টিকা আমদানিতে ১৮ জন বিশিষ্ট নাগরিকের রিরৃতি

0
14
শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ


আলোর যুগ প্রতিবেদক
করোনার টিকা আমদানিতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ১৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক। এই অভিমতের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তাঁরা বলেছেন, টিকা আমদানির আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জনগণকে টিকা দেওয়ার পুরো দায়দায়িত্ব সরকারই পালন করছে।

গতকাল সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছেন তাঁরা। বিবৃতিতে স্বাক্ষরদাতারা হলেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, হাসান আজিজুল হক, অধ্যাপক অনুপম সেন, রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসী মজুমদার, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, আবেদ খান, অধ্যাপক আবদুস সেলিম, মফিদুল হক, মামুনুর রশীদ, আমজাদ হোসেন, ফওজিয়া মোসলেম, রশিদ এ মাহবুব, কামরুল হাসান খান, অধ্যাপক এ বি এম ফারুক, শাহরিয়ার কবির, নাসির উদ্দীন ইউসুফ ও অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠান নাসির উদ্দীন ইউসুফ।

বিবৃতিতে বলা হয়, কোভিড-১৯ সংক্রমণের অতিমারিতে আক্রান্ত বিশ্বে বাংলাদেশের নাগরিকদের জীবন নিরাপদ এবং অর্থনীতি সচল রাখার জটিল সমস্যা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে, সেগুলোর অনেক ইতিবাচক দিক আমাদের আস্থা জুগিয়েছে। সংক্রমণ রোধে টিকাদানের ব্যবস্থাপনা এবং তার বাস্তবায়ন সর্বমহলের প্রশংসা অর্জন করেছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা করে টিকা সংগ্রহের যে ব্যবস্থা করেছিলেন, তা ভারতজুড়ে অভাবিত রোগ সংক্রমণের কারণে বিপর্যস্ত ও বন্ধ হয়ে যায়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাশিয়া ও চীন থেকে টিকা সংগ্রহের প্রচেষ্টা শুরু করে। একই সঙ্গে চীনের সিনোফার্মের করোনার টিকা এবং রাশিয়ার টিকা স্পুতনিক–ভি দেশে উৎপাদনের জন্য সরকারিভাবে ফলপ্রসূ আলোচনা শুরু হয়। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ফোরামে ভ্যাকসিন উৎপাদনে সক্ষম দেশগুলোর জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদে অধিকার শিথিল করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

১৮ নাগরিকের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা সরকারের এই সব পদক্ষেপের সঙ্গে সহমত পোষণ করে জরুরি ভিত্তিতে এর বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করি। সেই সঙ্গে আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি যে ভ্যাকসিন-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি মহল সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আমরা মনে করি, ভ্যাকসিন আমদানির আলোচনা ও সিদ্ধান্ত এবং জনগণকে টিকাদানের সমগ্র দায়দায়িত্ব যেহেতু সরকার পালন করছে, তাই ভ্যাকসিন আমদানিতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা গ্রহণের সুযোগ নেই। সরকার এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে, সেটা আমাদের প্রত্যাশা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাসহ অন্যান্য ফোরামে টিকা উৎপাদনে মেধাস্বত্ব সুরক্ষা নিয়ম শিথিলের যে দাবি তুলেছেন, তা বিশ্বমানবের সর্বজনীন অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট নাগরিকেরা।
বিবৃতিতে তাঁরা বলেছেন, ‘আমরা এই দাবির পক্ষে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সোচ্চার হওয়ার জন্য নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে সক্ষম দেশীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানসমূহ দ্বারা ভ্যাকসিন উৎপাদনের দ্রুত বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশের জন্য করোনা মোকাবিলায় ভ্যাকসিন উৎপাদনের কোনো বিকল্প নেই।


শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ