ঘুষ বাণিজ্যে সাভার কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ

0
42
শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ


আলোর যুগ প্রতিনিধি,সাভার :-
জরিমানা মওকুফের প্রতিশ্রুতিতে একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার মালিকের কাছে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে সাভার কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের আশুলিয়া সার্কেলের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে। তিনি বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী মামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই ঘুষ দাবি করেন। রাজস্ব কর্মকর্তার ঘুষ দাবি সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও ক্লিপ তার কাছে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানটির মালিক। আর শুধু এই একটি ঘটনায় নয়, সাভার কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগে এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটছে বলে দেশ রূপান্তরের কাছে অভিযোগ করেছেন আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী।

রাজস্ব কর্মকর্তা সাইদুর রহমানের ঘুষ দাবির বর্ণনা দিতে গিয়ে ভুক্তভোগী সাভার অ্যাডভার্টাইজিং ফার্মের মালিক মতিউর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারের সকল নিয়ম মেনে স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করতে প্রতিষ্ঠানের নামে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন করা হয়। আমার জানামতে বছর শেষে রিটার্ন দাখিল করতে হয়। প্রায় সাত মাস পর ভ্যাট অফিস থেকে মুঠোফোনে প্রতিষ্ঠানের রিটার্ন দাখিল করতে বলার পরদিন ভ্যাট কার্যালয়ে যাই। টানা দুই দিন এই টেবিলে ওই টেবিলে ঘুরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সাইদুর রহমানের কাছে যাই। ’

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আরও বলেন, ‘সময়মতো রিটার্ন দাখিল না করা হলে গ্রাহককে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। সে অনুযায়ী ৫ মাসে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছে বলে জানতে পারি। জরিমানা মওকুফের জন্য অনুরোধ করা হলে জরিমানার অর্ধেক ২৫ হাজার টাকা ঘুষ হিসেবে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা (সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সাইদুর রহমান)। অন্যথায় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে তার সঙ্গে দেনদরবার করে ২০ হাজার টাকা দিতে রাজি হই, যার কথোপকথনের ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ করা হয়েছে।

কিন্তু টাকা ম্যানেজ করতে না পারায় তার সঙ্গে আমি সাক্ষাৎ করি নাই। কিন্তু সেদিনের পর থেকে সাইদুর রহমান প্রায়ই ফোন দিয়ে মামলা দায়েরের হুমকি দিয়ে আসছেন। ’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাইদুর রহমান বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের মালিক (সাভার অ্যাডভার্টাইজিং ফার্মের মালিক মতিউর রহমান) আমার কাছে আসার পর আমি তাকে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে টাকা জমা দিতে বলেছিলাম। কিন্তু তার কাছে কোনো অনৈতিক দাবি করা হয়নি। ’ কিন্তু মতিউর রহমানের কাছে ঘুষ দাবির ভিডিও ক্লিপ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে এই শুল্ক কর্মকর্তা বলেন, ‘কথোপকথনগুলো ভুলভাবে উপস্থাপন করছে। এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ। ’

এদিকে শুধু এই একটি ঘটনাই নয়, সাভার কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগে এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাভার ভ্যাট অফিসে প্রতিনিয়তই বিভিন্ন অজুহাতে গ্রাহকদের কাছ থেকে ঘুষ আদায় করেন কিছু অসাধু কর্মকর্তা। ভ্যাটের কাগজপত্র হালনাগাদ না থাকলে কোনো টেন্ডারে অংশ নেওয়া যায় না। আর এমন সুযোগকে কাজে লাগিয়ে খুঁটিনাটি ভুলের জন্যও গ্রাহকদের কাছ থেকে ঘুষ আদায় করেন তারা। ’

অন্যদিকে কাপড় বিক্রেতা জুয়েল মোল্লা বলেন, ‘শপিং মল, মুদি দোকান, মিষ্টি বিক্রেতা, সুপার মার্কেটসহ অনেক ব্যবসায়ীই ব্যাংক লোন নিয়ে ব্যবসা করে থাকে। এজন্য ভ্যাটের হালনাগাদ কাগজপত্র খুব জরুরি। ব্যাংক লোনের কথা চিন্তা করেই ভ্যাট অফিসের কর্মকর্তাদের অনৈতিক চাহিদা পূরণ করতে বাধ্য হন ব্যবসায়ীরা। ’

শুল্ক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাভার কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ডেপুটি কমিশনার খায়রুল আলম বলেন, ‘এমন কোনো বিষয় আমার জানা নেই। তবে যদি কেউ লিখিত অভিযোগ করেন তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ’


শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ