যৌতুকের দাবী মেটাতে না পারায় প্রাণ গেল গৃহবধুর

0
33
শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ

মো: জাহাঙ্গীর আলম, নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে যৌতুকের দাবী মেটাতে না পারায় প্রাণ দিতে হলো শারমিন আক্তার রিতু (২০) নামের এক গৃহবধু। পাষুন্ড স্বামী স্ত্রী লাশ হাসপাতালর রেখে পালিয়ে গেছে। পরে খবর পেয়ে কোম্পাীগঞ্জ থানা পুলিশ হাসপাতালে থেকে গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দুপুরে।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য জড়িত সন্দেহ নিহতের শ্বশুর আবুল কালাম (৪৪) ও শ্বাশুড়ী আরাধনী বেগম (৪০) কে আটক করা হয়েছে। রিতুর স্বামী মোশারফ হোসেন বাহাদুর ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে ।

জানাগেছে, ২০১৭ সালে চরফকিরা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড চরকালী গ্রামের কামাল মেস্তরীর নতুন বাড়ীর ফখরুল ইসলাম সবুজের মেয়ে শারমিন আক্তার রিতুর (২০) সাথে একই ইউনিয়নের আদর্শ গ্রামের আবুল কালামের ছেলে ওমান প্রবাসী মোশারফ হোসেন বাহাদুরের সাথে বিবাহ হয়।

বিয়ের পর থেকে রিতুর স্বামী বিভিন্ন অজুহাতে যৌতুক আদায় করে। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে আবারো পিতার বাড়ি থেকে যৌতুক দিতে রিতুকে চাপ দেয় স্বামী বাহাদুর এতে সে যৌতুকের টাকা এনে দিতে অস্বিকার করায় তাকে নির্যাতন করে স্বামী বাহাদুর সহ শ্বাশুড় ও শ্বাশুড়ি। যার এক পর্যায়ে রিতু সঙ্গা হারিয়ে পেললে তারা রিতুকে কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সএ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।

এ সময় তারা রিতুর লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায়। পরে হাসপাতাল থেকে বিষয়টি থানায় জানালে পুলিশ এসে রিতুর লাশ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

রিতুর মা তৈয়বের নেছা’র অভিযোগ, বিবাহের পর থেকে শারমিনের শ্বশুর বাড়ীর পক্ষ থেকে যৌতুকের জন্য রিতুকে চাপ দেয়া হয়। রিতু তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে বিভিন্ন সময় শারিরীক ও মানষিক নির্যাতন করা হতো। আমরা সামাজিক ভাবে এর প্রতিকার চেয়েও কোন প্রতিকার পাইনি। তাঁর অভিযোগ, যৌতুক না পেয়ে আজ রিতুকে হত্যা করে লাশ কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে তার স্বামী মোশারফ হোসেন বাহাদুর পালিয়ে গেছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, হাসপাতাল সূত্রে সংবাদ পেয়ে আমরা কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রিতুর লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছি। ময়না তদন্তের পর বলা যাবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা। তবে রিতুর মায়ের অভিযোগ থাকায় রিতুর শ্বশুর ও শ্বাশুড়ীকে আটক করা হয়েছে।


শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ