ধামরাইয়ে যুবককে পেটালো ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার

0
72
শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ

আলোর যুগ প্রতিনিধি,ধামরাই: ঢাকার ধামরাইয়ে লকডাউন উপেক্ষা করে এবং স্বাস্থ্যবিধি না মেনে সালিশি বৈঠকের করেছে ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বার ও কতিপয় মাতাব্বররা। প্রহসনের সালিশি বৈঠকের রায় না মানায় এক যুবককে হাত-পা বেঁধে পিটিয়েছে এক ইউপি চেয়ারম্যান ও এক ইউপি মেম্বার।

রোববার বিকাল ৫টায় এ সালিশি বৈঠকে যুবককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে উপজেলার সানোড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,বছর দুয়েক আগে গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের বড় নালাই গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আবুল হোসেনের ছেলে মোঃ বাবু মিয়া(২৫) সানোড়া ইউনিয়নের শুলধন গ্রামের মোঃ সোনার উদ্দিনের মেয়ে পারভীন আক্তারকে(৩৫)ইসলামের শরানুযায়ী ও কাবিরন রেজিষ্ট্রিমূলে বিয়ে করে। তাদের মোঃ আব্দুল্লাহ নামে দেড় বছরের একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে। সম্প্রতি তাদের দম্পত্যজীবনে কলহ হলে এনিয়ে ওই গৃহবধূ আদালতে বাবু মিয়ার নামে যৌতুক এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করে।
এঘটনায় সানোড়া ইউপি মেম্বার মোঃ মহিদুর রহমান ও গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল কাদের মোল্লা একের অপরের সঙ্গে যোগসাজস করে রোববার বিকাল ৫টায় সানোড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এক প্রহসনের সালিশি বৈঠকের আয়োজন করে। এতে বাবু মিয়াকে উপস্থিত হতে বাধ্য করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মহিদুর মেম্বার। তবে এ ইউয়নের চেয়ারম্যান মোঃ খালেদ মাসুদ খান লাল্টু উপস্থিত ছিলেন না। বাবু মিয়া ওই সালিশি বৈঠকে উপস্থিত তাকে ৩ লাখ ৪০হাজার টাকা জরিমানার রায়(সিদ্ধান্ত) করা হয়।
বাবু মিয়া সালিশি বৈঠকের এ রায় মানতে রাজি না হওয়ায় সানোড়া ইউপি মেম্বার মোঃ মহিদুর রহমান ও গাঙ্গুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল কাদের মোল্রা ক্ষিপ্ত হয়ে ভরমজলিশে তাকে গলা ধাক্কা দিয়ে সালিশি বৈঠকের মাঝখানে ফেলে দেয়। এরপর তার হাত-পা বেঁধে তাকে ওই জনপ্রতিনিধি বেধরক ভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে ওই বাবু মিয়ার লোকজন তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। বিয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে বলে জানা গেছে।
বাবু মিয়া জানান, বিয়ের পর আমার স্ত্রীর ঘরে দেড় বছরের একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তান হয়েছে। তার নাম আব্দুল্লাহ। আমার চেয়ে আমার স্ত্রীর বয়স বেশী হওয়ায় সে আমার ঘর করবেনা বলে তার পিতার বাড়ীতে এসে অবস্থান করে। আমি নিতে আসলে সে আমার সঙ্গে যেতে রাজি হয়নি। উল্টো আদালতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। আমি আমার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঘর সংসার করতে চাই। এরপরও গাঙ্গুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল কাদের মোল্লা ও সানোড়া ইউপি মেম্বার মহিদুর জোর করে আমাকে তালক দিতে কয় এবং ৩লাখ ৪০হাজার টাকা জরিমানা করে। আমি কোনটাতেই রাজি না হওয়ায় আমাকে এরা সালিশের মধ্যেই মারধর করে। আমি এর বিচার চাই।
ইউপি মেম্বার মহিদুর সালিশি বৈঠকের কথা স্বীকার করে জানান,কোনদিনই এদের ঘর সংসার হবেনা। তাই বিষয়টি নিষ্পত্তি জন্য পরিষদে বসেছিলাম। বাবু মিয়া সালিশি বৈঠকের রায় না মানায় পরিবেশ একটু উত্তপ্ত হয়েছিল।
গাঙ্গুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল কাদের মোল্লা জানান, বাবু মিয়া আমার ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাই মহিদুর মেম্বারের প্রস্তাবে রাজি হয়ে বিষয়টি মিমাংসার জন্য বসেছিলাম। সালিশের রায় না মেনে বাবু মিয়া আমাদের সবাইকে বেজ্জিতি করেছে। ওর ্আরও কঠিন বিচার হওয়া উচিৎ ছিল।
সনোড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ খালেদ মাসুদ খান লাল্টু বলেন,আমার পরিষদে সালিশ হওয়ার বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। এব্যাপারে কেউ আমাকে কোন কিছুই জানায়নি। এব্যাপারে মহিদুর মেম্বার সাহেবই ভাল বলতে পারেবেন।


শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ