গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দেয়ার পর পুলিশ হেফাজতে ধর্ষিতা

0
99
শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ

আলোর যুগ প্রতিনিধি, ধামরাই(ঢাকা)
ঢাকার ধামরাইয়ের চৌহাট এলাকায় ধর্ষিতার ৪মাসের গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে স্থানীয় মাতাব্বর ও ধর্ষকের পরিবার ধর্ষিতাকে ৭দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে। তাও আবার সালিশি বৈঠকের মাঝেই।এতে ওই ধর্ষিতা ও তার পরিবার মহা বিপাকে পড়ে গেলে। খবর পেয়ে ধর্ষিতা ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়েিয়ছেন কাওয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ রাসেল মোল্লা। ওই ধর্ষিতাকে সোমবার বিকালে পুলিশ হেফাজতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধু তাই নয় ধর্ষণের ঘটনায় আইনি সহায়তা প্রদানেরও আশ্বাস দিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার মৌচাক ইউনিয়নের সিনাবর গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেনের ছেলে মোঃ জনি মিয়া(৩২) ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার চৌহাট নানা মোঃ ভেন্দু মিয়ার বাড়ীতে বসবাস করে আসছে। বিয়ের প্রলোভনে চৌহাট ইউনিয়নের ধূলট গ্রামের এক তরুণীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ৪ মাস আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে এবং দৈহিক মেলামেশা করে।এতে ওই তরুণী অন্তঃস্বত্তা হয়ে পড়ে। জনিকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে বিয়ে না করে নানা টালবাহানায় শুধু সময় ক্ষেপন করতে থাকে। ফলে ওই তরুণী বিষয়টি তার পরিবারের কাছে ফাঁস করে দিলে পরিবারে সদস্যরা বিষয়টি স্থানীয় ইউপি মেম্বার মোঃ তোতামিয়া ও ইউপি চেয়ারম্যান পারভীন হাসান প্রীতিকে অবহিত করেন। ধর্ষক তার নিজ বাড়ীতে মোঃ হারুণ মিয়ার সভাপতিত্বে এক সালিশি বৈঠকের ব্যবস্থা করে। এ সালিশি বৈঠকে ধর্ষিতার গর্ভের সন্তান নষ্ট করে ফেলার জন্য মাতাব্বর হারুণ ও রনি মিয়াসহ সালিশকারি মাতাব্বররা ওই ধর্ষিতা ও ধর্ষিতাকে ৭দিনের আল্টিমেটাম দেয়। মাতাব্বরদের কথামত গর্ভের সন্তান নষ্ট না করা হলে ওই ধর্ষিতাকে সপরিবারে এলাকা ছাড়ার হুমকি প্রদান করে ওই মাতাব্বররা। এতে ওই ধর্ষিতা ও তার পরিবার মাহাবিপাকে পড়ে যান।
সোমবার বিষয়টি জানতে পেরে কাওয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ রাসেল মোল্লা ওই ধর্ষিতাকে কথিত মাতাব্বরদের নজরধারি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসেন। এব্যাপারে যথাযথ আইনি সহায়তা প্রদানেরও আশ্বাস দিয়েছেন ওই মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা।
ধর্ষিতা জানায়, আমরা মহাবিপাকে পড়ে গিয়েছিলাম। এ পুলিশ অফিসার আমাদের পাশে না দাঁড়ালে আমাদের কোন উপায় ছিলনা মাতাব্বরদের কথার বাইরে যাওয়ার । আমি আমার গর্ভের সন্তান মারতে চাইনা। আমরা এখন বিচার পাব। ওদের শাস্তি চাই।
কাওয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ রাসেল মোল্লা বলেন,ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ধর্ষিতাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধী যেইহোক কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা।


শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ