স্ত্রীর পরিকল্পনায় আজহারুলকে হত্যার পরিকল্পনা

0
9
শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ

আলোর যুগ রিপোর্ট: রোজার আগে থেকেই আজহারুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তার স্ত্রী আসমা আক্তার ও মসজিদের ইমাম। আজ বুধবার (২৬ মে) দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা র‍্যাব সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। দক্ষিণখানের আলোচিত আজহারুল হত্যাকাণ্ড ইস্যুতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পারি, মসজিদের ইমাম ও ভিকটিমের স্ত্রীর মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক চলছিল। এরই জেরে আজহারুলকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমান বাসায় গিয়ে আজহারুল ও তার ছেলেকে আরবি পড়াতেন। বাসায় যাওয়া আসার একপর্যায়ে আজহারুলের স্ত্রী আসমা আক্তারের সঙ্গে ইমামের সম্পর্ক তৈরি হয়। তাদের এ অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি মার্চ মাসের দিকে টের পান আজহারুল। এ কারণে ইমামকে বাসায় আসতে বারণ করেন তিনি।

খন্দকার আল মঈন বলেন, এরপর আসমা আক্তারের সঙ্গে ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমানের সম্পর্ক আরও গভীর হয়ে যায়। মার্চের শেষ দিকে স্ত্রী ও মসজিদের ইমাম দুজনে মিলে আজহারুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। প্রথমে তারা সিদ্ধান্ত নেন, ভাড়াটে খুনির মাধ্যমে বা অন্য কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে আজহারুলকে হত্যা করবেন। পরবর্তীতে আসমা আক্তার মসজিদের ইমামকে পরামর্শ দেন, আজহারুলকে হত্যার ঘটনাটি তার রুমে যাতে করা হয়।

তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমান ও ভুক্তভোগীর স্ত্রী আসমা আক্তার জানান, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও তাদের মধ্যে আলাপ আলোচনার জন্য মসজিদের ইমাম তার এক ছাত্রের নামে একটি সিমকার্ড ও একটি মোবাইল ফোন আসমা আক্তারকে কিনে দেন। সেটি আসমা আক্তারকে দেওয়া হয় গোপনীয়তা রক্ষার জন্য। এর মাধ্যমে তারা নিয়মিত পরামর্শ করতেন কীভাবে আজহারুলকে হত্যা করা যায়।

খন্দকার আল মঈন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরও জানান, এ বছর রমজান মাসের ৭ দিন আগে আজহারুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এ সময় আজহারুল কলেরা রোগে আক্রান্ত হওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। এতে তাদের হত্যার পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। ওই সময় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন আজহারুল। এরপর আজহারুল সুস্থ হলে ঈদের আগের দিন তারা টাঙ্গাইলের কালিহাতি গ্রামের বাড়ি চলে যান। সেখানেও নিয়মিত আসমা আক্তারের সঙ্গে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমানের যোগাযোগ চলছিল। পরবর্তীতে আসমা আক্তার ইমামের সঙ্গে মোবাইলে পরামর্শ করে ১৮ মে আজহারুলকে ঢাকায় পাঠান। ১৯ মে ইমাম আজহারুলকে ফোন করে মসজিদে আসার জন্য বলেন। আজহারুল কাজ শেষে গার্মেন্টস থেকে সরাসরি ইমামের সঙ্গে দেখা করতে দক্ষিণখানের সরদারবাড়ি মসজিদে যান।

তিনি বলেন, এশার নামাজের পরে মসজিদের ইমাম আজহারুলকে অনুরোধ করে বলেন ‘তুমি আমার কক্ষে বিশ্রাম নাও নামাজ শেষ করে আমি আসছি।’ তখন আজহারুল ইমামের কক্ষে গিয়ে বিশ্রাম নেন। পরে ইমাম আসলে দুজনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ইমাম আব্দুর রহমান কোরবানির পশু জবাইয়ের ছুরি দিয়ে আজহারুলকে আঘাত করতে গেলে ভুক্তভোগী টের পেয়ে যান। এতে তাদের দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে আজহারুল ইমামের কক্ষ থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সিঁড়িতে পড়ে যান। তখন ইমাম আজহারুলের গলার ডান দিকে ওই ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। পরবর্তীতে ইমাম আজহারুলের গলায় আরও কয়েকটি আঘাত করেন। এরপর ইমাম আজহারের মরদেহ টেনে তার কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে ছুরি ও চাপাতি দিয়ে মরদেহটিকে ৭ টুকরো করেন। এরপর খণ্ডিত মরদেহ ব্যাগে ভরে মসজিদের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন। ট্যাংকের মুখ সিমেন্টের বস্তা দিয়ে ঢেকে রাখেন। ঘটনার পর থেকে ইমাম মসজিদের ওই কক্ষে অবস্থান করেননি। পাশের ঢাকা মাদরাসায় গিয়ে অবস্থান নেন তিনি।


শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ