বেনাপোল থেকে দেহ ব্যবসায়ী দুই প্রতারক আটক

0
27
শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ

জাহিরুল ইসলাম মিলন, শার্শা(যশোর)প্রতিনিধিঃ ভালো কাজের কথা বলে রোজিনা (১৯) (ছদ্দনাম) নামের এক তরুণীকে ভারতে নিয়ে আটকে রেখে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগে দুই প্রতারককে আটক করেছে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বিকালে যৌন নির্যাতনের শিকার ওই তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের আটক করে।

আটককৃতরা হলেন, মুন্সিগঞ্জের নিয়াচান বালিগন টুঙ্গিপাড়া গ্রামের আহম্মদ হাওলাদারের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৪৫) এবং তার সহযোগী নোয়াখালী সদরের আন্দারচর এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে হালিমা আক্তার (২৫)।

যৌন নির্যাতনের শিকার ওই তরুণী পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগে জানায়, সে ঢাকার একটি গার্মেন্টসে চাকরি করার সুবাদে পরিচয় হয় আনোয়ারের স্ত্রীর সাথে। পরে পরিচয় হয় আনোয়ারের সাথে। আনোয়ার মাঝে মধ্যেই তার দোকানে আসা যাওয়া করতো। একদিন সে তাকে বলে ভারত থেকে থ্রি-পিচ কিনে বাংলাদেশে নিয়ে আসলে ভাল ব্যবসা হবে।

গত ২৬ মার্চ আনোয়ারের স্ত্রী ও তার সহযোগী হালিমা তাকে সাথে করে কলকাতায় নিয়ে আনোয়ারের কাছে রেখে চলে আসে। পরে কলকাতার নোভা নামে একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে আনোয়ার তাকে দেহ ব্যবসা করতে চাপ সৃষ্টি করে। এতে সে আপত্তি জানালে তাকে জীবন নাশের হুমকি দেয়।
এছাড়া বলে, জীবনে আর কোনদিন দেশে ফিরতে পারবে না। পরে আটকে রেখে জোর করে একাধিক মানুষের সাথে দেহ ব্যবসার কাজে লিপ্ত হতে বাধ্য করে।

প্রতিদিন তাকে ১৫ থেকে ২০ জন পুরুষ যৌন নিপীড়ন করতো। এভাবে কলকাতায় ৯ দিন ও বনগাঁর মায়ের আশীর্বাদ আবাসিক হোটেলে ৫ দিন তাকে আটকে রেখে দেহ ব্যবসা করায়।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে তাকে নিয়ে তারা ভারত থেকে ফিরলে সে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে তার প্রতি অমানবিক দৈহিক নির্যাতনের বিষয়টি খুলে বলে। এ সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ অভিযুক্ত দুই প্রতারককে আটক করে। পরে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের উপ-পরিদর্শক(এসআই) খাইরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, তারা লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করে অভিযুক্ত দুই অপরাধী ও নির্যাতিত তরুণীকে পোর্ট থানা পুলিশে সোপর্দ করেছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিনিয়ত সীমান্ত পথের পাশাপাশি অবৈধ পথে শতশত নারীকে ভাল কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে নিয়ে দেহ ব্যবসার করতে বাধ্য করাচ্ছেন দালাল চক্র। রোজিনা সাহস করে তার প্রতি অবিচারের বিষয়টি পুলিশকে বলতে পারলেও শতশত রোজিনা মুখ বুঝে অত্যাচার মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে।


শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ