সূরের মূর্ছনায় সবার মাঝে আবেগ ধরিয়ে দিন কন্ঠশিল্পী সালাহউদ্দীন বাদল।

0
79


জাভেদ মোস্তফা:
আমার প্রিয় মানুষদের তালিকায় অত্যন্ত প্রিয় শুভাকাঙ্ক্ষী ধৈর্যশীল পরমতসহিষ্ণুতা আর কাজের প্রতি আন্তরিকতা সকলকে মুগ্ধ করেন, তিনি একজন আমার প্রিয় মানুষ।একটি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য কেএফসি লাগে না । রাস্তার পাশের টং দোকানেই একসাথে বসে চা খাওয়া যায়,দামী চকচকে কাগজে মোড়ানো গিফট ও লাগে না । একগুচ্ছ গোলাপেই ভালোবাসা বিনিময় করা যায়। খোলা আকাশের নিচে কোনো এক লেকের ধারে বসেও খানিকক্ষন সময় কাটানো যায়, সেখানে ভালোবাসায় কোনো চাহিদা থাকে না , সত্যিকার অর্থে ভালোবাসলে নিঃস্বার্থভাবেও ভালোবাসা পাওয়া যায় ।
তিনি আমার অনলাইন পোর্টালের আজকের অতিথি প্রিয় একজন সালাহউ‌দ্দিন বাদ‌ল ভাই । আগামী ৫ আগস্ট তার শুভ জন্মদিন। বর্তমনে বেসরকারী টে‌লি‌ভিশন চ্যা‌নেল বাংলা টি‌ভির সি‌নিয়র জ‌য়েন্ট নিউজ এডিটর এবং ন্যাশনাল ও ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক ইনচার্জ হি‌সে‌বে কর্মরত র‌য়ে‌ছেন। একই টিভিতে কাজ করার সুবাদে আমি তাকে গভীর ভাবে উপলব্দ্ধি করেছি।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি কন্ঠশিল্পী বাদল বলে পরিচিত তিনি। সঙ্গীত যার রক্তের সাথে মিশে আছে। সঙ্গীত ছাড়া যিনি বেঁচে থাকার কথা এক মূহুর্তও ভাবতে পারেন না। যার সূরের মূর্ছনা সবার মাঝে আবেগ ধরিয়ে দিতো।তিনি জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী সালাহউদ্দীন বাদল। বিরহের গান গেয়ে যিনি বন্ধুদের কাছে পরিচিত ‘বাদল বিরোহী’ বলে।
খুব ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি ছিল তার প্রবল আগ্রহ। শৈশব কেটেছে যমুনা নদীর তীরবর্তী জেলা টাঙ্গাইলে। বাবা প্রয়াত আলাউদ্দিন আহমেদ ছিলেন সরকারী কর্মকর্তা, মা সুফিয়া আহমেদ সুগৃহিনী এবং সঙ্গীতানুরাগী। বাবার চাকুরিতে বদলীর সুবাদে দেশের বিভিন্ন জেলায় কেটেছে বাদলের শৈশব। বাবার কন্ঠে গান শুনে শুনেই সুরের প্রতি ভাব জমে যায় বাদল বিরোহীর। সঙ্গীতের প্রতি একাগ্র ভালোবাসা তাকে আজ নিয়ে এসেছে এক অনন্য উচ্চতায়।
দেশের নামকরা গুণী যে ক’জন শিল্পী শ্রোতাদের মনিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন তাদের অধিকাংশিরই জন্ম টাঙ্গাইলে। আর সেই জেলাতেই বেড়ে ওঠা । সঙ্গীতে হাতেখড়ি প্রয়াত ওস্তাদ কবিরুদ্দীন, ওস্তাদ ফরহাদ হোসেন এবং ওস্তাদ ইব্রাহীম হোসেনের কাছে।

দীর্ঘদিন সঙ্গীতকে বুকে লালন করে বেঁচে থাকা এ মানুষটি কোন এক অজানা অভিমানে ২০০২ এর পর দীর্ঘ সময় সঙ্গীত থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখেন। একটা সময় তার খুব কাছের একজন তাকে আবারোও সঙ্গীতে ফিরিয়ে আনতে নতুন উদ্যমে প্রেরণা যোগান। শিল্পী বাদল মনে করেন তার জীবনের সবচেয়ে গুণগ্রাহী ছিলেন এই মানুষটি।
এছাড়া গীতিকার-সুরকার এবং সঙ্গীত শিল্পী প্রয়াত আয়শা আক্তার বিউটিও তাকে অনেক বেশি উৎসাহ দিয়েছিলেন সঙ্গীতকে বাঁচিয়ে রাখতে।
অবশেষে দীর্ঘ বিরতির পর এ মানুষটি ফিরলেন তার সুরের জাদু নিয়ে। এসেই বেশ কয়েকটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে গান গেয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করলেন।তাকে নিয়ে জাতীয় জাদুঘরে আয়োজিত হলো একক সঙ্গীত সন্ধ্যা । সেখানেও তিনি হারানো দিনের গান গেয়ে তার ভক্তদের হৃদয়ের মনিকোঠায় আরো বেশি জায়গা করে নিলেন। মনোমুগ্ধকর এ আয়োজনে ছিল “কালারস অব বাংলাদেশ” আর যৌথ সহযোগীতায় ছিল ওয়ালটন ও বুরো বাংলাদেশ।
জাদুঘরের ওই সঙ্গীতায়োজনে মুগ্ধ হয়েছেন অনেকেই। সালাহউদ্দিন বাদল সম্পর্কে সেই অনুষ্ঠানে সুরকার মিল্টন খন্দকার বলেছিলেন, ‘আমরা যদি বাদলকে সঠিকভাবে গাইড করতে পারতাম তাহলে সে দেশের শীর্ষ পাঁচ সঙ্গীত শিল্পীদের একজন হতো । আর কিংবদন্তী নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, ভালো শিল্পী হতে চাইলে বিনয়ী এবং ভালো মানুষ হতে হবে, আর বাদলের সে গুনটা রয়েছে। সম্প্রতি ‘এসএ টিভিতে’ শিল্পী বাদলের সাথে দেড় ঘন্টার আড্ডা ও গানের একটি অনুষ্ঠান ‘সকালের ডায়েরী’ গানের পালে লাগলো হাওয়া- প্রচারিত হলো। সেখানেও তিনি শ্রোতাদের উপহার দিলেন জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি গান।

স্বপরিবারে শিল্পী।

আড্ডাবাজ এই মানুষটির বেশিরভাগ অবসর সময় কাটে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে, বই পড়ে আর গান শুনে। তার প্রিয় শিল্পীর তালিকায় রয়েছেন ফাতেমা তুজ জোহরা, প্রয়াত নিলুফার ইয়াসমিন, সুবির নন্দি ও নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরী। আর ওপাড় বাংলার মান্না দে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও পন্ডিত অজয় চক্রবর্তীর গান তার খুবই প্রিয়। কখনো একাকী সময় কাঁটাতে ভালো লাগে তার।
সংসার জীবনে স্ত্রী মিনু আহমেদ এবং একমাত্র মেয়ে অবন্তিকে নিয়ে সুখেই কাটছে তার সংসার জীবন। এই দু’জন মানুষ ছাড়াও তার সঙ্গীত জীবনের অন্যতম প্রেরণা বন্ধু সহকর্মীরা। স্ত্রী মিনু আহমেদ শাহীন ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষিকা, আর মেয়ে অবন্তী এবার গো‌ল্ডেন এ প্লাস পে‌য়ে এইচ এস‌সি পাশ ক‌রে‌ছেন।
সঙ্গীতকে তিনি কখনই পেশা হিসেবে বেছে নেননি। সঙ্গীত তার জীবনে কেবলই ভালোলাগা আর ভালোবাসার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন এ শিল্পী।
পেশাগত জীবনে তিনি সাংবাদিকতা শুরু করেন টাঙ্গাইলের জনপ্রিয় দৈনিক লোককথা ও দেশ কথায় কাজ করার মধ্য দিয়ে। এরপর যোগ দেন দৈনিক ইনকিলাব এবং তারপর লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত বেসরকারী টিভি “চ্যানেল এস এ”-তে। এরপর ইসলামিক টিভির শুরু থেকে একটানা সাতবছর সিনিয়র সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন তিনি। সুরপাগল এ মানুষটির আরেকটি নেশা হচ্ছে সাংবাদিকতা। মানুষের জন্য কিছু করতে পারলেই নিজেকে স্বার্থক মনে করেন তিনি। শিল্পীর প্রিয় খাবার তালিকায় আছে খিঁচুরী গরুর গোস্ত, ভাত-ছোটমাছ আর লৈট্যা শুটকির কথা শুনলেই নাকি তার জিভে পানি এসে যায়।
মিউজিকের তালে এই মানুষটির প্রতিটি স্টেপে মুগ্ধ হয়েছেন দর্শক।
আপনি প্রমাণ করে দিয়েছেন প্রতিভা থাকলে কোনো স্টেজ বা আলোর ঝলকানির প্রয়োজন হয়না। প্রতিভা থাকলে মানুষ তা এমনি পছন্দ করে। আর তাইতো আজ এখনো পর্যন্ত আপনার গানের ভিডিও পৌঁছে গেছে লাখো মানুষের কাছে। প্রচুর মানুষ আপনার গানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছে।
এগিয়ে যান দোয়া করি।আমি আপনার সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু কামনা করছি। মহান আল্লাহ আরো বেশি বেশি নেক কাজ করার তৌফিক দান করুন। আপনার পরিশ্রম যেন সফল হউক। সাথে অগ্রিম জন্মদিনের শুভকামনা।