ধামরাইয়ে শশুরকে ফোনে হুমকি দিয়ে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

0
250
শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ


শামীম খান,(আলোর যুগ স্টাফ রিপোর্টর),ধামরাই
ঢাকার ধামরাইয়ে মুঠোফোনে জানিয়ে তিনঘন্টার মধ্যে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে জামাতার বিরুদ্ধে। ঘরে মরদেহ রেখে ওই ঘাতক স্বামীসহ বাড়ীর সকলেই পালিয়ে গেছে বাড়ী ছেড়ে। সোমবার দুপুরের দিকে এ হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়া থানার চাকলগ্রাম মধ্যপাড়া এলাাকায়।। পুলিশ খুন হওয়া ওই মরদেহটি উদ্ধার করেছে। মরদেহের ছুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহটি রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দি মেডেক্যিাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এব্যাপারে থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশি সূত্র।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী জানান,১১বছর পূর্বে ইসলামের শরানুযায়ী কাবিন রেজিষ্ট্রিমূলে ধামরাই উপজেলার বরাটিয়া গ্রামের মোঃ চাঁনমিয়ার মেয়ে রোকসানা আক্তারের (৩২)সঙ্গে সাভার উপজেলার আশুলিয়া থানার চাকলগ্রাম মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত আওলাদ হোসেনের ছেলে মোঃ ইয়ার হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের তিনবছর পর তাদের দম্পত্য জীবন আলোকিত করে রাব্বী হোসেন নামে এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়।বর্তমানে তার বয়স ৮বছর। সন্তান জন্মের কিছু দিন তাদের বেশ সুখ স্বাচ্ছন্দে কাটলেও ইয়ার হোসেনের দুই বোন স্বামী সন্তান নিয়ে ওই বাড়ীতেই স্থায়ী বসবাসের ফলে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে তাদের সংসারে সর্বদা ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকে। মাঝে মধ্যেই পরিবারের সবাই মিলে অমানুষিক জুলুম নির্যাতন চালাতো হতভাগী ওই গৃহবধূর ওপর।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সকাল ১১টা থেকে ওই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারিবারিক ফের ঝগড়া বিবাদ শুরু হয়। সোমবার ১২টার দিকে ঘাতক স্বামী ইয়ার হোসেন তার ব্যবহৃত মুঠোফোন দিয়ে তার শ্বশুর চাঁনমিয়াকে হুমকী দিয়ে জানায়, আপনার মেয়েকে একেবারে বিদায় করে দেব। তাড়াতাড়ি নিয়ে যান। নাহলে মেয়ে নয় মেয়ের লাশ উপহার দেব আপনাকে। শ্বশুরের আসতে বিলম্ব হলে এরই জের ধরে ঘাতক স্বামীসহ পরিবারের অপরাপর সদ্যরা মিলে সোমবার নির্যাতীতা অসহায় ওই গৃহবধূর ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হলে পরিবারের সবাই বাড়ীঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। বেলা তিনটার দিকে মেয়ের হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে পিতা চাঁনমিয়া বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে ভাতিজা বাবু মিয়া ও আমিনুর রহমান সহ বেশ কয়েকজন মানুষ ওই বাড়ীতে যান। তারা ওই বাড়ীতে গিয়ে দেখেন আশুলিয়া থানা পুলিশ মরদেহের ছুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করছে। মরদেহের হাত-পা ও গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের এবং নির্যাতনের স্বরচিহ্ন রয়েছে।
এব্যাপারে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে খুন হওয়া ওই গৃহবধূর স্বামী ও স্বামীর পরিবারের অপরাপর সদস্যদের বিরুদ্ধে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহটি রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। গৃহবধূর হত্যাকারিরা সকলেই পলাতক রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন খুন হওয়া গৃহবধূর পারিবারিক ও আশুলিয়া থানা পুলিশি সূত্র।
খুন হওয়া ওই গৃহবধূর পিতা মোঃ চাঁনমিয়া জানান,আমার মেয়ের ওপর সবসময়ই ওরা পরিবারের সবাই মিলেই অমানুষিক জুলম নির্যাতন করতো। আমি গরিব বলে আমার মেয়ে মুখে বুঝে এসব সহ্য করতো। সোমবার দুপুরে আমাকে আমার মোবাইল ফোনে ফোন করে ঘাতক ইয়ার হোসেন জানায়,জলদি আপনার মেয়েকে নিয়ে যান। নইলে মেয়ে নয় লাশ উপহার দেব। আমি যেতে না যেতেই ওরা আমার মেয়েকে এমনিভাবে খুন করে ফেলল। ফোন করার পর আমাকে একটুও সময় দিলনা। ওরা মানুষ নয়। ওরা সবাই খুনি। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।
এব্যাপারে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক এসএম কামরুজ্জামান বলেন,ওই গৃহবধূর পরিবারের সদস্যরা পলাতক থাকায় সন্দেহ ঘণীভুত। তাই ওই গৃহবধূর মরদেহের ময়না তদন্তের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ