১০ কোটি টাকার ১৫০ পিস স্বর্ণ উদ্ধার

0
15
শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ


আলোর যুগ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম :-

বিমানে করে নানা কৌশলে আসাছে স্বর্ণসহ বিভিন্ন চোরাচালান। পরিত্যক্ত, বিমানের বাথরুমে, সিটের নিচে, যাত্রীর মাধ্যমে পরিবহণ করা ইত্যাদি কৌশলে এসব চোরাচালান দেশের বাইরে থেকে আনা হচ্ছে।

চোরাকারবারিদের পাশাপাশি বিমানবন্দরের কিছু দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারী এসবের সঙ্গে জড়িতও থাকতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে চোরাচালানগুলো বিভিন্ন সময় আটকও করা হচ্ছে বলে জানান প্রশাসনের দায়িত্বশীলরা।

সর্বশেষ আজ সোমবার চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে বিমানের আভ্যন্তরীণ কুলিং প্যানেলের ভেতর থেকেই প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের ১৫০ পিস স্বর্ণের বার জব্দ করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতেই যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেন কাস্টম, শুল্ক গোয়েন্দা এবং এনএসআই।

আজ সোমবার সকালে আবুধাবি থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট থেকে এসব উদ্ধার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপ-কমিশনার রোকসানা খাতুন। তিনি বলেন, সোমবার সকাল সোয়া ১০টায় আবুধাবি থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি ১২৮-এ একযোগে তল্লাশি চালায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ, এনএসআই এবং শুল্ক গোয়েন্দারা।

এ সময় দুটি সিটের পাশে কুলিং প্যানেলের ভেতরে পাওয়া যায় কালো টেপ মোড়ানো স্বর্ণের বার। প্রায় সাড়ে ১৭ কেজি ওজনের এই স্বর্ণ বারের বাজার দাম ১০ কোটি টাকা। তিনি বলেন, এতো বড় চালানের সঙ্গে কাউকে আটক করা না হলেও চট্টগ্রামে যাত্রী নামিয়ে দেয়ার পর বিমানটি ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। ফলে ধারণা করা হচ্ছে বিমান সংশ্লিষ্টরা এসব স্বর্ণের বার ঢাকায় আনলোড করত। তবে জড়িতদের চিহ্নিত করতে পতেঙ্গা থানায় সাধারণ ডায়েরি করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এতে অনুসন্ধানও অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

বিমানবন্দরে দায়িত্বরত কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের সহকারী পরিচালক নুরুর নাহার লিলি বলেন, পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা বিমানের আসনের পাশের ‘প্যানেলের’ ভেতর লুকানো এসব বারগুলোর মধ্যে ২৬-এ নম্বর সিটের পাশ থেকে ৯০ পিস এবং ১৮-এফ সিটের পাশ থেকে ৬০ পিস পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রাম জুয়েলারি সমিতির এক সদস্য বলেন, বৈধ পথে ঘোষণা দিয়ে আনা হলেও এসব সোনার বারের বেশিরভাগই দেশের বাজারে থাকে না। তাই, অবৈধ উপায়ে সোনা আনাটা চোরাচালানিদের একটি কৌশল হতে পারে। এসব স্বর্ণ এসে ‘ট্রানজিট কান্ট্রি’ হিসেবে পার্শ্ববর্তী দেশে বিভিন্ন পথে চলে যায়। যা মাদকসহ বিভিন্ন পণ্যের বিনিময় মূল্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

জানা গেছে, এর আগে অবৈধভাবে আসা একাধিকবার স্বর্ণের বার আটক করেছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। গত ১ অক্টোবর দুবাই ফেরত এনামুল কবির (৩৫) আটক হন ৮২টি সোনার বারসহ। কক্সবাজারের বাসিন্দা এনামুল ফিরছিলেন বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে। গত ১৫ অক্টোবর দুবাই ফেরত বাংলাদেশ বিমানের আরেকটি ফ্লাইটের তিনটি আসনে নিচে আটটি প্যাকেটে ১৬০টি সোনার বার উদ্ধার করে কাস্টমস কর্মকর্তারা। এসময় কাউকে আটক হয়নি।

তবে সম্প্রতি ধরা পড়া চালানগুলোর বেশির ভাগই দুবাই থেকে আসা বিমানের ভিতর ও বিমানের যাত্রীদের কাছ থেকে পাওয়া। তবে বিমানবন্দর কাস্টমসের হিসেব মতে, ১৫ অক্টোবরই শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা তিনটি বিমানে ঘোষণা দিয়ে যাত্রীরা আনেন ১২০টি সোনার বার। এর আগে ১৩ অক্টোবর ঘোষণা দিয়ে আনা হয়েছিল ৮৮টি সোনার বার।


শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ