নড়াইলের বাবু পরিবার এখন এলাকা ছাড়া!

0
175
শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল প্রতিনিধি: আমাদের বাবু পরিবার এখন নড়াইল ছাড়া! বাবুই পাখির আরেক নাম শিল্পী পাখি। বাবুই সুন্দর সুরে গান গাইতে পারে না তবুও এ পাখির নাম শিল্পী পাখি। এর কারণ বাবুইয়ের মধ্যে রয়েছে শিল্পগুণ। খুব যত্নের সাথে, প্রচুর পরিশ্রম করে সুদৃশ্য ও আকর্ষণীয় বাসা তৈরি করে বলেই এ পাখির নাম শিল্পী পাখি। এক সময় নড়াইলের এ পাখি প্রচুর পরিমাণে ছিল। তাল কিংবা নারিকেল গাছে ঝুলে থাকতে দেখা যেত বাবুইয়ের সুদৃশ্য বাসা। বাবুই তার ঠোঁট দিয়ে পরম যত্ন করে তৈরি করতো এসব বাসা। শিল্পী পাখি খ্যাত এ পাখিটি কালের বিবর্তনে আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে। এখন আর গ্রামাঞ্চলেও খুব একটা দেখা যায় না। তেমনি নড়াইলের গ্রাম ঞ্চলের বিভিন্ন তাল ও নারিকেল গাছে এক সময় এই পাখির বাসা ছিলো চোখে পড়ার মত। কিন্ত এখন আর চোখেই পড়ে না এইব গাছ কাটা ও মারা যাওয়ার কারণে। বাবুই পাখির বাসা দেখতে খুবই সুন্দর হয়। দেখতে অনেকটা উল্টানো কলসি আকৃতির মতো হয়ে থাকে। বাসা বানানোর জন্য বাবুই খুবই পরিশ্রম করে। প্রথমে ঠোঁট দিয়ে ঘাসের আস্তরণ তৈরি করে। তারপর যত্ন করে পেট দিয়ে ঘষে সেটাকে গোলাকৃতির এবং মৃসণ করে। বাসার শুরুতে দুটি নিম্নমুখী ছিদ্র বা প্রবেশ পথ থাকে। ডিম দেয়ার সময় হলে একদিক বন্ধ করে ডিম রাখার জায়গা তৈরি করে। অন্যদিকটি লম্বা করে তৈরি করে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য। লোকমুখে শোনা যায়, রাতে বাসায় আলো জ্বালানোর জন্য বাবুই পাখি নাকি জোনাকী ধরে এনে বাসার ভেতরে গোঁজে রাখে। এজন্য রাতে নাকি মাঝে মাঝে বাবুই এর বাসা জ্বলজ্বল করতেও দেখা যায়। বাবুইয়ের বাসা তৈরি করার জন্য প্রয়োজন হয় নলখাগড়া ও হোগলা। নলখাগড়া ও হোগলা না পেলে খেজুর পাতা চিকন চিকন করে ছিঁড়েও এরা বাসা তৈরি করে থাকে। কিন্তু বর্তমানে নড়াইলে নলখাগড়া, হোগলার বন ও খেজুর গাছ একেবারে কমে গেছে। গ্রামাঞ্চলের মানুষ জ্বালানী হিসেবে রান্নার কাছে নলখাগড়া ও হোগলা ব্যবহার করে। বাবুই পাখি বাসা তৈরির সুবিধার্থে নলখাগড়া ও হোগলার বনের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করে। বাবুই বিভিন্ন ধরনের বীজ, ধান, ভাত, পোকা, ঘাস, ছোট উদ্ভিদের পাতা, ফুলের মধু-রেণু ইত্যাদি খেয়ে জীবনধারন করে। গ্রীষ্মকাল এদের প্রজনন ঋতু হওয়ায় সাধারণত এসময় এরা কাটা জাতীয় বৃক্ষে বাসা তৈরি করে এবং আহার সংগ্রহের সুবিধা হয় এমন স্থান নির্বাচন করে। আগে নড়াইলে কয়েক ধরণের বাবুই দেখা যেত। এর মধ্যে বাংলা, দাগি ও দেশি বাবুই অন্যতম। বর্তমানে বাংলা ও দাগি প্রজাতির বাবুই একেবারে বিলুপ্ত হয়ে গেছে বললেই চলে। মাঝে মাঝে শুধু দেশি প্রজাতির দুয়েকটা বাবুই এর বাসা চোখে পড়ে। এ প্রজাতিও প্রায় বিলুপ্তির পথে। অনেকে আবার পাখি শিকার করে খায়। কেউ কেউ দেশী পাখি খাঁচায় ভরে পুষে। এর মধ্যে ময়না, টিয়া, ঘুঘু অন্যতম। যদিও উভয় কাজই বাংলাদেশের আইনে নিষিদ্ধ। যদি বন নিধন আর পাখি শিকার এভাবে চলতে থাকে তবে বাবুইয়ের মতো দেশীয় সব পাখিই আস্তে অস্তে বিলুপ্ত হতে যাবে। পোষার জন্য ম্যাকাও, গ্রে প্যারোট, জেন্ডে কনুর, ক্রিস্টেড পিজন, ফিন্সেস, জাভা স্প্যারো, প্যারাকিট, রুবিনো টার্কোজিয়ান ও লাভ বার্ডের মতো বিদেশী পাখির ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। পাখি আছে বলেই প্রকৃতি এত সুন্দর। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করতেও পাখির জুড়ি নেই। কিন্তু কালক্রমে দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে অনেক পাখি। এভাবে পাখি হারিয়ে যেতে থাকলে একসময় পাখির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। তাই পাখি যাতে বিলুপ্ত না হয়ে যায় সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। পাখির জন্য অভয়ারণ্য সৃষ্টি করতে হবে। বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে এবং পাখি শিকার বন্ধ করতে হবে। তাহলেই কেবল দেশীয় পাখি বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।


শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ