প্রসাশনের চোখ প্রশ্ন ফাস রোধে, অপরাধিদের নার্সিংয়ে

0
79
শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ

রাসেল হোসাইন, সাটুরিয়া(মানিকগঞ্জ)প্রতিনিধি: যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ সেই সাথে এগিয়ে চলছে অসাধু মহল।প্রশ্ন ফাসে ঝুকি বাড়ায় নতুন পথে হাটছে প্রশ্ন ফাস করা হাজারো ব্যাবসায়ী।প্রসাশনের ধরা ছোয়ার বাইরে তারা নিত্য নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করে কাজ পরিচালনা করছেন।

স্কুল কলেজের প্রশ্ন ফাস আজ প্রায় বন্ধের মুখে পৌঁছে গেছে।হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়,মেডিকেল,কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে গিয়ে মেধার দৌড়ে পৌছাতে না পেরে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং,বিএসসি ইন নার্সিং করার জন্য আবেদন করে।আর সেই মেধাহিনদের ভর্তি নিশ্চিত করতে এবং অসাধু মহল তাদের কোটি টাকার ব্যাবসা টিকিয়ে রাখতে তাদের তালিকায় যোগ করেছে সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটের ভর্তি পরীক্ষা। যার একটি সিটের বিক্রয় মুল্য ১ লক্ষ ৮০ হাজার থেকে শুরু করে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

ভর্তি হওয়া এক তরুনীর কাছে প্রতিবেদকের পরিচয় গোপন রেখে কিভাবে ভর্তি হয়েছে জানতে চাইলে তিনি জানান,ভর্তি পরীক্ষার আবেদন থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত যা কিছু করা লাগে সব তারাই করে । আমাকে শুধু কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হয়েছে। পরীক্ষার আগের দিন সন্ধায় আমাকে প্রবেশপত্র দিয়েছে এবং আমার সামনের বেঞ্চের পরীক্ষার্থীর সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেছেন,তুমি প্রশ্ন পাওয়ার পর ক্রমিক নং এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ভরাট করে উত্তরপত্র সামনের বেঞ্চে দিয়ে দিতে।উনার কথা মত কাজ করে আমি আজ একটি সরকারী নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

ভর্তি হওয়ার জন্য কত টাকা লেগেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,উনি আমার পরিচিত বলে ১ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা দিয়েছি। আরও যারা এভাবে ভর্তি হয়েছে তাদের ১ লক্ষা ৮০ হাজার থেকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার পর্যন্ত লেগেছে।

এভাবে ভর্তিকৃত নার্স কতটা বিপদজনক জানতে চাইলে ফরীদপুর জেলা সদর হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন,এভাবে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে নার্স হয়ে যখন বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মজীবন শুরু করবে তখন সব চাইতে বেশি খারাপ প্রভাব পড়বে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর উপর।কারন তাদের ভিতরে নার্সদের ভিতর যেসব গুনাবলি থাকা দরকার তার একটিও থাকে না।
এভাবে ভর্তি হওয়া বেশিরভাগ শিক্ষার্থী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়,মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হতে পেরে নার্সিং করার জন্য ভর্তি হয়।

নার্সদের রোগির উপর কি প্রভাব পড়তে পারে সে সম্পর্কে জানতে চাইলে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাংগাইল জেলা সদর হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন,রোগী ভালো হওয়ার পেছনে একজন নার্সের ভুমিকা অনেক বেশি থাকে।কারন চিকিৎসক সারাদিন রোগির কাছে থাকতে পারে না।রোগির ভরসা থাকে নার্সের উপর। কিন্তু বর্তমানে কিছু কিছু নার্সদের কারনে রোগি ভালো হওয়ার চেয়ে মৃত্যুর দিকে বেশি ঝুকছে।কারন এমন অনেক নার্স আছে যারা ইংরেজি ভালোভাবে পড়তে পারে না।তারা রোগিকে হামেশাই ভুলভাবে ঔষধ দিতে থাকে।যার ফলে রোগি সুস্থ হওয়ার চেয়ে অনেক বেশিই অসুস্থ হয়ে পড়ে।

সচেতন মহলের দাবি,সরকারের নার্সিং ভর্তি পরীক্ষার দিকে নজর দেয়া উচিত।নাহলে ভবিষ্যতে হয়ত হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে কেউ ঘরে ফিরতে পারবে না।


শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ