তাহিরপুর সীমান্তে পুলিশ বিজিবির নামে চাঁদা আদায় করছে দুই চোরাচালানী

0
96
শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ

কামাল হোসেন, তাহিরপুর(সুনামগঞ্জ)প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জ ২৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের তাহিরপুর উপজেলার টেকেরঘাট সীমান্ত দিয়ে রাতের আধারে বস্তা ভর্তি বিনা শুল্কে চোরাচালানের মাধ্যমে শত শত মে.টন কয়লা আসছে। আর এসব কয়লার বস্তা প্রতি টেকেরঘাট বিজিবি ক্যাম্পের নামে ১২৫ টাকা, তাহিরপুর থানার টেকেরঘাট পুলিশ ক্যাম্পের নামে ২৫টাকা, এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের নামে ৩০টাকা হারে মোট ১৮০টাকা করে বস্তা প্রতি চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় লাকমা গ্রামের চিহ্নিত চোরাচালানী ইদ্রিস মিয়া (৪২) ও বড়ছড়া উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত রুসমত আলীর ছেলে ইসাক মিয়া (৩৫) এর বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, গত কয়েক মাস যাবৎ চোরাচালানী মুক্তার মিয়া ও রফিকুল ইসলাম টেকেরঘাট চুনা পাথর খনি প্রকল্প স্কুল এন্ড কলেজের পিছনের ছড়া দিয়ে সপ্তাহে অন্তত দুইদিন ভারত থেকে অবৈধভাবে চোরাচালানের মাধ্যমে প্রতিরাতে শত শত কয়লার বস্তা নিয়ে আসায়। আর এসব কয়লার বস্তা আনতে স্থানীয় এলাকার কিছু যুবক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাতের আধারে ভারতের ওপারে যায়। এসব কয়লা ভারত থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে নিয়ে আসার নেতৃত্ব দেয় লাকমা গ্রামের মৃত সিরাজ মহালদারের ছেলে মুক্তার মিয়া (৩৫) ও লাকমা গ্রামের সাফিল মেম্বারের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩২)। এসব কয়লার বস্তা থেকে টেকেরঘাট বিজিবি ক্যাম্পের নামে ১২৫টাকা, পুলিশ ক্যাম্পের নামে প্রতি বস্তার জন্য ২৫টাকা হারে এবং স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের নামে ৩০টাকা করে চাঁদা আদায় করে আসছে লাকমা গ্রামের ইদ্রিস মিয়া ও উত্তর বড়ছড়া গ্রামের ইসাক মিয়া। রবিবার রাতেও ৩শতাধিক কয়লার বস্তা চোরা চালানের মাধ্যমে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে সুত্রটি।
এলাকার সচেতন মহল বলাবলি করছেন, প্রায় সময়ই বিজিবির অভিযানে মদ, কয়লা ও গরু আটকের সংবাদ দেখি পত্র পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তবে এপর্যন্ত এসব চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটকের সংবাদ পাওয়া যায়না এটি রহস্যজনক। তাহলেকি মাদক, কয়লা, গরু নিজে নিজেই আসে বিয়য়টি হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়। এমন অভিযানে এটাই প্রমানিত হয় যে প্রকৃত অপরাধীরা সব সময় অধরাই থেকে যায়।
এসব বিষয়ে ইসাক মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সে বলে, ভাই সংবাদ প্রকাশ করার দরকার নাই এলাকায় আসেন সবার সাথে কথা বলে আপনাকেও খুশি করার ব্যাবস্থা করব।
তাহিরপুর উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি আমিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রায়ই সীমান্ত এলাকা থেকে লোকজন ফোন করে কয়লা চোরা চালানের কথা জানায়, আমার প্রেসক্লাবের কোন সদস্য এসবের সঙ্গে জড়িত নয় তার পরেও বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।
সুনামগঞ্জ ২৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের টেকেরঘাট কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার মো. আনিসুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার এলাকার কোথাও কোন চোরাচালান হয়না যদিও কোথাও বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে হয় আমি তৎক্ষনাত গিয়ে মাল জব্দ করি। যদি আপনারাও কোথাও কোন চোরাচালানের খবর পান আমাকে জানাবেন আমি কঠোর ব্যাবস্থা নিব।
টেকেরঘাট পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ এএসআই মো. মীর হোসেন বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি কেউ পুলিশের নামে টাকা তুলে কিনা আমার জানা নেই আমার আগে যিনি ছিলেন তিনি বলতে পারবেন।

 


শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ