হঠাৎ করে বাংলাদেশি টাকার মূল্য পতন, বাণিজ্যে বিরুপ প্রভাব

0
48
শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ

বেনাপোল থেকে ফিরে উজ্জল রায় : হঠাৎ করে ভারতীয় রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান কমে যাওয়ায় আমদানি বাণিজ্যে বিরুপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কমেছে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত।

এদিকে ভারতীয় রুপি মান বাড়াই দূর্বল হয়ে পড়েছে ইউএস ডলারের বাজার মুল্য। কবে নাগাত এ সংকট কাটবে তা স্পষ্ট করে কেউ বলতে পারছেন না। তবে ব্যবসায়ীদের ধারণা ভারতে চলমান জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল না আসা পর্যন্ত এ মন্দা অবস্থা আর কাটছে না। বিষয়টি নিয়ে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরে বাণিজ্যের সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলা হয়।

ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের মানি চেঞ্জার ব্যবসায়ী রায় ট্রেডার্সের চিরঞ্জিত রায় জানান, বর্তমানে বাংলাদেশি ১০০ টাকায় ভারতীয় ৮২.৫০ রুপি ১শ ইউএস ডলারের বিপরীতে ভারতীয় ৬৮.৫০ রুপি চলছে। যা গত মাসের শেষের দিকে (২০ মার্চ) বাংলাদেশি ১শ টাকায় ভারতীয় ৮৫ রুপি ও ১শ ইউএস ডলারে ভারতীয় ৭২ রুপি ছিল। বাংলাদেশি টাকার মান কমে আসায় পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত কমেছে বলেও জানান তিনি। বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহ সভাপতি আমিনুল হক জানান, ভারতীয় রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকা ও ডলারের মান কমে যাওয়ায় আমদানি বাণিজ্যে কিছুটা বিরুপ প্রভাব পড়েছে। এতে লোকশানের আশঙ্কায় তারা আপাতত আমদানি কমিয়েছেন।

বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে রফতানি হয়েছে ৭৪ ট্রাক বিভিন্ন প্রকারের বাংলাদেশি পণ্য। আর ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ১৮৪ ট্রাক পণ্য। বেনাপোল ইমিগ্রেশনের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিয়াজ হোসেন জানান, এর আগে প্রতিদিন এ পথে প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার পর্যন্ত পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করেছে। এখন যাতায়াতের পরিমান কম।

ইমিগ্রেশনের পরিসংখন অনুযায়ী, গত ১৮ এপিল বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে গেছেন, ৩২৫৩ জন বাংলাদেশি,৪৫৪ জন ভারতীয় ও অনান্য দেশের ৪ জন। ভারত থেকে এসেছেন ২৫৬৬ জন বাংলাদেশি, ৩৪৭ জন ভারতীয় ও অনান্য দেশের ৩ যাত্রী।

পাসপোর্টধারী যাত্রী ঢাকার মহাসিন বলেন, তিনি ব্যবসায়ী কাজে মাসে দুই একবার ভারতে যান। কিন্তু বাংলাদেশি টাকার মান কম থাকায় গত মাসে একবারও যাননি।

আমদানি কারক পদ্মা এন্টার প্রাইজের সত্তাধিকারী আতাউর রহমান জানায়, এখন এলসি খুললে লাভ তো দূরের কথা পুঁজি বাজানো কষ্ট হয়ে যাবে। এছাড়া ভারতীয় রফতানিকারকরাও রুপির বাজার স্বাভাবিক হওয়ার পর এলসি খুলতে বলেছেন। তাই আপাতত আমদানি কার্যক্রম কমিয়ে দিয়েছেন। দ্রুত এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে না পারলে জরুরী পণ্য ঘাটতির কারণে দেশে উৎপাদন ব্যাহত আমদানি পণ্যের বাজার মুল্য বাড়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।

জানা যায়, বাংলাদেশি কোন আমদানিকারককে ভারত থেকে পণ্য আমদানির জন্য প্রথমে ভারতীয় রফতানিকারকের নামে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে পণ্যের বাজার মূল্যের সমপরিমাণ ইউএস ডলার দিয়ে এলসি খুলতে হয়। ভারতীয়
রফতানিকারকরা নিজ অর্থে ওই পণ্য কিনে বাংলাদেশে পাঠান। বন্দর থেকে পণ্য খালাস করার পর রফতানিকারকরা ব্যাংক থেকে আমদানিকারকের পাঠানো এলসির টাকা উত্তলন করে থাকেন।

ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স মধুমিতা ষ্টোরের রেজাউল ইসলাম জানান, নির্বাচনের ফলাফল না আসা পর্যন্ত এ অবস্থার পরিবর্তন হওয়ার সম্ভবনা কম। তিনি আরও জানান ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপি পূর্বের
তুলনায় কম থাকায় অনেকে ব্যাংক থেকে এলসির টাকা উঠাচ্ছেন না। এতে তারাও লোকশানে শিকার হচ্ছেন।
জানা যায়, চলতি মাসের ১১ এপ্রিল থেকে ভারতে শুরু হয়েছে জাতীয় নির্বাচন। ১৯ মে শেষ হচ্ছে নির্বাচন। ফলাফল আসতে সময় লাগবে কমপক্ষে আরো ৫ দিন। সাথে অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে চলাফেরার উপর নজরদারী থাকছে প্রশাসনের। তাই অনেকে লেনদেন কমিয়েছেন।


শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ