স্বামীর প্রতারণার শিকার ৩ সন্তানের জননী, প্রতারকের পক্ষ নিচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা

0
9
শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ


আলোর যুগ প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ: জেলার ফতুল্লা থানাধীন পাগলা নয়ামাটি এলাকার ৩ শিশু সন্তানের জননী স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে এখন মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। এক সন্তানের তালাকপ্রাপ্ত মহিলাকে বিয়ে করার পর থেকে প্রথম স্ত্রীর ওপর চলে অমানবিক নির্যাতন। অহসায় জননী ন্যায় বিচারের প্রত্যাশায় কারো নিকট মুখ খুললেই বাড়ী থেকে বের করাসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে তার বিদেশ ফেরত কোটিপতি স্বামী। সরেজমিন ঘুরে এসব অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, ইসলামী বিধানমতে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানার তেলিয়াপাড়া রনগাঁও এলাকার মোঃ হরমুজ আলীর কন্যা হোসনে আরা (২৭) এর সাথে বরগুনা জেলার আমতলী থানার কুকুয়া গ্রামের মৃত মিয়া গাজীর পুত্র মোঃ নিজাম গাজী(৪০) এর সাথে বিয়ে হয়। দু’জন দুই জেলার হলেও তারা বসতি শুরু করে নারায়ণগঞ্জের কুতুবপুর ইউনিয়ন এর নয়ামাটি এলাকায়। বিয়ের পর সংসার জীবনে তাদের ২ ছেলে ১ কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। মাহতাব গাজী মাহিন যার বয়স ৬বছর ৮ মাস। জমজ দু্’জনের মধ্যে এক ছেলে হুজাইদা বিন্নী নিজাম ও কন্যা হুজাইদা বিন্নী জাম, তাদের বয়স ১১মাস। বিয়ের পূর্বেই দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হলে উভয় পরিবারের সন্মতিক্রমে তাদের বিয়ে হয়। প্রেম জীবনেই নিজাম মালয়েশিয়া চলে যান। সেখান থেকে দেশে এসে বিয়ে করে আবারও মালয়েশিয়া আসা যাওয়ার মধ্যে থাকেন। এরইমাঝে সে বিভিন্ন নারীদের সাথে সরাসরি ও মোবাইলে ভিডিও কলের মাধ্যমে অশ্লীল সম্পর্ক তৈরি করতে থাকেন। যা এক এক করে হোসনে আরার সামনে ধরা পরতে থাকে। একপর্যায়ে ২০২০ সালে স্ত্রী হোসনে আরার অনুমতি ছাড়াই স্বামী নিজাম সিলেটের ১৫ বছরের এক কন্যা সন্তান সহ সাহবাজ নূর এর মেয়ে নুরিয়া বেগমকে(৩৫) বিয়ে করেন।

নিজাম এ বিয়ে করার পর থেকেই প্রথম স্ত্রী হোসনেআরাকে কিভাবে ঘর ছাড়া করবে এমন ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে থাকেন হোসনেআরার সাথে একই বাড়িতে বসবাস করা তার বোন পিয়ারা বেগম(৪৪) ও দ্বিতীয় স্ত্রী সহ এলাকার কতিপয় অসাধু ব্যক্তিদের সাথে গোপনভাবে। গত মাসের ১৭ তারিখে হোসনেআরাকে তার বাবার বাড়ি জোড় পূর্বক পাঠিয়ে দেয় এবং বলে তুমি যাও আমি কদিন পর নিয়ে আসবো।

নিজাম গোপনে ফন্দি পাতে যাতে আর হোসনেআরা তার বাড়িতে আসতে না পারে। এদিকে বেশ কিছুদিন হয়ে গেলে এবং ১১ মাসের দুই শিশু সন্তান অসুস্থ হয়ে পরার খবরেও স্বামী নিতে না আসায় হোসনেআরা তার স্বামীর সংসারে ফিরে আসে ১মার্চ। স্ত্রীর এ ফিরে আসাকে স্বামী ভালোভাবে না নিয়ে উল্টো ফোনে হুমকি দেয় কেনো সে বাড়িতে এসেছে। কাল সকালে বাড়ি থেকে সন্তান সহ বের হয়ে না গেলে পরিনতি ভালো হবেনা বলে জানায়, সাথে এমন কথাও বলে থাকে তাকে তিন মাস আগে তালাক দিয়ে দিয়েছে, তার এখন এ বাসায় থাকার কোনো অধিকার নেই।যদি বের না হয় তাহলে এলাকায় তার পোশা গুন্ডা বাহিনী দিয়ে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দিবে। আইন আদালত পুলিশের কাছে গেলেও কোনো কাজ হবে না। এ কথা শুনে হোসনে আরা নিরুপায় হয়ে এলাকার কজন সহ স্হানীয় মেম্বারকে বিষয়য়টি জানায়।

এরই মধ্যে প্রবাসী নারী শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করা আলোচিত নারী সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে নির্যাতিত গৃহবধূ হোসনেআরা ও তার ৩ শিশু সন্তানের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে আলাউদ্দিন মেম্বারকে বিষয়টি দেখার জন্য অনুরোধ করেন এবং নিজাম শালিস বৈঠকে মেম্বার ও স্থানীয় গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে স্ত্রী ও সন্তানদের অধিকার আদায়ে সমর্থণ না করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়ে আসেন।

অপরদিকে, ৪ গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আলাউদ্দিন মেম্বার বিষয়টি মিমাংসার জন্য এলাকার গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে স্বামী-স্ত্রীকে নিয়ে বসলেও নিজাম সকলের কথাকে অমান্য করে সেখান থেকে চলে যায়। মেম্বার বিষযটি সমাধান করতে না পারায় তা চেয়ারম্যানের কাছে জানালে চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু আগামী রবিবার সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী সহ স্থানীয় গণ্যমান্যদের নিয়ে পূনরায় বসবে বলে জানান।

বর্তমানে ৩ সন্তানের জননী হোসনে আরা স্বামীর প্রতারনার শিকার হয়ে ন্যায় বিচারের আশায় চেয়ারম্যান, ইউএনও নাহিদা বারিক, লিপি ওসমান এবং সকল সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের সহযোগিতা কামনা করছেন তিনি বলেন আমি তিন শিশু সন্তানের দিকে তাকিয়ে সংসার করতে চাই।তারা গরীব পরিবারের বলেই তার পক্ষে কেটিপতি স্বামীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অক্ষম।তাকে তার সাজানো সংসার থেকে বের করে দিলে তিন সন্তান নিয়ে তাকে পথে বসতে হব।এ ছাড়াও তার সারা শরীরে স্বামীর বর্বরতার চিহ্ন রয়েছে। হোসনে আরা আরো বলেন,সে এমন কোন অন্যায় করেনি যে তাকে তালাক দিতে হবে।তার ২য় তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর প্ররোচনায়ই তাকে তালাক দিয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।ইতি মধ্যেই পুলিশের নারী নির্যাতন(১০৯) সেল থেকে তাকে তার বাড়ীতে ই থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ