সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৪
More
    HomeFeatured NewsFeatured 2গণমাধ্যমে চিকিৎসকদের ভালো কাজ

    গণমাধ্যমে চিকিৎসকদের ভালো কাজ

    বিশেষ প্রতিবিদেক, জাভেদ মোস্তফা: ডেঙ্গু নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগের মধ্যেই ‘ডেঙ্গু রোগ নিয়ন্ত্রণে দেশের চিকিৎসকদের ও নার্সদের নিরলস সহযোগিতা ও সেবার অবদান অনস্বীকার্য। ডেঙগু রোগ অইেশ বছর আগে থেকেই হলেও চলতি বছর এর প্রকোপ মারাত্বক ভাবে দেখা যায়। ফলে আলোচনা সমালোচনায় ডেঙ্গু স্থান দখল করে নিয়ে গনমাধ্যম প্রশাসন ও মানুষের মধ্যে। এই ভয়াযহ আতঙ্ককে নিয়ন্ত্রনে আনতে চিকিৎক ও নার্সদের নিরলস প্রচেষ্টা ছিল মিডিয়াগুলোতে চোখে পড়ার মতো। আক্রান্ত ১০৩ জন চিকিৎসকদের মধ্যে ৭ জন চিকিৎসক প্রান দিয়েছেন এই চিকিসা সেবা দিতে গিয়ে। ৩০৩ জন নার্স ডেঙ্গু তে আক্রান্ত হন সেবা প্রদানের সময়। মারা যান কয়েকজন সেবিকা। যদিও এটা তাদের দায়ীত্বের মধ্যেই পড়ে তবুও ভয় ভীতিকে উর্দ্ধে রেখেই চিকৎসা দেওয়া হচ্ছে আক্রান্ত ৬০ হাজার ডেঙ্গু রোগীকে। ডাক্তারদের জীবন বিসর্জন করে রোগ নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে দেওয়া হয় সম্মাননা। কিন্ত কজন খবর রাখছেন জীবন বাজী রেখে চিকিৎসা প্রদানরত অবস্থায় মারা যাওয়া চিকিৎসক ও নার্সদেও খবর। কেমন চলছে তাদেও সংসার ? কি অবস্থায় আছে তাদের পরিবার…
    বিভিন্ন কাজের স্বীকিৃতির বদলে আমরা তাদের চিকিৎসা অবহেলার নিয়েই সংবাদ প্রকাশ করি বেশী। তাদের ভাল কাজের কিছু স্বীকৃতি ও খন্ডচিত্র গনমাধ্যমে এলে তারাও অনুপ্রাণিত হন ।
    ফেসবুকে একজন নবীন চিকিৎসকের কাজ নিয়ে কিছু বলতে চাইলাম। তিনি লিখেছে ডাক্তারদের অবহলার দিকটাই সংবাদে শিরোনাম হয় কিন্ত আমাদের ভাল কাজের কোন সংবাদ শিরোনাম হয় না কেন? যথাযথ ভাবেই তিনি যুক্তি নিয়েই বলেছেন ।অামি অারো একজন চিকিৎসক এর পোস্ট দেখলাম। প্রতিবেদনের অাকর্ষন এখানেই..

    ডাঃ প্রমা মজুমদার
    সাভারের এক নাম করা চিকিৎসক দম্পতির কন্যা তিনি। চিকিৎসার পাশাপাশি তিনি সামাজিক কর্মকান্ডে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় একজন গিটারিস্ট ও বাঁশি বাদক হিসেবেও নিজেকে তুলে ধরেছেন সবার মাঝে। চিকিৎসার পাশাপাশি স্টাইলিশ এই চিকিৎসক গানের একটি নৈবিদ্য দল প্রতিষ্ঠা করেছেন।

    নবীন এই চিকিৎসকের নাম ডা: প্রমা জেড মজুমদার । মা ডা: শিখা ও বাবা প্রফেসর ডা: শিবেন্দুর এই কন্যা বর্তমানে সাভার নিউ হোপ ক্লিনিকে ইনডোর মেডিক্যাল অফিসারের দায়ীত্ব পালন করছেন। ডাক্তারী সেবার পাশাপাশি তার সামাজিক কর্মকান্ডের একটি চিত্র তার ফেসবুক পোস্ট থেকে হুবহু কপি করে তুলে ধরলাম। যেন আমাদের সংবাদ পত্রের ও গনমাধ্যম কর্মিদের দষ্টি শুধু নেগেটিভ দিকে না গিয়ে ভাল দিকটাও তুলে ধরতে পারি।

    বাবা মা’র সাথে প্রমা
    ডা: প্রমা জেড মজুমদার এর ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করা:-

    ১০/১১ মাস আগের কথা,
    হোস্টেলে আড্ডা দিচ্ছিলাম। বাসা থেকে কল আসলো ১৫ দিন আগে মা’র সাথে যে বাচ্চাটা ডেলিভারী করছি ওকে অলমোস্ট ডেড অবস্থায় আনছে। হোস্টেল থেকে আমার বাসা ৫ মিনিটের পথ।

    ফোনের ওইপাশ থেকে বলল আমি পৌঁঁছানোর আগেই হয়ত মারা যাবে। বাসায় এসে যেন ডেথ সার্টিফিকেট দেই। তাও ফোনে বলে দিলাম যতক্ষণ আছে মাউথ টু মাউথ বা আম্বু ব্যাগ দিতে। এসে দেখি জীবিত থাকার কোন লক্ষণ ই নাই। স্টেথেস্কোপ দিয়ে খুব খেয়াল করলে একটু হার্টবিট পাওয়া যায় কিন্তু শ্বাস-প্রশ্বাস একদম নাই। মাউথ টু মাউথ দিলে navy blue থেকে sky blue color হয়। ঘণ্টাখানেক মাউথ টু মাউথ দেয়ার পর একবার নিশ্বাস নিল। আরও ২০-২৫ মিনিট দেয়ার পর নিজে একটু একটু করে নিশ্বাস নেয়া শুরু করল তাও কয়েক মিনিট পরপর। হিস্ট্রি নিলাম বাচ্চা ৩ দিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগতেছে, তিনদিন খাওয়া বন্ধ করে একটানা কাঁদছে, সন্ধ্যা ৬টা থেকে এরকম মরার মত নিস্তেজ অথচ হাসপাতালে আনছে রাত ৯ টার পর। বাচ্চার বাপ মা কে গালি দিয়ে উড়ায় ফেলা ছাড়া করনীয় আর কিছু পাচ্ছিলাম না।


    তখন কেবল আমার ইন্টার্নী শেষ হইছে, নিওনেট ম্যানেজমেন্টে দক্ষতা নাই+আমাদের এখানে নিওনেট ম্যানেজ করার মত অত সরঞ্জামাদিও নাই। সত্যি বলতে ওইসময় কোন রোগী সম্পূর্ণ নিজে ম্যানেজ করার আত্মবিশ্বাস,যোগ্যতা কোনটাই আমার ছিল না। তাছাড়া যে অবস্থা ছিল তাতে বাচ্চাকে ভেন্টিলেশনে রাখা লাগবে কম হইলেও ১৫দিন কিংবা তারও বেশি। রেফার করে দিলাম ঢাকায়। বাচ্চার বাপের কাছে নাই টাকা। রাত ২টা পর্যন্ত খুঁতখুঁত করল এম্বুলেন্সের ভাড়া দিতে পারবে না, যা হওয়ার এখানেই হবে। ২টার দিকে পরিচিত এম্বুলেন্সের ড্রাইভারকে অনুরোধ করে বিনা পয়সায় নিয়ে যেতে বললাম। ড্রাইভারকে বলে দিলাম সিট পায় কিনা কনফার্ম করে আসতে আর সিট না পাইলে যেন রোগী ফেরত নিয়ে আসে।

    যা ভাবছিলাম তাই, ঢাকায় কোন সরকারী হাসপাতালে সিট খালি নেই। ভোর ৫টায় নীল রঙ্গের রোগী ফেরত আসলো।
    ভাবলাম এমনেও বাঁচবে না, শেষ চেষ্টা তাইলে আমিই করি। ভোরে অন্য মেডিকেলের শিশু ওয়ার্ডের এক্সপার্ট নার্স এনে ক্যানুলা করে ট্রিটমেন্ট শুরু করলাম। সেই নার্সও বলল আপু এই বাচ্চা ভেন্টিলেশন ছাড়া বাঁচবে না।
    ব্রড এক্সপেক্টার্ম এন্টিবায়োটিক শুরু করলাম। incubator/warmer না থাকায় শীতকালে আমার পাখির জন্য ইউজ করার হিটারটা দিয়ে রাখলাম, আর যা যা করা দরকার শিশু বিভাগে চাকরি করে এমন ফ্রেন্ডদের থেকে ফোনে ইন্সট্রাকশন নিয়ে সবই করলাম।

    নিজের হাতে স্বতন্ত্রভাবে রোগী ম্যানেজ করা এই প্রথম, তাও ১৫ দিন বয়সী বাচ্চা। অক্সিজেন চললে বাচ্চা একটু ঠিক থাকে, অক্সিজেন বন্ধ করলেই বলতে গেলে মারা যায়। আবার তাকে কৃত্রিম শ্বাস প্রশ্বাস দিয়ে অক্সিজেন লাগানো হয়। মাঝে মধ্যে অক্সিজেন চলা অবস্থায়ও দম বন্ধ হয়ে খারাপ হয়ে যায়। এমন করে ৪/৫ দিনে ৬টা অক্সিজেন সিলিন্ডার খালি করল, সাথে আমার মানিব্যাগ ও।
    এন্টিবায়োটিক গুলা প্রতি বেলায় আমি নিজের হাতে দিতাম হোক সেটা ভোর ৬টার কিংবা রাত ২টার ডোজ।
    কখনো কখনো রাত ৩টায় যদি একটু ভালো অবস্থায় রেখে আসি, ভোর ৫ টায় আবার ক্লিনিক থেকে কল আসত বাচ্চা মারা যাচ্ছে। আবার গিয়ে মাউথ টু মাউথ দেই। এভাবে প্রথম ১৪ দিন মোট ১৪ ঘণ্টাও ঘুমাইছি কিনা সন্দেহ। ১৪ দিন পর বাচ্চা অক্সিজেন ছাড়া শ্বাস নেয়া শুরু করল কিন্তু শ্বাস কষ্ট রয়ে গেল।তবুও যেন একটু আশার আলো দেখলাম।
    সব মিলে ২১ দিন ছিল বাচ্চাটা ক্লিনিকে।

    আজ বিকালে শুয়ে গান শুনতেছিলাম। নার্স একটা বাচ্চা নিয়ে ঘরে ঢুকল। চিল্লাইতে শুরু করলাম” এই ডায়পার ছাড়া বাচ্চা আমার রুমে আনছেন কেন। মুইতে দিবে তো!” নার্স বলল, আপু এটা আপনার বাচ্চা, যার জন্য একুশ দিন আমাদের নাক কান দিয়ে ধোঁয়া বের করে ফেলছিলেন।
    ওর মুখের দিকে তাকায় মনে হল, I too have Feelings 🙂
    ওহ লিখতে ভুলে গেছি। ওর নাম “জান্নাত” যদিও আমি রাখতে চাইছিলাম “Miracle”।

    admin1
    admin1
    Javed Mostsfa,working with print and electronic media as a news reporter from 1993. He achieved his ambition to become a journalist. Editor: alorjugnews24.com
    RELATED ARTICLES

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    Most Popular

    Recent Comments