ধামরাইয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

0
213
শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ


আলোর যুগ স্টাফ রিপোর্টার (শামীম খান) সাভার :
ঢাকার ধামরাইয়ের বাইশাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিএফ কার্ড ও হতদরিদ্রদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো ঈদ উপহারের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুর্ণীতি দমন কমিশন সহ(দুদক)সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই ইউনিয়ন পরিষদেরই নির্বাচিত ৯ ইউপি মেম্বার। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান,ঈদুল ফিতরের ঈদ উপলক্ষে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বাইশাকান্দা ইউনিয়নের ভিএিফ কার্ডের আওতায় ১হাজার ৩শ”১৮টি পরিবারের(১৩১৮টি পরিবার)জন্য চালের পরিবর্তে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়। প্রতি পরিবারের জন্য ৪৫০টাকা হারে ১৩১৮টি পরিবারের জন্য ৫লাখ ৯৩হাজার ১০০টাকা(৫লাখ তিরানব্বই হাজার একশ’) বাইশাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের উপ-নির্বাচনে নির্বাচিত চেয়ারম্যান বিএম মাসুদ রানা উত্তোলন করেন। প্রতিজন মেম্বারকে ৪০টি করে কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১২জন মেম্বারকে ৪৮০টি কার্ড দেয়ার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান বিএম মাসুদ রানার অবাধ্য থাকায় ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ আজিজুল হককে কোন কার্ড দেয়া হয়নি।
ওই ইউপি সদস্যের ৪০টি কার্ড এবং ওই ইউপি চেয়ারম্যান বিএম মাসুদ রানার কাছে থাকা ৭৩৮টিকার্ডসহ মোট ৭৭৮টি কার্ড বিতরণ করা হয়নি ইউনিয়ন পরিষদের কোথাও । শুধু তাই নয় ৮জন মেম্বারের বিতরণকৃত ৩২০টি কার্ডের মধ্যে ১২৭জন উপকারভোগিকে কোন টাকা দেয়া হয়নি বলে াভিযোগ ওই ইউপি চেয়ারম্যান বিরুদ্ধে। ১২৭ ও ৭৭৮টি কার্ডসহ মোট ৯০৫টি কার্ডের বিপরীতে ৪৫০টাকা হারে ৩লাখ ৯৫হাজার ১০০টাকা(তিন লাখ পঁচানব্বই হাজার একশ”) ওই ইউপি চেয়ারম্যান বিএম মাসুদ রানা তার পকেটস্থ করেছেন বলে ভুক্তবোগিরা জানান।
অপরদিকে হতদরিদ্রদের জন্য প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার পাঠানো ৫০০টি পরিবারের জন্য পরিবার প্রতি ৫০০টাকা হারে ২লাখ ৫০হাজার(আড়াই লাখ)সহ মোট ৬লাখ ৪৫হাজার টাকা(৬লাখ পঁয়তাল্লিশ হাজার) ওই ইউপি চেয়ারম্যান বিএম মাসুদ রানা আত্মসাৎ করেছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার সরেজমিনে গেলে, এব্যাপারে ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ আবু তাহ্রে আলী শিকদার বলেন,আমি ৪০টি ভিজিএফ কার্ড বিতরণ করেছি উপকারভোগিদের মাঝে। চেয়ারম্যান তাদের মধ্যে ১৩জনকেই টাকা দেননি। জানতে চাইলে তিনি এখনও বলেন তারা নিশ্চয় টাকা পাবে। অথচ এ টাকা বিতরণের কথা ঈদের আগে। এমনি ভাবে চেয়ারম্যান ৯০৫টি কার্ড বিতরণ না করে ৬লাখ ৪৫হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। টাকা বিতরণের সময় কোন ট্র্যাক্ট অফিসার(তদারকি কর্মকর্তা)রাখা হয়নি। এমনকি কোন মাষ্টারোলও করা হয়নি। এছাড়া মাথাপিছু ৫০০টাকা করে ৫০০জনের আড়াই লাখ টাকার কথা চেয়ারম্যান আমাদের বলেননি। গতবছরের ঈদেও তিনি একই কায়দায় হতদরিদ্রদের টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন। এবারও তাই করলেন। কাজেই সহ্য করতে না পেরে দুর্নীতি দমন কমিশন,এলিট ফোর্স ও পুলিশসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চেয়ারম্যান বিএম মাসুদ রানার বিরুদ্ধে ৯মেম্বার মিলে অভিযোগ দায়ের করেছি। আমার বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট দপ্তর এব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
৪নং ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ আজিজুল হক বলেন,চেয়ারম্যান আমার কাছে কার্ডের বিপরীতে অনৈতিক ভাবে টাকা দাবি করেছিলেন।আমি দিতে রাজি হইনি বলে আমাকে কোন কার্ড দেয়া হয়নি। আমার এলাকায় আমি আমার নিজস্ব তহবিল থেকে হতদরিদ্রদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করে তাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছি। ওই ইউপি চেয়ারম্যান হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্ধকৃত ভিজিএফ কার্ড ও প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো ঈদ উপহারের টাকা আত্মসাৎ করায় তার বিরুদ্ধে সরকারের বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারি সংস্থার কাছে অভিযোগ দায়ের করেছি।
এব্যাপারে উপকারভোগি মোঃ আব্দুল মজিদ,রেহাজ উদ্দিন কালুগাজী ও শুকুর আলীসহ শতাধিক ব্যক্তি জানান,আমাদের কার্ড জমা নেয়ার পরও ওই ইউপি চেয়ারম্যান বিএম মাসুদ রানা আমাদের কোন টাকা দেননি। সমস্ত টাকায় তিনি আত্মসাৎ করেছেন। আমরা এর বিচার চাই।
এব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান বিএম মাসুদ রানা তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে দায়েরকৃত অভিযোগের কথা স্বীকার করে জানান,আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমি সব টাকাই বিতরণ করেছি। সরকারের বরাদ্ধের চেয়ে আরও বেশী বিতরণ করেছি। নিজস্ব হতবিল থেকে মানুষকে এখনও টাকা দিয়েই যাচ্ছি। সঠিক ভাবে তদন্ত হলে অবশ্যই আমি নির্দোষ প্রমাণিত হব ইনশাল্লাহ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সামিউল হক বলেন,ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্ধকৃত প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো ঈদ উপহার ও ভিজিএফ কর্ডের টাকা নিয়ে কোন নয় ছয় করা হয়ে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।


শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ