
আলোর যুগ স্পোর্টসঃ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (আফকন) কোয়ার্টার–ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মিসর। শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে বেনিনকে ৩–১ গোলে হারিয়েছে আফ্রিকার সাতবারের চ্যাম্পিয়নরা। নির্ধারিত সময় শেষে ম্যাচের স্কোর ছিল ১–১। অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে টানা দুটি গোল করে জয় নিশ্চিত করে ফারাওরা।
মরক্কোর মারাকেশে শুরু থেকেই ছিল জমজমাট লড়াই। দুই দলের রক্ষণভাগ ছিল বেশ সংগঠিত। মাঝমাঠে চলে তীব্র দ্বন্দ্ব, ফলে প্রথমার্ধে পরিষ্কার কোনো গোলের সুযোগ তৈরি হয়নি। মিসরের আক্রমণের প্রধান ভরসা মোহাম্মদ সালাহ ম্যাচের বড় অংশজুড়েই ছিলেন অনেকটা নিষ্ক্রিয়। বেনিনের রক্ষণভাগ তাকে ঘিরে ধরে রাখায় আক্রমণ গড়তে ভুগতে হয় ফারাওদের।
গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে কিছুটা গতি আসে। ৬৮তম মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় মিসর। বক্সের বাইরে থেকে মারওয়ান আতিয়ার নেওয়া জোরালো শট সরাসরি জালে ঢুকে পড়ে। গোলপোস্টের ওপরের কোণে যাওয়া সেই শটে গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না। এই গোলের পর মনে হচ্ছিল, এক গোলের লিডই হয়তো মিসরের জন্য যথেষ্ট হবে। কারণ বেনিন আক্রমণে খুব একটা ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিল না। তবে ফুটবলের অনিশ্চয়তা ধরা দেয় ম্যাচের শেষ দিকে। ৮৩তম মিনিটে জুনিয়র অলাইটানের একটি ক্রস ডিফ্লেকশনে দিক পরিবর্তন করে। মিসরের গোলরক্ষক মোহাম্মদ এল শেনাওয়ি বলটি পুরোপুরি ঠেকাতে না পারলে সামনে থাকা জোডেল দোসু সহজ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমতা ফেরান।
এরপর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ক্লান্তি সত্ত্বেও দুই দলই সাবধানী ফুটবল খেলতে থাকে। তবে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকা মিসরই ভাগ্য নিজেদের পক্ষে টেনে নেয়। একটি সেট পিস থেকে ইয়াসের ইব্রাহিম কাছ থেকে নেওয়া স্ট্রেচিং শটে বল জালে পাঠান। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নিজের ছাপ রাখেন অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ। দ্রুতগতিতে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের বাইরের অংশে নেওয়া নান্দনিক কার্লিং শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। এই গোলেই নিশ্চিত হয়ে যায় মিসরের কোয়ার্টার–ফাইনাল টিকিট। এই হারে ২০১৯ সালের মতো এবার আর শেষ আটে উঠতে পারল না বেনিন। কোয়ার্টার–ফাইনালে মিসরের প্রতিপক্ষ হবে আইভরি কোস্ট অথবা বুরকিনা ফাসো।
