ধামরাইয়ে দুই কিঃ মিটার সরকারী রাস্তা থেকে ইট তুলে ভাটা,উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস

0
423
শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ

মুল হোতা ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন

আলোর যুগ প্রতিনিধি, ধামরাই
ঢাকার অদূরে ধামরাই উপজেলায় দুই কিলোমিটার একটি সরকারি এসবিবি রাস্তার ৪ শত ট্রাক ইট (যার মুল্য প্রায় ৭২ লাখ টাকা) তুলে নিয়ে নিজের ইটভাটার কাজে লাগানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে। প্রকাশ্য দিবালোকে রাস্তার এ ইট তুলে নেয়ার রহস্যজনক কারণে ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি উপজেলা প্রশাসন।এ অবস্থায় চরম দুর্ভোগে রয়েছে এলাকাবাসী।

দীর্ঘ্য ৪ বছর কর্দমক্ত রাস্তায় অতিকষ্টে যাতায়াত করায় এলাকাবাসী স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান,সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে বিষয়টি অবহিত করার পরও ওই ইউপি চেয়ারম্যান বহাল তবিয়তে রয়েছেন। ভুক্তভোগি এলাকাবাসী জানান, সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিষ্টার জিয়াউর রহমান খান আমতাা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মহসীন খান এবং সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ মনিরুল ইসলাম খান লাবু জনস্বার্থে জগৎনগর গ্রামের আমতা ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার মোঃ আয়নাল হক মেম্বারের বাড়ী থেকে দক্ষিণ বাউখন্ড জামে মসজিদ পর্যন্ত ২ কিলোমিটার এসবিবি রাস্তা নির্মাণ করেন। তৎ সময়ে দরপত্রের মাধ্যমে তিনজন ঠিকাদার নিয়োগ করে এ ২ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হয়।
বিগত ৪ বছর আগে আমতা ইউপি চেয়ারম্যান ও নান্দোশ্বরী গ্রামের বাসিন্দা মো: আবুল হোসেন তার বাড়ীর উত্তরপাশে আবাসিক এলাকায় ফসলি জমি ধংশ কওে এফটু এফ নামে একটি ইটভাটা নির্মাণ করেন এ সময় স্থানীয় নুরুল হক মেম্বারের সহায়তায় রাস্তাটি পাকাকরণের ওজুহাত দেবিয়ে বর্ণিত ২ কিলোমিটার এসবিবি রাস্তার ইট তুলে প্রকাশ্য দিবালোকে মাহেন্দ্র ট্রাক্টর দিয়ে ইটভাটায় নিয়ে যান আবুল চেয়ারম্যান।
ওই ইট দিয়ে তার ইটভাটায় যাওয়ার রাস্তা ও ইটভাটার ইট তৈরি ও শুকানোর পট নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা হয়। ইট উত্তলনের পর থেকে বিগত ৪টি বর্ষায় ওই ২কিলোমিটার রাস্তায় হাটু কাঁদা হয়ে গেলে জনগণ অতিকষ্টে এরই মাঝে যাতায়াত করে। বার বার বিষিয়টি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলকে জানানোর পরও এব্যাপারে কারও কোন টনক নড়েনি। এমনকি এ সমস্যা সমাধানে কেউ এগিয়ে আসেননি এবং ওই ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে বিগত ৪ বছরেও কোন আইনগত পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি বলে ভুক্তভোগি এলাকাবাসীর অভিযোগ।
সাবেক ইউপি মেম্বার মোঃ আয়নাল হক বলেন,বিগত ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে আমি আমতা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ছিলাম। মহসীন খান ও মনিরুল ইসলাম খান লাবু দুই মেয়াদে দুইজন চেয়ারম্যান ছিলেন। তাদের সহযোগিতায় আমি আমার বাড়ী থেকে বাউখন্ড দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ পর্যন্ত ২কিলোমিটর এসবিবি রাস্তা নির্মাণ করে এলাকাবাসীর প্রশংসা অর্জন করি। ৪বছর আগে রাস্তাটি পাকা করার মিথ্যা কথা বলে দিনে দুপুরে আবুল চেয়ারম্যান নুরুল হক মেম্বারের সহায়তায় শ্রমিক দিয়ে এ রাস্তার পুরো ইট তুলে মাহিন্দ্র ট্রাক্টর দিয়ে তার নবনির্মিত ইটভাটায় নিয়ে যায়। এ ইট দিয়ে ইটভাটায় যাওয়ার রাস্তা এবং ইট তৈরি ও শুকানোর জন্য পট নির্মান করেন।

সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম খান লাবু বলেন,তৎকালীন রাস্তাটি আমি ও মহসীন খান করেছিলাম তৎকালীন সংসদ সদস্য ব্যারিষ্ট্রার জিয়াউর রহমান খানের সহায়তায়। আবুল চেয়ারম্যান ৪ বছর আগে এ রাস্তার সমস্ত ইট(প্রায় ৪শ” ট্রাক) তুলে নিয়ে তার ইটভাট্রা কাজে লাগান। ৪ টি বছর এলাকাবাসী অবর্ণনীয় দুঃখ দুর্দশার মাঝে যাতায়াত করলেও স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর এব্যাপারে কোন পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি।
সাবেক চেয়ারম্যান মহসীন খান বলেন, এ রাস্তাটি আমার বাড়ী যাওয়ার রাস্তা বলে আবুল চেয়ারম্যান আক্রোশবশত কয়েক বছর আগে এ রাস্তার সমস্ত ইট তুলে নিয়ে তার তৎকালীন নবনির্মিত এফটুএফ ইটভাটার কাজে লাগায়। আর এতে চরম দুর্ভোগের শিকার হন এলাকাবাসী।
বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন,এব্যাপারে আমি কোন কথা বলতে বাধ্য নই। ইট আমি কি করেছি সে কৈফিয়ত কাউকে দিতে রাজি নই। এব্যাপারে দেখার জন্য সরকারি দপ্তর রয়েছে। অন্য কারও মাথা ঘামানোর কোন সুযোগ নেই। সাংবাদিকরা যা খুশি লিখতে পরো এতে আমার কিছুই যায় আসেনা।
এব্যাপারে ধামরাই উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: শাহিনউজ্জামান শাহিন বলেন,ঘটনাটি ঘটেছে আমি ধামরাইয়ে যোগদানের বহু আগে। কাজেই বিষয়টি খুবই জটিল। উধর্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা না পেলে এ বিষয়ে আমার কিছুই করার নেই। নির্দেশ পেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এব্যাপরে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন,এলাকাবাসীর অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারি রাস্তার ইট তুলে নেয়ার কারও কোন এখতিয়ার নেই। বিষয়টি খুবই স্পর্সকাতর। এব্যাপারে কাউকে কোন ছাড় দেয়া হবেনা


শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ