশ কয়েক মাস। বাংলাদেশের মেয়েরা ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় নিবিড় অনুশীলন করেছেন। চট্টগ্রামে হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্প।
মাঝখানে হলো নারী ফুটবল লিগ। এরপর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গিয়েও অনুশীলনে মত্ত আফঈদা খন্দকাররা। ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে আর মাত্র কয়েক দিন। ৩ মার্চ চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এএফসি এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে যাত্রা করবে কোচ পিটার বাটলারের দল। বাংলাদেশের দেরিতে হলেও আজই এশিয়ার মেয়েরা শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই শুরু করছে। এ গ্রুপে অস্ট্রেলিয়া-ফিলিপাইন ম্যাচ দিয়ে যাত্রা করছে এএফসি নারী এশিয়ান কাপ।
ফুটবলে মেয়েদের এশিয়া সেরার লড়াই প্রথমবার অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৫ সালে। হংকংয়ে অনুষ্ঠিত সেই আসরে ছয়টি দল অংশ নিয়েছিল। ফাইনালে থাইল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় নিউজিল্যান্ড। এরপর দীর্ঘ সময় এশিয়ান ফুটবলে চীনা মেয়েরা দাপট দেখিয়েছে। ১৯৭৭ সালে তারা প্রথবার চ্যাম্পিয়ন হয়। এরপর একে একে আরও আটবার এশিয়াসেরা হয়েছে চীনের মেয়েরা। ২০২২ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত আসরেও চীন ছিল চ্যাম্পিয়ন। ইতিহাস গড়তে গিয়ে প্রথমবার সেই চীনেরই মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
কেবল তাই নয়, টুর্নামেন্টের ইতিহাসে দ্বিতীয় সফল দল উত্তর কোরিয়াও আছে বাংলাদেশের গ্রুপে। ৬ মার্চ কোরিয়ান মেয়েদের মুখোমুখি হবেন আফঈদা খন্দকাররা। উত্তর কোরিয়া মোট ছয়বার ফাইনাল খেলে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এশিয়ান কাপে। এ ছাড়া ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান (৯ মার্চ)। ২০০৩ সালের পর প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপ নিশ্চিত করেছে উজবেক মেয়েরা। তবে এ দলটিকে টার্গেট করেই খেলবে বাংলাদেশ। দেশ ছাড়ার আগে অন্তত একটা ম্যাচ জয় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে গেছেন আফঈদা খন্দকার। কোচের লক্ষ্যও তাই। তবে সতর্কতার সঙ্গেই প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ দল।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রথম কয়েকদিন ছিল ভ্যালেন্টিন স্পোর্টস পার্কে। এরপর এএফসির অফিশিয়াল হোটেল ও অনুশীলন মাঠ পেয়েছে বাংলাদেশ। গতকালও জুবিলি স্টেডিয়ামে দুই ঘণ্টা অনুশীলন করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। পিটার বাটলার গতকাল ফোকাস করেছেন বল ধরে রাখার এবং চাপের মুখে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে পাস দেওয়ার ওপর। প্রতিপক্ষ অনেক শক্তিশালী। এ কারণেই পিটার বাটলার তার নিয়মিত খেলার ধরনে কিছুটা পরিবর্তন আনছেন।
সাধারণত আক্রমণাত্মক ফুটবলেই অভ্যস্ত বাটলারের দল। তবে প্রতিপক্ষ অনেক শক্তিশালী হওয়ায় বল দখলে রেখে কিছুটা ডিফেন্সিভ খেলার কৌশল নিয়েছেন বাটলার। অবশ্য আফঈদাদের আক্রমণাত্মক মনোভাবে খুব বেশি পরিবর্তন আনতে চান না তিনি। গতকাল অনুশীলনের পর সুরভী এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘প্রস্তুতি ম্যাচে আমাদের যে ভুলগুলো ছিল, সেগুলো নিয়েই কাজ হচ্ছে।’ চূড়ান্ত লড়াইয়ের আগে নিজেদের পূর্ণ প্রস্তুত করে নিতে চায় বাংলাদেশের মেয়েরা। চীনের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আরও দুটি সেশন অনুশীলনের সুযোগ পাচ্ছেন আফঈদা খন্দকাররা।
