অসীম নেয়ামতে ভরপুর গরুর মাংসের উপকারিতা

0
77

আলোর যুগ ডেস্ক:-

অসীম নিয়ামতে ভরপুর একটি খাদ্য হল গরুর গোশত। গরুর গোশতের উপকারিতা অপরিসীম। পবিত্র কুরবানী ঈদের আগে কিছু মানুষ অপপ্রচার করে থাকে গরুর গোশত শরীরের জন্য নাকি ক্ষতিকর।
মহান আল্লাহ পাক তিনি যা হালাল করেছেন তার মধ্যে কোনো ক্ষতির বিষয় থাকা কিছুতেই সম্ভব নয়। তাছাড়া মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি গরুর গোশত খেয়েছেন অর্থাৎ গরুর গোশত খাওয়া সুন্নত ।

গরুর গোশতের উপকারীতা নিন্মরুপ:

প্রোটিনের উৎস:

গরুর গোশত থেকে যে প্রোটিন পাওয়া যায় তাতে পেশি গঠনের সব এমাইনো এসিড আছে। সুগঠিত গোশতপেশি শরীরে বিভিন্ন এনজাইম ও হরমোন উৎপাদিত হয়। গরুর গোশত স্পার্মের (শুক্রাণুর) পরিমাণ ও গুন বৃদ্ধি করে বন্ধ্যাত্বতা দূর করে।শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ধরনের এমাইনো এসিড রয়েছে গরুর গোশতে ।

আয়রনের উৎস:

গরুর গোশতে প্রচুর পরিমাণে আয়রণ আছে। সপ্তাহে দুইবার গরুর গোশত খেলে রক্তের মাধ্যমে পুরো শরীরে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় আয়রনের চাহিদা পূরণ হয় এবং এনেমিয়া প্রতিরোধ করে।

জিঙ্কের উপস্থিতি:

গরুর গোশত দেহের জিঙ্কের অভাব পূরণ করে। জিঙ্ক মানুষের পেশিকে সবল করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।

ভিটামিন বি:

গরুর গোশত বিভিন্ন রকম ভিটামিন-বি-এর একটি অন্যতম উৎস। সুস্থ শরীরের জন্য প্রাকৃতিক উৎসের ভিটামিন-বি গ্রহণ করা জরুরী। গরুর গোশতে আছে ভিটামিন-বি-১২, যা নার্ভ সচল রাখে ও ভিটামিন-বি-৬, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়াও গরুর গোশতে নিয়াসিন আছে যা হজমে সহায়তা করে এবং রিবোফ্লাবিন যা চোখ ও ত্বক ভালো রাখে।

প্রচুর পরিমাণ সেলেনিয়ামও পাওয়া যায়:

সেলেনিয়ামে অন্তর্ভুক্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন রয়েছে, যা মানবদেহের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানীরা এ সেলেনিয়ামে অন্তর্ভুক্ত প্রোটিনকে সেলোপ্রোটিন বলে। সেলেনিয়ামে ভিটামিন ‘ই’, ভিটামিন ‘সি’, গ্লুটাথায়োনিন এবং ভিটামিন বি-৩ রয়েছে। এ ছাড়া সেলেনিয়ামে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে যা ফ্রি র‌্যাডিকেলের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীরকে রক্ষা করে ও অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী ক্যান্সার, হৃদরোগ প্রভৃতির ঝুঁকি কমায়। সেলেনিয়াম শুক্রাণু তৈরিতে এবং পুরুষ ও নারীর বন্ধ্যত্ব দূর করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া এইডস প্রতিরোধে এবং নিরাময়ে সেলেনিয়ামের ভূমিকা অপরিসীম।ইহা থাইরয়েড হরমোনের স্বাভাবিক উৎপাদন বজায় রাখে। গরুর গোশতে আছে Conjugated Linoleic Acid (CLA)। এটি ক্যান্সার প্রতিরোধ, ডায়াবেটিস প্রতিরোধ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক বলে গবেষনায় প্রমাণিত হয়েছে। গরুর গোশতে Creatine থাকে যা মস্তিষ্ক ও পেশীতে শক্তি সংরক্ষন করে। কিছু polyunsaturated acids বিশেষ করেeicosapentaenoic acid (EPA), docosahexaenoic acid (DHA) পাওয়া যায় শুধুমাত্র প্রাণীজ উৎস হতেই, যাAnti-atherogenic, anti-thrombotic and anti-inflammatory হিসেবে কাজ করে

ফসফরাস :

যা মজবুত হাড় ও দাঁতের জন্য জরুরি।

বর্ধনশীল বাচ্চাদের জন্য গরুর গোশতে উপকারীতা:

বর্ধনশীল বাচ্চা বা টিনএজার দের সমর্থ ও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে গরুর গোশতের তুলনা নেই। শুধু শারীরিক বর্ধন নয়, বুদ্ধি-বৃত্তিক গঠন এবং রক্ত বর্ধনেও এটি ভূমিকা রাখে।

টরিন:

ইহা এন্টিওক্সিড্যান্ট এমাইনো এসিড। ইহা হার্ট ও গোশত পেশীর কার্য্যক্রমে দরকারি।

কারনোসাইন:

গরুর গোশতে এই উপাদান যা অবসাদ দূর করে এবং এক্সারসাইজের সময় শরীরের গতি বাড়ায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here