সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৪
More
    Homeচট্টগ্রামকোরবানির পশু চামড়ার নিয়ে হতাশা, ভবিষ্যত কি?

    কোরবানির পশু চামড়ার নিয়ে হতাশা, ভবিষ্যত কি?


    আলের যুগ ডেস্ক:
    এবার কোরবানির পশুর চামড়ার বাজার নিয়ে হতাশাজনক পরিস্থিতি বিরাজ করেছে৷ কোরবানির পশুর বাজার শুরুতে ছিল বেশ চড়া৷ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস এবং ঈদুল আজহা কাছাকাছি সময়ে পড়ায় এই অবস্থা সৃষ্টি হয়৷ কারণ, ১৫ আগস্ট শোক দিবসে দুস্থদের খাবার বিতরণে প্রচুর গরু জবাই করা হয়। এক-দুইদিন আগে পশুর বাজার পড়তে থাকে৷ যে গরু এক লাখ টাকার নীচে বিক্রিতে বাজি ছিলেন না ব্যবসায়ীরা, তার দাম কোনোভাবে ৬০ হাজার টাকার বেশি বলছিলেন না ক্রেতারা৷ ফলে অনেকে গরু বিক্রি না করে ফেরত নিয়ে যেতে বাধ্য হন৷ আবার কেউ কেউ খরচের কথা চিন্তা করে কম দামে বা লোকসানে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন৷ এমনকি কোরবানির দিন ভোররাতে অনেক ব্যাপারীকে (পশু ব্যবসায়ী) কাঁদতে দেখা গেছে৷ বিশেষ করে যাঁরা শেষ দুই দিনে কোরবানির পশু নিয়ে বাজারে এসেছেন, তাঁরাই বিপাকে পড়েছেন বেশি৷ গরু ব্যবসায়ীদের ধারনাভারত ও মিয়ানমার থেকেও গরু আসাতে দাম কমে যায় গরুর।
    চামড়া শিল্পের ভবিষ্যত

    সরকারের পক্ষ থেকে আগেই বলা হয়েছিল, দেশে কোরবানির গরু-ছাগলের পর্যাপ্ত মজুদ আছে৷ রবিবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিকে জানায়, এবার ঈদুল আজহায় কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু (সব ধরনের পশু) রয়েছে প্রায় এক কোটি ১৬ লাখ৷ গত বছর এ সংখ্যা ছিল এক কোটি চার লাখ ২২ হাজার৷ বাংলাদেশে কোরবানিতে ২৫-৩০ লাখ গরু কোরবানি হয়৷ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ২০১৬ সালে দেশে পশু কোরবানি হয়েছে এক কোটি তিন লাখ (সব ধরনের পশু)৷ ২০১৭ সালে এ সংখ্যা ছিল এক কোটি পাঁচ লাখ৷ সে অনুযায়ী এবার পাঁচ বা ১০ ভাগ কোরবানি বেশি হলেও এক কোটি ১৬ লাখ পশু যথেষ্ট৷ তবে কথা বলে জানা গেছে, কোনোভাবেই ৪০ লাখের বেশি গরু কোরবানি হয় না্৷
    কথা বলে জানা গেছে, শুরুর দিকে কোরবানির পশুর দাম বেশি থাকায় অনেক ব্যাপারীই পশু ধরে রাখছিলেন আরো বেশি দামের আশায়৷ শেষের দিকে বাজারে সরবরাহ বাড়ায় তাঁদের মাথায় হাত পড়ে৷ গাবতলির ব্যাপারী দুদু মিয়া ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘অনেকে গরু ফেরত নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন৷ কারণ, তাঁরা কেনা দামও পাচ্ছিলেন না, কেননা, একটি গরু ৬-৭ মাস আগে কেনা হয়, বাজারে নিয়ে আসা পর্যন্ত গরুর পিছনে অনেক খরচ আছে৷ আবার কেউ কেউ লোকসান দিয়েও বিক্রি করেছেন৷ কারণ, গরু ফেরত নিয়ে গেলে আবারো খাওয়াতে হবে, পুষতে হবে৷ তাতে লোকসান আরো বেড়ে যায়।


    চামড়ার দাম নিয়ে হতাশা
    এ বছর চামড়ার যে দাম নির্ধারণ করে দেয় সাকার, তা আগের বছরের চেয়ে কম৷ এ বছর ঢাকায় লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৪৫ থেকে ৫০ টাকা; ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা নির্ধারণ করে দেয় সরকার৷ এছাড়া খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৩ থেকে ১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়৷ গত বছর প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৫০ থেকে ৫৫ টাকা; ঢাকার বাইরে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা এবং খাসির চামড়া ২০ থেকে ২২ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৫ থেকে ১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল৷ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার চামড়ার দাম গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম৷ কোনো গরুর চামড়াই সাতশ’ টাকার বেশি দামে নিতে চান না পাইকাররা৷ ফলে ফরিয়াদের মধ্যে যাঁরা একটু বেশি দামে কিনেছেন।

    ঢাকার পোস্তা এবং সাভার কাঁচা চামড়া বিক্রির সবচেয়ে বড় আড়ৎ৷ সেই সব আড়তে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া নিয়ে অপেক্ষা করেও বিক্রি করতে পারছেন না৷ কারণ, ব্যবসায়ীরা অনেক কম দাম বলছেন৷ একদন মৌসুমি ব্যবসায়ী বললেন, আমি এক হাজার পিসের মতো গরুর চামড়া কিনেছি৷ গড়ে দাম পড়েছে সাতশ’ টাকার কিছু বেশি, কিন্তু আড়ৎদাররা কোনো চামড়াই সাতশ’ টাকার বেশি দাম দিতে রাজি হচ্ছেন না৷ যদি এই পরিস্থিতিই চলে, তাহলে আমাকে লোকসান গুনতে হবে৷
    ‘আড়ৎদাররা সাতশ’ টাকার বেশি দাম দিতে রাজি হচ্ছেন না’
    বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিশন (বিএফএলএলএফইএ)-র জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান ও আনোয়ার ট্যানারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলজাহান ভূঁইয়া ডয়চে ভেলেকে বলেন,আমরা সরকারকে চামড়ার দাম এর চেয়েও কম প্রস্তাব করেছিলাম৷ কারণ, বিশ্ব বাজারে চামড়ার দাম কম৷ আমাদের গত বছরের কেনা অনেক চামড়া এখনো বিক্রি করতে পারিনি৷

    চট্টগ্রামে চামড়ার সঠিক দাম না পাওয়ায় সড়কে ফেলে প্রতিবাদ।
    আড়ৎদাররা চামড়া না কেনায় বৃহত্তর চট্টগ্রামে প্রায় ৮ কোটি টাকার চামড়া নষ্ট হয়ে গেছে। দাম না পাওয়ায় এক লাখ ২০ হাজারের বেশি চামড়া সড়কে ফেলে চলে প্রতিবাদ জানান মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। এতে নিঃস্ব হয়ে গেছে শত শত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।এ জন্য পাইকাররা দুষলেন সিন্ডিকেট আর ট্যানারি মালিকদের। রপ্তানির সিদ্ধান্ত এক সপ্তাহ আগে নিলে এ শিল্পের এতো ক্ষতি হতোনা বলেও জানান তারা।বর্জ্য হিসেবে ডাম্পিং স্টেশনে ফেলার জন্য কোটি কোটি টাকার নষ্ট চামড়া ট্রাকে তোলার দৃশ্য জানান দেয় এ শিল্পে নজীরবিহীন ধসের কথা ।

    এতে সবচে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মৌসুমী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। শেষ সম্বল হারিয়ে পথে বসেছে হাজারো ব্যবসায়ী।মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বলছেন, অনেক টাকা লস, পথে বসে গেছি। তিন লাখ টাকার চামড়া কিনে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করছি।দাম না পাওয়ায় পড়ে থেকে পচে গেছে এতিমখানাগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য দেয়া দানের চামড়াও। ভবিষ্যতে এতিমখানাগুলো কিভাবে চলবে তা নিয়ে এখন দুশ্চিন্তা ভর করছে পরিচালকদের।আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মোছাহেব উদ্দীন বলেন, যাদের টার্গেট ছিল চামড়া থেকে টাকা সংগ্রহ করে

    মাদ্রাসা চালাবো তারা কিন্তু প্রচুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।আড়ৎদাররা বলছেন, ১ লাখ ২০ হাজার কাঁচা চামড়া নষ্ট হওয়ায় তাদের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৮কোটি টাকার মতো।আড়ৎদার সমবায় সমিতি সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম বলেন, আমরা যতটুকু সঙ্কুলান করা সম্ভব করেছি, বাকীগুলো পারিনি। না পারার কারণে ওগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।আড়ৎদার সমবায় সমিতি সভাপতি আবদুল কাদের বলেন, সরকার যেভাবে কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিলো, সেটা যদি আগে করতো তাহলে আমরা চামড়া কিনে ফেলতাম। চামড়া নষ্ট হতো না।এদিকে বিভিন্ন স্থানে পড়ে
    থাকা চামড়া সরিয়ে ফেলতে ২৪ ঘন্টা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।
    সচিকের পরিচ্ছন্নতা সুপারভাইজার ফোরকান বলেন, যতক্ষণ শেষ না হয় ২৪ ঘণ্টা কাজ চলতে থাকবে।বৃহত্তর চট্টগ্রামে ৫ লাখ লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও সমিতি ও বাইরের মিলিয়ে ২৭০ জন আড়ৎদার ৭০ শতাংশ চামড়া সংগ্রহ করেছে বলে দাবি তাদের। পচে নষ্ট হয়ে গেছে ৩০ শতাংশ চামড়া।বেশি দামে কিনে এখন লোকসান দিতে হচ্ছে৷”
    তিনি আরো বলেন,আগে বাংলাদেশের চামড়ার বড় ক্রেতা ছিল কোরিয়া৷ এখন চীন৷ চীন চামড়া পাঠায় যুক্তরাষ্ট্রে৷ যুক্তরাষ্ট্র চীন থেকে চামড়া আমদানির ওপর নতুন করে কর বসিয়েছে৷ সেটা কাভার করার জন্য চীন এখন আমাদের কাছ থেকে নেয়া চামড়ার দাম কমিয়ে দিয়েছে৷
    ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বছরে সারাদেশ থেকে কমবেশি ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়৷ এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ গরুর চামড়া, ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ ছাগলের, ২ দশমিক ২৫ শতাংশ মহিষের এবং ১ দশমিক ২ শতাংশ ভেড়ার চামড়া৷ মোট চামড়ার অর্ধেকের বেশি পাওয়া যায় কোরবানির সময়৷

    admin1
    admin1
    Javed Mostsfa,working with print and electronic media as a news reporter from 1993. He achieved his ambition to become a journalist. Editor: alorjugnews24.com
    RELATED ARTICLES

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    Most Popular

    Recent Comments