সম্মিলিত প্রচেষ্টাই দেশ চিরতরে দারিদ্র্য দূর করতে পারে :প্রধানমন্ত্রী

0
10
শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ


আলোর যুগ রিপোর্ট :-
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দারিদ্র্য বিমোচনে সরকারের পাশাপাশি দেশের বিত্তবানদের সাধারণ জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই দেশ থেকে চিরতরে দারিদ্র্য দূর করতে পারে। ‘শুধু নিজে ভালো থাকব, সুন্দর ও আরাম-আয়েশে থাকব। আর আমার দেশের মানুষ, এলাকার মানুষ কষ্টে থাকবে, এটা তো মানবতা নয়।

শনিবার সকালে ‘মুজিববর্ষে গৃহহীন মানুষকে সরকারের সচিবদের গৃহ উপহার’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি একথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের (বিআইসিসি) অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সচিবদের এ গৃহহীন প্রকল্প গ্রহণকে একটি মহৎ উদ্যোগ আখ্যায়িত করে এজন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান। মুজিববর্ষে দেশের সব গৃহহীনকে ঘর করে দেয়ার সরকারের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৮০ সচিব নিজ নিজ এলাকায় গৃহহীনদের ১৬০টি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। গণভবন প্রান্ত থেকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা মানুষের জন্য কিছু করার চিন্তা-ভাবনা থেকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিয়েছেন। একটা ঘর করে দিয়েছেন, একটা মহৎ কাজ আপনারা করেছেন। আমি মনে করি, ভবিষ্যতে মানুষজন আপনাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে এবং মানুষের পাশে দাঁড়াবে। ফলে বাংলাদেশ বিশ্বে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ হয়ে গড়ে উঠবে। জাতির পিতার স্বপ্ন আমরা পূরণ করব,’ যোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ খুব সাহসী। তাদের নিয়ে যুদ্ধ করেই জাতির পিতা দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছেন। কাজেই বিজয়ী জাতি হিসেবেই বিশ্বে আমরা মাথা উঁচু করে চলব। সে সময় বিশ্বে অন্যতম শক্তিশালী সেনাবাহিনী হিসেবে পাকিস্তানি বাহিনী খুব গর্ব করত, তাদের কে হারাবে। কিন্তু বাঙালি তাদের হারিয়ে যুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘পেশাজীবী বা ব্যবসায়ী বা যে যেখানেই আছেন প্রত্যেকের কাছেই আমার অনুরোধ থাকবে, যে যে স্কুলে পড়াশোনা করেছেন এবং যে গ্রামে জন্মেছেন তার উন্নয়নে যেন সহযোগিতা করেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সাল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্মশতবার্ষিকী এবং এ মুজিববর্ষে (২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ) আমাদের ঘোষণা বাংলাদেশে আর একটি মানুষও গৃহহীন থাকবেন না, ভূমিহীন থাকবেন না। তিনি বলেন, তার সরকারের এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হলেও আজকে নিজ নিজ এলাকার দরিদ্র অসহায় মানুষকে ঘর তৈরি করে দেয়ার মাধ্যমে সচিবরাও সরকারি এ উদ্যোগে শরিক হয়েছেন এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকায় দুটি করে ঘর করে দিয়েছেন। আজকে এ ঘর পাওয়ার পর দুঃখী মানুষের মনে যে আনন্দটা আসবে, আমি মনে করি এটাই সব থেকে বড় পাওয়া।’
‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজন্ম সংগ্রামের মূল লক্ষ্য ছিল এ দেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো’, উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ব্যক্তি জীবনে অনেক কিছু করতে পারতেন। তারপরেও দুঃখী মানুষের কথা ভেবেই তিনি সে পথ বেছে নেননি।’ বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘মানুষের দুঃখ-দুর্দশা তিনি (জাতির পিতা) ছোটবেলা থেকেই নিজ চোখে দেখেছেন। যে কারণে তার সব সময় একটা উদ্যোগই ছিল মানুষের জন্য কিছু করার।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা নিজের জীবন উৎসর্গ করে জেল, জুলুম, অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থেকে সংগ্রাম করে গেছেন। তিনিই আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়ে আত্মপরিচয়ের সুযোগ করে দিয়ে গেছেন।’ ‘জাতির পিতা আদর্শের সঙ্গে আপস করেননি বা পিছপা হননি, সব সময় ন্যায্য কথা বলেছেন, ন্যায্যভাবে চলেছেন এবং এ দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’
একটি ভাষণের উদ্ধৃতি দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা বলেছিলেন, আমার দেশের প্রতিটি মানুষ খাদ্য পাবে, আশ্রয় পাবে, শিক্ষা পাবে, উন্নত জীবনের অধিকারী হবে- এহচ্ছে আমার স্বপ্ন।’

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনকালে গৃহহীনকে ঘর-বাড়ি করে দেয়া এবং ভূমিহীনকে খাসজমি প্রদানে জাতির পিতার ‘গুচ্ছগ্রাম’ প্রকল্পের উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘তিনি (বঙ্গবন্ধু) নিজে নোয়াখালী গেছেন (এখন লক্ষ্মীপুর তখন সেটা মহকুমা ছিল) এবং সেখানেই গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের ভিত্তি রচনা করেন। তার কৃষিমন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাতের ওপরই এ দায়িত্ব ছিল এবং তিনি সেখানে ঘর তৈরি করে দিয়ে আসেন।’ জাতির পিতার ‘গুচ্ছগ্রাম’ প্রকল্পের অনুকরণে তার সরকারের ‘আশ্রয়ণ’ এবং ‘ঘরে ফেরা’ এবং ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকার বস্তিবাসী যদি নিজ গ্রামে ফিরে যান তাহলে তাদের সরকারের টাকায় ঘর করে দেয়া, খাবারের ব্যবস্থা এবং টাকা-পয়সা দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়। কারণ প্রত্যেকে যেন নিজে কিছু করে সুন্দরভাবে বাঁচতে পারেন, কারও কাছে যেন হাত পাততে না হয়।’
বর্তমান সরকারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত দেশব্যাপী কমিউনিটি ক্লিনিক গড়ে তোলাও জাতির ‘পিতার চিন্তার ফসল’, উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘প্রতিটি ইউনিয়নে তিনি ১০ শয্যার হাসপাতাল করে দেয়ার উদ্যোগ নেন। তার চিন্তা ছিল চিকিৎসা সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সে সময়ই প্রাথমিক শিক্ষা এবং মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করেন এবং সমবায়ের মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ করে উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগও নিয়েছিলেন। পাশাপাশি ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রত্যেকটি মহকুমাকে জেলায় রূপান্তরিত করে জেলা গভর্নর নিযুক্ত করেন।’
’৭৫-এ জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার পর সাবেক সেনাশাসক জিয়াউর রহমানের অবৈধ ক্ষমতা দখল এবং দেশে সেনাশাসনের সূচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের পর দেশের দুঃখী মানুষ দুঃখীই থেকে গেছেন। তাদের প্রতি কেউ ফিরেও তাকায়নি। কেননা পরের সরকারগুলো ক্ষমতাকে ভোগের বস্তু এবং নিজেদের আখের গোছানোর জন্য ব্যবহার করেছে।’ ফলে দেশের আপামর জনগণের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।


শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ