শিশু সারোয়ার হত্যা চেষ্টা মামলায় এখনো বিচার পাননি বাবা মা

0
96
শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, ঝিনাইগাতী(শেরপুরে)প্রতিনিধি: শেরপুরের শ্রীবর্দীর শিশু সারোয়ার হত্যা চেষ্টা মামলার এক বছর শেষ হলো আজও পূর্ণ বিচার শেষ হয়নি বলে জানান শিশু সারোয়ারের বাবা সিংগাপুর প্রবাসী ছামিউল হক। মামলার চার্জশীট ও চিকিৎসার বিষক্রিয়ায় ৯০ টা ইনজেকশন ও আলামত ডকুমেন্টস প্রমানিত হলেও বিচারের অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।

ভুক্তভোগী শিশু সারোয়ারের বাবা ছামিউল হক ও মা সুমি জাহান।শ্রীবরদীতে ৬ মাসের ভাগিনাকে বিষ খাইয়ে হত্যা চেষ্ঠা মামলার প্রধান আসামী খালা রিয়া জেল হাজত থেকে জামিনে আসার পর রিয়ার বড় ভাই মাহমুদুল হক সবুজ ও দোলাভাই আলী আকবর বিভিন্নভাবে হুমকি দেই মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য শিশু সারোয়ারে মা সুমি জাহান ও এলাকাবাসীর কাছে জানা যায়।

মামলা দায়ের হওয়ার পর বেশ কয়েক মাস অতিবাহিত হলেও মামলার প্রধান আসামী রিয়াকে গ্রেফতার করা হয়নি এমন অভিযোগে শেরপুর টাইমস সহ বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন।রিয়াকে গ্রেফতার করতে বিভিন্ন স্থানে হানা দেয় পুলিশ।

পুলিশের তৎপরতায় দিশেহারা হয়ে অভিযুক্ত রিয়া ২ অক্টোবর ২০১৮ মঙ্গলবার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির হলে বিজ্ঞ বিচারক অভিযুক্ত রিয়ার জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।মামলা সূত্রে জানা যায় , শ্রীবরদী উপজেলার গোসাইপুর ইউনিয়নের বালিয়াচন্ডি গ্রামের সুলতান মাহমুদের একমাত্র মেয়ে সুমি জাহান আত্বীয় আব্দুর রহিমের মেয়ে রিয়া (১৮) পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৩০ এপ্রিল ২০১৮ বিকেলে সুলতান মাহমুদের নিজ বাড়িতে সুমি জাহানের ৬ মাস ১০ দিন বয়সের শিশু পুত্র সারোয়ার হোসাইনকে রিয়া কোলে নিয়ে পার্শ্ববর্তী পুকুর পাড়ে যায়।

এসময় রিয়া সেখানে শিশু সারোয়ারের মুখে বিষ ঢেলে দিলে শিশুটি চিৎকার চেচামেচি ও বমি করতে থাকে।এমতাবস্তায় রিয়া শিশুটির মা সুমি জাহানের কাছে নিয়ে গিয়ে বলেন, সারোয়ার বমি করছে। এ কথা শুনে সুমি জাহান সারোয়ারকে কোলে নিলে তার মুখ দিয়ে বিষের গন্ধ পায়। এতে সুমি জাহান ডাক চিৎকারের বাড়ির অন্যান্য স্বজনরা ছুটে আসে এবং সারোয়ারকে নিয়ে প্রথমে শ্রীবরদী হাসপাতসলে নিয়ে যায়।

ডাঃ আনিসুর রহমান বাচ্চার অবনতি দেখে শেরপুর জেলা হাসপাতালে রেফার্ট করেন এবং শেরপুর জেলা হাসপাতালে শিশু সারোয়ারের গুরুতর অবস্থা অবনতি দেখে ডঃ আশাদুজ্জামান ঐ রাতেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ট করেন।

এদিকে শিশু সারোয়ারের বাড়ি’র লোকজন যখন তাকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটাছুটি করছে ঠিক সেসময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রিয়া ও তার অন্যান্য সহযোগীরা সুমি জাহানের প্রবেশ করে ঘরে রাখা নগদ ১৭০০০ টাকা ও প্রায় ১৬ ভরি স্বর্নালংকার চুরি করে নিয়ে যায় বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করেছেন শিশুটির মা ও মামলার বাদী সুমি জাহান এবংএলাকাবাসীর কাছে এমন নেক্কার কাজের ঘটনাটির সত্যতা জানা যায়।

পরে ৭ মে ২০১৮ সুমি জাহান বাদী হয়ে রিয়া ও তার মা-বাবা, ভাইসহ ৫ জনকে আসামী করে শ্রীবরদী থানায় একটি হত্যা প্রচেষ্টা ও চুরি’র অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ তদন্ত শেষে এ বছরের ৩১ আগষ্ট ২০১৮ আদালতে রিয়াসহ অন্যান্য আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করে। এদিকে রিয়ার পরিবার জানায় কোর্টে মামলা চলমান রহিয়াছে দেখাযাক কি হয়।


শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ