গ্রাহকের মৃত্যুদাবি টাকার ভাগ চায় বীমা কর্মকর্তা !

0
126
শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ

ব্রাাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : বীমা হল অর্থের বিনিময়ে জীবন, সম্পদ বা মালামালের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির ন্যায়সঙ্গত ও নির্দিষ্ট ঝুঁকির স্থানান্তর। এর মাধ্যমে ব্যক্তি বা বীমা প্রতিষ্ঠান অর্থের (প্রিমিয়ামের) বিনিময়ে মক্কেলের আংশিক বা সমস্ত সম্ভাব্য ঝুঁকি গ্রহন করে থাকে। এটি অনিশ্চিত ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর জন্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার একটি অংশ। সে ক্ষেত্রে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল সদরের উচালিয়াপাড়া গ্রামের বীমা গ্রাহক আহাদা খাতুন মারা গিয়েও তার স্বজনরা পাচ্ছেন না প্রকৃত বীমা গ্রাহক সেবা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল সদরের উচালিয়াপাড়া গ্রামের বীমা গ্রাহক আহাদা খাতুন মারা গেছেন ১৯ মাস আগে। তিনি বিগত ২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর ডায়মন্ড লাইফ ইনসিওরেন্স কোম্পানিতে এক লক্ষ টাকার একটি বীমা পলিসি নিয়েছিলেন (পলিসি নম্বর ১২৫০০০০০৬৪৪৫)। পলিসি নিয়মিত চালু অবস্থায় তিনি ২০১৭ সালের ২৮ নভেম্বর মারা যান। গ্রাহক আহাদা খাতুনের মৃত্যুর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে পলিসির নমিনী হিসেবে তার ছোট মেয়ে তাকলিমা আক্তার গত ২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর লিখিত ভাবে মৃত্যুদাবির এক লক্ষ টাকা দাবি করেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর। পরবর্তীতে এ দাবি পরিশোধে কোম্পানির সংশ্লিষ্ট বিভাগ গড়িমসি শুরু করেন।

একপর্যায়ে নানা মহলের চাপে ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর কোম্পানির প্রধান কার্যালয় থেকে দুইজন অফিসার বিষয়টি অডিট করতে আসেন মৃত গ্রাহক আহাদা খাতুনের বাড়িতে। একজন মফিজ উদ্দিন অন্যজন মাবুদ। এসময় মফিজ উদ্দিন মৃত গ্রাহকের স্বজনদের জানান, আপনারা ইচ্ছে করলে এই দাবির টাকা বহু আগেই পেতে পারতেন। এখন পাঁচ হাজার টাকা খরচ করলে আমরা দ্রুত রিপোর্ট দাখিল করবো, পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তার সাথে রফাদফা করলে এ দাবির টাকা দ্রুত পেয়ে যাবেন। বীমা অফিসারদের মুখে ঘুষের কথা শুনে ক্ষুব্ধ হন আহাদার পরিবার। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কোম্পানির প্রধান কার্যালয় থেকে আগত দুই অফিসার মৃত্যুদাবির বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিকর রিপোর্ট দাখিল করেন প্রধান কার্যালয়ে।

পরে বিষয়টি জেনে স্থানীয় সাংবাদিকদের শরাপন্ন হন আহাদা খাতুনের পরিবার। এ নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হলে ২০১৮ সালের ৬ ডিসেম্বর এই মৃত্যুদাবির চূড়ান্ত তদন্ত করা হয়। এতে কোম্পানির স্থানীয় অফিসের কর্মকর্তা সহ প্রধান কার্যালয়ের জিএম ও কোম্পানি সচিব মোঃ রফিকুজ্জামান রিপু এবং সিএফও মোঃ মামুন খান সরেজমিন তদন্ত করেন। তদন্ত শেষে তারা সরাইল অফিসে বসে সিদ্ধান্ত দেন আহাদা খাতুনের মৃত্যুদাবির টাকা তার নমিনী পাবেন এবং এতে আর কোনো বাধা নেই।
তবে পরবর্তীতে কোম্পানি সচিব রফিকুজ্জামান রিপু আহাদা খাতুনের স্বজনদের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করে জানান, এই টাকা দিলে মৃত্যুদাবির পুরো টাকাটা ১৫দিনের মধ্যে পরিশোধ সম্ভব। তখন আহাদার পরিবার তাদের অসহায়ত্বের কথা জানালে বীমা কর্মকর্তা রিপু ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন টাকা ছাড়া মৃত্যুদাবি পাস হবে না।

পরে এই মৃত্যুদাবি টাকা পেতে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি শর্ত দেন এক লক্ষ টাকার স্থলে পঞ্চাশ হাজার টাকা নিতে রাজি থাকলে ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

এ বিষয়ে পলিসির নমিনী তাকলিমা আক্তার ও তার পরিবারের লোকজন জানান, বীমা আইন অনুযায়ী ৯০দিনের মধ্যে দাবি পরিশোধের নিয়ম থাকলেও ডায়মন্ড লাইফ তা অনুসরণ করেনি। উল্টো বীমা কর্মকর্তারা এই মৃত্যুদাবি টাকা থেকে ভাগ চায়। টাকাও দিতে পারি না, বীমার দাবিও পাই না। শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় দেখছি না।

কোম্পানির সরাইল অফিসের ডিজিএম (উন্নয়ন) শেফালী বেগম জানান, এই অফিসের প্রথম মৃত্যুদাবি গ্রাহক আনোয়ার হোসেন (পলিসি নম্বর ১২৫০০০০০৪৭৫১) এর ৫০ হাজার টাকার স্থলে মাত্র ৩৫ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয় ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। ১৫ হাজার টাকা মৃত্যুদাবির টাকা কম দেওয়ায় কর্মী-কর্মকর্তাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে চাপে পড়ে কোম্পানির এমডি ১৫ হাজার টাকা নগদে নমিনীকে দিতে বাধ্য হন। সেই থেকেই এই এলাকায় ডায়মন্ড লাইফের অধপতন শুরু হয়।

এ ব্যাপারে জানতে কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পিপলু বিশ্বাস জানান, কিছুদিনের মধ্যে আহাদা খাতুনের মৃত্যুদাবি পরিশোধ করা হবে। কেউ টাকা চেয়েছে, এটা সঠিক নয়। তবে কোম্পানির দিকে চেয়ে দাবির কিছু টাকা কম দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।


শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ