সরকারি জলাশয় ইজারা নিয়ে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ

0
73
শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ


শামীম খান(আলোর যুগ প্রতিনিধি)ধামরাই
ঢাকার ধামরাইয়ে রাজস্ব ফাঁকি দিতে সরকারি জলাশয় ইজারা নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। সর্বোচ্চ দরদাতাকে ইজারা না দিয়ে পূণঃ দরপত্র আহবান করা হয়েছে। কুন্দিবিলে সর্বশেষ বছরে ইজারা ছিল ১লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং তার আগের দুই বছর আরও কম মূল্য ছিল। বর্তমানে উপজেলা প্রশাসন এ বিলে গড়মূল্য নির্ধারণ করেছে ৪ লাখ টাকা অর্থ্যাৎ আড়াই গুণ বেশী। এরপরও সর্বোচ্চ দরদাতাকে জলাশয় ইজারা না দেয়ায় ক্ষুব্দ তারা। গড় মূল্য বেশী ধরার অজুহাতে এ দরপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ নিয়ে সর্বমহলে আলোচনার ঝড় বইছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,ধামরাই পৌরশহরের কুন্দি বিল,ছাত্রাই বিল ও গোয়ারিপাড়া জলাময় ইজারা দেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সামিউল হক বৃহস্পতিবার খোলা দরপত্র আহবান করেন। সকাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ইজারাদারদের দরপত্র জমা ও দুপুর আড়াইটায় দরপত্রের বাক্স খোলার সময় নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে নানা অজুহাতে তা খেলা হয় বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে।
কুন্দি বিল সাড়ে ১০লাখ টাকা,ছাত্রাই বিল সাড়ে ৭ লাখ টাকা ও গোয়ারিপাড়া জলাশয় ৪লাখ ৮০হাজার টাকা দরপত্র দাখিল করে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসাবে নির্বাচিত হন ধামরাই মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি। কুন্দি বিলে সাড়ে ৫ লাখ টাকা দরপত্র দাখিল করে কায়েত পাড়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি ও ছাত্রাই বিলে ঘড়িদার পাড়া ফারুক হাসান ছায়ানীড় মাল্টিপারপাস সমবায় সমিতি দ্বিতীয় দরদাতা নির্বাচিত হন। গোয়ারিপাড়া জলাশয়ে ধামরাই মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি ছাড়া অন্য কেউ দরপত্র দাখিল করেনি। ওই দিন রাত্রি হয়ে যাওয়ায় উপজেলা প্রশাসন কোন সিদ্ধান্ত না দেয়ায় দরদাতারা(ইজারাদার)ক্ষুব্দ হয়ে চলে যান। রোববার সর্বোচ্চ দরদাতা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে গিয়ে এ বিষয়ে খোঁজখবর নিতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল হক বলেন,গড়মূল্য ধরা বেশী হয়েছে। গড়মূল্য আরও কমে আসবে। অনিচ্ছাকৃত এ ভুলের জন্য এ দরপত্র বাতিল করে পূণঃ দরপত্র আহবান করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরো বলেন,সরকারি জলাশয় ইজারার দরপত্র নিয়ে কোন অস্বচ্ছতা নেই। গড়মূল্য নির্ধারণে সামান্য ভুল হওয়ায় সংশোধন করে তা পূণঃ দরপত্র আহবান করা হয়েছে। এনিয়ে কারও কোন সিন্ডিকেট আছে বলে আমার মনে হয়না। আমি হলফ করে বলতে পারি অত্যন্ত স্বচ্ছভাবেই সরকারি জলাশয়ের দরপত্র গ্রহণ ও ইজারা প্রদান করা হবে।

ধামরাই মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান,উপজেলা প্রশাসন সরকারি জলাশয় ইজারা দেয়ার জন্য ৪ লাখ টাকা সর্বনি¤œ মূল্য নির্বারণ করে দরপত্র আহবান করেছে। আমরা সর্বোচ্ছ দরদাতা হিসাবে তিনটি জলাশয়ই পেয়েছি। ভুল হলে উপজেলা প্রশাসনের হয়েছে। আমাদেরতো কোন ভুল হয়নি। তাহলে আমাদের নামে জলাশয় বরাদ্ধ না দিয়ে কিভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দ্বিতীয়বার দরপত্র আহবান করতে পারে তা আমাদের বোধগম্য নয়। তাছাড়া গড়মূলতো আর কম ধরা হয়নি বরং বেশীই ধরা হয়েছে। এতেতো সরকারের কোন লোকসান হবেনা। আপত্তিতো করলে আমাদেরই করার কথা ছিল। অথচ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাই আপত্তি করে বসে আছেন।


শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ