ভাষার ব্যবহারে সংযত হওয়ার আহ্বান প্রধান বিচারপতির

0
7
শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ


আলোর যুগ রিপোর্ট: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সিলেটের শাহপরান থানায় করা এক মামলায় গোলাম সরোয়ার নামে এক ব্যক্তির জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। ওই ব্যক্তিকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন খারিজ করে রোববার (০৭ মার্চ) আদেশ দেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান।

শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, আমেরিকাতেও স্যাটায়ার (ব্যঙ্গাত্মক রচনা) লেখা হয়। কিন্তু আমাদের দেশের মতো এত নগ্নভাবে করা হয় না। আমাদের এখানে যেসব ভাষা ব্যবহার করা হয়, তা কীভাবে একজন শিক্ষিত লোক লিখে থাকেন? তাহলে শিক্ষার মর্যাদা কোথায় রইল! বেশ কয়েকটি মামলায় এ ধরনের ভাষা আমরা ব্যবহার করতে দেখেছি। মনে রাখতে হবে, দেশের ইমেজ সবার আগে।

ভবিষ্যতে আর যাতে এ ধরনের মন্তব্য না করেন সেজন্য আইনজীবীর মাধ্যমে তাকে (সারোয়ার) সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত দেবনাথ।

তিনি বলেন, মেডিক্যাল গ্রাউন্ডে ওই আসামিকে জামিন দেওয়া হয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে বলেন, আসামি এক বছর ধরে কারাগারে আছেন। এখনো অভিযোগপত্র হয়নি। হার্টে চারটি স্ট্রেন্টিং রয়েছে। অসুস্থ মানুষ বিনাবিচারে কারাগারে রয়েছে। এ কারণে জামিন বহাল রাখা প্রয়োজন।

এসময় আদালত বলেন, হার্টে চারটি স্ট্রেন্টিং নিয়ে এসব কুরুচিপূর্ণ লেখা লিখে বেড়ান?

তখন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত দেবনাথ বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে দেওয়া পোস্টে যেসব ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো আমি প্রকাশ্য আদালতে পাঠ করে শোনাতে চাচ্ছি না। আপনারা দয়া করে একটু এজাহারটা দেখুন।

এসময় প্রধান বিচারপতি বলেন, স্যাটায়ার করুন, কিন্তু সেটার ভাষা পরিশীলিত হতে হবে। যেসব ভাষা ব্যবহার করেছে তাতে শিক্ষিত লোকের সঙ্গে যায় না। তিনি আসামির আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, আপনার আসামিকে সতর্ক করে দিচ্ছি। ভবিষ্যতে আর এরকম করলে জামিন হবে না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্পর্কে কটূক্তি করে বিভিন্ন নেতিবাচক পোস্ট, ছবি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করার অভিযোগে গত বছর ১৪ মার্চ গোলাম সারোয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরদিন ১৫ মার্চ সিলেটের শহাপরান থানায় গোলাম সারোয়ারের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। এ মামলায় গতবছর ১১ অক্টোবর হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন। এ জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালতে আবেদন করলে গতবছর ১৮ অক্টোবর হাইকোর্টের জামিন স্থগিত করে দেওয়া হয়।


শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ