ভোগান্তির অপর নাম বাস কাউন্টার

0
32
শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ

বিপ্লব হাসান, রূপগঞ্জ প্রতিনিধি: সাচ্ছন্দে যাতায়াতের জন্য যাত্রীদের পছন্দ কাউন্টার বাস সার্ভিস। কিন্তু এখানকার যাত্রীদের কাছে কাউন্টার বাস সার্ভিস এক বিড়ম্বনার নাম । বেশি ভাড়া আদায় করেও বাস সার্ভিসগুলো যাত্রীদের সেবা দিচ্ছে না। রূপগঞ্জ উপজেলার ভূলতা- গাউছিয়া এলাকা থেকে ঢাকার গুলিস্তান ও গাউছিয়া টু কুড়িল বিশ্বরোড রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের কাছে যন্ত্রণা ও ভোগান্তির আরেক নাম কাউন্টার বাস সার্ভিস ।

যাত্রীদের পরিবর্তে এসব পরিবহনের বাসগুলো যাত্রীদের কষ্ট ও বিড়ম্বনাই বেশি দেয়। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, কাউন্টার না থাকলেও লোকাল সার্ভিসের মত প্রতিটি স্ট্যান্ডে বাস থামিয়ে ডেকে ডেকে যাত্রী উঠানো, গাদাগাদি করে যাত্রী বোঝাই করা যানবাহনের নিত্যদিনের চিত্র।

এ ব্যাপারে জনৈক সাংবাদিক বলেন, কাউন্টার বাস সার্ভিসের নামে যাত্রীদের সাথে মেঘলা, গ্লোরী , আশিয়ান, বি আর টি সি পরিবহনের এ প্রতারণা কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায় না । তাই মেঘলা, গ্লোরী, ও আশিয়ান পরিবহনের এ প্রতারণা ও অনিয়ম শীঘ্রই টেলিভিশন ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হবে।

এছাড়া সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে জানিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। সূত্র জানায়, রূপগঞ্জ উপজেলার ভূলতা- গাউছিয়া এলাকাসহ আশপাশের এলাকার সাধারণ যাত্রীদের সুবিধার্থে কাউন্টার বাস সার্ভিস চালু করে মেঘলা, গ্লোরী, আশিয়ান, বি আর টি সি পরিবহন।

ভাড়া আদায় করার ব্যাপারে এসব পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস কোন নিয়মনীতি মানছে না। সূত্র জানায়, কাউন্টার সার্ভিসের বাসগুলো কিলোমিটার হিসেবে ভাড়া আদায় করে না। তাদের ইচ্ছামত ভাড়া আদায় করে থাকে । একই দূরত্বে একেক রকম ভাড়া আদায় করছে। কম দূরত্বে যাওয়ার জন্যও বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে যাত্রীদের। সরকার মিনিবাস এবং বড় বাসের জন্য দুই ধরনের ভাড়া নির্ধারণ করলেও এসব কাউন্টার বাসের মালিকরা একই ভাড়া নিচ্ছে।

ভূক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, বেশি পরিমাণ ভাড়া দিয়েও যাত্রীদের অত্যন্ত গাদাগাদি করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। দিনে-রাতে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে এসব বাস চলাচল করে।একটি রুটে সর্বনিম্ন কতটা বাস চলবে সে নিয়মনীতি না থাকায় এসব কোম্পানি ১০/ ১৫ টা বাস নিয়ে একটি রুটে পরিবহন ব্যবসা করছে।

বাসের তুলনায় কাউন্টার বেশি হওয়ায় প্রতি কাউন্টারে দীর্ঘক্ষণ যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এসব পরিবহনের বাসের কারণে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল বিঘ্নিত হয় এবং যাত্রী উঠানামা করানোর সময় সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি অনেক কাউন্টার একসাথে থাকায় যানবাহনের জটলা সৃষ্টি হয়ে থাকে।

এ ব্যাপারে কাউন্টার বাস মালিকদের সংগঠনের এক নেতা বলেন, সব কাউন্টারের সমান দূরত্বে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভাড়া ঠিক থাকলেও মাঝপথের ভাড়ায় কিছু গরমিল রয়েছে। আমরা এটা ঠিক করার চেষ্টা করছি। আমাদের প্রচুর গাড়ি রয়েছে। তবে এ সড়কে অসহনীয় যানজটের কারণে অনেক সময় গাড়ি আসতে দেরি হয়। এতে যাত্রীদের গাদাগাদি করে চলতে হয়।

এ ছাড়া সরকারের সংশিষ্টরা আমাদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে না। স্থানীয়রা জানায়, মহাসড়কে সিএনজি চালিত অটো রিকশা চলাচল সরকার বন্ধ করে দেয়ায় গণপরিবহনের সংকট দেখা দেয়। এতে উপজেলার ভূলতা – গাউছিয়া , গোলাকান্দাইল, বরপা , রূপসী, তারাব বিশ্বরোড, বরাব, এলাকা থেকে অনেকে চলাচলের জন্য মেঘলা, গ্লোরি, ও আশিয়ান ও ভায়া ভূলতা (গাউছিয়া) হইতে ৩০০ ফিট দিয়ে মায়ার বাড়ি,চাঁন টেক্সটাইল, কাঞ্চন,জলসিড়ি,নীলা মার্কেট, স্বদেশ কুড়িল বিশ্বরোড পরিবহন নির্ভর হয়ে পড়েন ।

এ সুযোগে এসব পরিবহনের চালক-ম্যানেজার ও মালিকরা ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয়রা । তারা আরো জানান, ভাড়া নিয়ে প্রতিবাদ করলে এসব পরিবহনের চালকরা খারাপ ব্যবহার করে। এ ব্যাপারে ভূলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রফিকুল হক জানান, মেঘলা,গ্লোরী, আশিয়ান পরিবহনে যাত্রী হয়রানি ও বেশি ভাড়া আদায় করার বিষয়টি জানা নেই।

বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে । এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআর টি এ ) জনৈক পরিচালক বলেন, আমাদের এ কাজে তদারকি করার জন্য করার জন্য মাত্র ২ জন ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। তাদের পক্ষে এত বড় একটা বিষয় তদারকি করা সম্ভব হয় না। নতুন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পর কাউন্টার বাসের সব অনিয়ম তদারকি করতে পারব।


শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ