সাংবাদিক দেখলে বিদ্যুৎ কর্মকর্তার গা জ্বলে ! 

0
154
শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ

আরিফুল ইসলাম সুমন, (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাঈন উদ্দিন। অনুমান ১১ মাস আগে সরাইলে যোগদান করেছেন। তাঁর আগমনের পর এখানকার বিদ্যুৎ বিভাগ নানা কারণে বিভিন্ন মহলে বেশ আলোচনায় এসেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কয়েকজন কর্মচারির ভাগ্য বদল হয়েছে রাতারাতি, শুধুমাত্র তাঁর আর্শীবাদের কারণে।

তবে এখানকার গ্রাহকের নানা ভোগান্তি বেড়েছে আগের চেয়ে কয়েকগুণ। সম্প্রতি সরাইলের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণ কাজ হয় ঢাকঢোল পিটিয়ে। সেইসব এলাকায় উল্লেখযোগ্য নতুন সংযোগও দেওয়া হয়। সেই সম্প্রসারণ কাজে খুঁটি বাণিজ্যের মাধ্যমে নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ নেন।

এই অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য প্রমাণ সহকারে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকা সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এতে তিনি হৈচৈ শুরু করেন এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপর চটে যান। কয়েকজন সাংবাদিককে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেন তিনি। পরে বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী লোকজন খুঁটির পরিবর্তে এ বিদ্যুৎ কর্মকর্তাকে মোটা অঙ্কের ঘুষ প্রদানের সাক্ষ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে দেওয়া শুরু করলে তিনি চুপ হয়ে যান।

কিন্তু এর পর থেকে তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলেন। বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকরা তাঁর সাক্ষাতকার নিতে চাইলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেস্টা করেন। তাঁর দফতরে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেলে তিনি তড়িঘড়ি দাফতরিক কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। যদিও তিনি অন্যান্য বেশিরভাগ সময়ে দফতরের এসি চালিয়ে কম্পিউটারে ফেসবুক ও চ্যাটিং এ ব্যস্ত থাকেন।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাত’টায় সরাইল উপজেলা রিপোটার্স ইউনিটি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ এর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ায় কথা ছিল। সেদিন সকাল থেকে সদরের উচালিয়াপাড়া মোড়ে রিপোটার্স ইউনিটির অস্থায়ী কার্যালয়টিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। যদিও আশপাশের ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল ছিল।

সেদিন সকালেই সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিদ্যুৎ কর্মকর্তাকে জানানো হয় এবং সন্ধ্যায় রিপোটার্স ইউনিটির কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারির অনুষ্ঠানের বিষয়টিও অবহিত করা হয়। এতোকিছু’র পরও রিপোটার্স ইউনিটির কার্যালয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা চালু হয় রাত পৌনে নয়’টার দিকে।

পরে নির্ধারিত সময়ের দুই ঘন্টা পর এ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে প্রধান আলোচক ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি ব্যরিস্টার শাহ আলী ফরহাদ। আমন্ত্রিত অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম মোসা, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ফরহাদ রহমান মাক্কি সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

রিপোটার্স ইউনিটির সভাপতি মোঃ নুরুল হুদা অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুতের নির্বাহী প্রকৌশলী সাংবাদিক বিদ্বেষী। তিনি ইচ্ছে করে আমাদের ভবনের বিদ্যুৎ সরবরাহ সকাল থেকে বন্ধ রাখেন। দুপুর থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত বহুবার ফোন করে এখানে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে অনুরোধ জানানো হয় তাঁকে। বেলা শেষে তিনি সন্ধ্যায় লোক পাঠিয়ে রাত নয়টায় বিদ্যুৎ দেন। আর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি এখানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে দুই ঘন্টা অপেক্ষার পর রাতে অনুষ্ঠান স্থলে আসেন।

সরাইল বিদ্যুৎ অফিসের এক কর্মচারি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সেই কাজটি ছিল মাত্র কুড়ি মিনিটের। সেইভবনে দুপুরের আগেই বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু সম্ভব ছিল। কিন্তু কর্মকর্তার নির্দেশ ছিল, সেখানে বিদ্যুৎ চালুর কাজ হবে সন্ধ্যায়। মূলত; তিনি (মাঈন উদ্দিন) “সাংবাদিক সহ্য করতে পারেন না, সাংবাদিক দেখলে তাঁর গা জ্বলে” এমনটাই জানিয়েছেন এ বিদ্যুৎ কর্মচারি।

তবে বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে সরাইল বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন জানান, সেখানকার লাইনের ত্রুটির কাজটি ইচ্ছে করলে দুপুরেই সম্পন্ন করা যেত। তবে এতে পুরো উপজেলার বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করতে হতো। বিভিন্ন দফতরের কাজের ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে ভেবে বিকেলে সেখানে লাইনের ত্রুটির কাজ শুরু করা হয়।

এখানে এই কাজ সম্পন্ন হওয়ার সময়ে আশপাশের কয়েকটি ভবন ছাড়া সরাইল উপজেলায় সকল স্থানেই বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু ছিল। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার প্রয়োজন হয়নি। তাহলে এ কাজটি দুপুরের আগে কেন করানো হয়নি- এ প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলী সদুত্তর দিতে পারেননি।


শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ