ধামরাইয়ে আরিচা মহাড়কের পাশে জমির ওপর অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা

0
73
শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ


আলোর যুগ প্রতিনিধি,শামীম খান,ধামরাই
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাই অংশে সড়কপার্শ্ব সিংহভাগ জমি বেদখল হয়ে গেছে। প্রতিদিনই মহাসড়কের দু’পাশের জমি সড়ক ও জনপথ বিভাগের(সওজ)বেহাত হয়ে যাচ্ছে। পেশীশক্তির বলে সমাজের নেতৃস্থানীয় ও প্রভাবশালী মহলের লোকজন দখল করে নিয়ে বিভিন্ন ধরণের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছে। দেকান পাট ও অফিস বাড়া দিয়ে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এতে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়ে মহাসড়কের সম্প্রসারন কাজে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। সেইসঙ্গে অহরহ ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যাপক প্রাণ ও সম্পদহানি ঘটছে।।
রোববার সকালে দেখা যায়, মহাসড়কের ধামরাই থানারোড বাসস্ট্যান্ডে তিতাস গ্যাস কোম্পানির অফিসের সামনে সমাজে সেবামূলক দুটি প্রতিষ্ঠান মহাসড়কের জমি দখল করে মাটি ভরাট ও অফিস নির্মাণ করছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের নাকের ডগায়এ অবৈধ দখল দারিত্বে কোন বাঁধা কিংবা আইনগত কােন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে নীরব দর্শকের ভুমিকা পালন করেছে বলে জানা গেছে। মহাসড়কের দু’পাশে অর্ধশতাধিক অবৈধ হাটবাজার ও সহস্রারাধিক অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। সড়ক বিভাগের মোটা অংকের টাকা ব্যয় করে বার বার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও এ অবৈধ দখলরদাররা ক্ষমতার বলে বহাল তবিয়তেই রয়ে যায় । মহাসড়কটি ৪লেনে উন্নীতকরণ কাজ চলছে। এরপরও এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নামগন্ধও নেই।সমাজের বহু ক্ষমতা ও শক্তিধর বিশেষ শ্রেণীর লোকজনের অফিসসহ বহু অবৈধ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাও আবার উচ্চাদালতের নির্দেশ অমান্য করে। বেশীরভাগ হাটবাজার ও বিশেষ শ্রেণীর লোকজনের অফিস ও প্রতিষ্ঠান অতি সাম্প্রতিককালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সড়ক জনপথ বিভাগের প্রতি শতাংশ জমির মূল্য ২০লাখ টাকা থেকে ৫০লাখ বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
একদিকে চলছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ৪ লেনের কাজ আর অপরদিকে চলছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ। বিশেষ করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাই সড়ক উপ-বিভাগের নাকের ডগায় নয়ারহাট,ধামারই আন্তর্জাতিক বাটা-সু-কারখানার গেইট এলাকা,থানা রোড ও ডুলিভিটা বাসস্ট্যান্ড এলকায়ই আড়াইশ’ বিঘা জমি জবর দখল করে অবৈধ দখলদাররা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে দখলী স্বত্ব পাকাপোক্ত করেছে।
এ অবৈধ স্থাপনা বন্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ)কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। ধামরাই সড়ক উপ-বিভাগের নাকের ডগায় এ অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও তারা কার্যকর কোন পদক্ষেপই নেয়নি বলে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জানায়,মহাসড়কের দু’পাশে এ অবৈধ স্থাপনার ফলে ৪(চার)লেনের কাজ করতে নানাধরনের প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হচ্ছে। এছাড়া অহরহ ঘটছে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদহানি ঘটছে। এরপরও এব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা কার্যকরা কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করে নীরব দর্শকের ভুমিকা পালন করছে। সড়ক ও জনপথের জমির ১০০ফুটের মধ্যে কোন অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ না করার জন্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছেনা। এরপরও অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় দুর্ঘটনার সংখ্যা দিন দিন বেড়ই চলছে।
নিরাপদ সড়ক চাই সংস্থার(নিশচা)ধামরাই থানা শাখার সভাপতি মোঃ নাহিদ হাসান বলেন,মহাসড়কের দু’পাশে অবৈধ স্থাপনা ও হাটবাজার প্রতিষ্ঠার ফলে অহরহ ঘটছে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা । এতে ব্যাপক সম্পদ ও প্রাণহানি ঘটছে। এর প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কেউ এগিয়ে আসছেনা মহাসড়কটির এমন দুরবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কটি ৪ লেনের সম্প্রসারিত করা হলে উচ্ছেদ করা হয়নি এসব অবৈধ হাটবাজার ও প্রভাবশালীদের অফিস ও ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান।
এব্যাপরে সমাজ সেবক ও আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন,হাইকোর্টের নির্দেশ রয়েছে ১০০ফুটের মধ্যে কোন প্রকার স্থাপনা নির্মাণ করা যাবেনা। এরপরও অবৈধ স্থপনা নির্মাণ চলছেই। প্রতি শতাংশ জমির মূল্য কম করে হলেও ২০ থেকে ৫০লাখ টাকা। সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই অবৈধ দখলদাররা সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি দখল করে পাকা ভবনসহ অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছে।
এব্যাপারে ধামরাই সড়ক উপ-বিভাগের সেকশন অফিসার(এসও)মোঃ অভি হাসান বলেন,বিষয়টি আমরা জানি। এব্যাপারে আমাদের কিছুই করার নেই। আমরা আমাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করেছি।


শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ