উলিপুরে শিশুকে ধর্ষনের চেষ্টা : কিশোরের মাথা ন্যাড়া করে দিলেন মাতব্বররা

0
102
শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ

হাফিজুর রহমান সেলিম, উলিপুর, (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের উলিপুরে ২য় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগে এক কিশোরের মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে গ্রাম্য মাতাব্বররা। এ ঘটনায় এলাকা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে, শনিবার (২০ এপ্রিল) রাতে।

এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল বুুড়াবুড়ি ইউনিয়নের চকচকার পাড় ফকিরপাড়া গ্রামের মহিজল মিয়ার পুত্র আইসক্রিম বিক্রেতা রতন মিয়া (১৪) গত শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে আইসক্রিম বিক্রি করতে পার্শ্ববর্তী ফকির মোহাম্মদ ছয়ানী গ্রামে যায়। এ সময় ওই গ্রামের দরিদ্র কৃষকের (মোন্তাজ আলীর (৪৫)) কন্যা বুড়াবুড়ি জোবাইদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণিতে পড়ুয়া ৭ বছরের শিশুকে একা পেয়ে আইসক্রিম খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রাস্তার ধারে থাকা একটি পরিত্যাক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষনের চেষ্টা করে।

এসময় মেয়েটির আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে রতন শিশুটিকে ছেড়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওই শিশুটি বাড়িতে এসে বাবা মাকে ঘটনা জানালে পরিবারের লোকজন আইসক্রিম বিক্রেতা রতনের পিছু নিয়ে বুড়াবুড়ি বাজারের কাছে তাকে আটক করে।

পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি বিচারের কথা বলে তাদের কাছ থেকে রতন মিয়াকে ছাড়িয়ে নেন। ঘটনাটি আপোষ মিমাংসার জন্য গত শনিবার (২০ এপ্রিল) বুড়াবুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নুর ইসলামের বাড়িতে ওই ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লাল মিয়া, ১ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য সামছুল আলম, এলাকার প্রভাবশালী সৈয়দ আলীসহ একাধিক গ্রাম্য মাতব্বরের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক বসে।

এ সময় ঘটনার বিবরণ না শুনেই গ্রাম্য মাতব্বরা এক জোট হয়ে অভিযুক্ত রতন মিয়াকে প্রথমে মারপিট পরে মাথা ন্যাড়া করে জুতার মালা পড়িয়ে উপস্থিত সকলের কাছে ক্ষমা চাওয়ায়। খবর পেয়ে রোববার (২১ এপ্রিল) সরেজমিনে ওই এলাকায় গেলে স্থানীয়রা জানায়, উভয় পক্ষ দরিদ্র এবং দুইজনই শিশু। এছাড়া ঘটনা বেশিদুর গড়ায়নি। তাই সামাজিক নিরাপত্তা ও দুই শিশুর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মিমাংসা করে দেয়া হয়। ছেলেটিকে সামাজিক ভাবে শাসন করা হয়েছে। এ বিষয়ে রতন মিয়ার সঙ্গে কথা বলতে তার বাড়ি গিয়ে দেখা যায় বাড়ির সবকটি ঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘক্ষন অপেক্ষা করে তাকে ও তার পরিবারের কোন সদস্যকে পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিবেশী মোজাম্মেল হক (৪৯), জয়নাল হক (৫০),হাসিনা বেগম(৪০) সহ অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনার পর লজ্জায় তারা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। তারা আরও জানান, মাতব্বররা রতনের উপর অমানবিক বিচার করেছেন।

ওই শিশু শিক্ষার্থীর মা (শরিফা বেগম) বলেন, শুক্রবার দুপুর একটার দিকে আইসক্রিম বিক্রেতা রতন আমার কন্যাকে আইসক্রিম খাওয়ার লোভ দেখিয়ে বাড়ির অদুরে পরিত্যক্ত একটি ঘরে খারাপ উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়। এসময় তার আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে রতন পালিয়ে যায়। পরিবারের উপস্থিতিতে শিশুটির কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে শিশুটি এতই অবোধ (অবুঝ) যে, সে ঘটনার বর্ণনা দিতে পারেনি।

৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লাল মিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে বিচারের ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। তবে তিনি ঘটনাটি শুনেছেন বলেও জানান।

বুড়াবুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নুর ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বৈঠকে রতন দোষী সাবস্ত্য হওয়ায় সকলের সম্মতিতে তাকে জুতার মালা পরিয়ে মাথা ন্যাড়া করে দেয়া হয়। দুই পরিবারের সম্মতিতে বিচার করা হয়েছে। যাতে সে এরকম ঘটনা আর কখনও না ঘটায়।

বুড়াবুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান একরামুল হক জানান, চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছি। বিষয়টি কেউ আমাকে জানায়নি। আপনার মাধ্যমে শুনলাম। আইনের কাছে সোপর্দ না করে এরকম বিচার সালিশ করা অন্যায় হয়েছে।

উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, এ ধরনের ঘটনায় বিচার শালিস করার কোন বিধান নেই। কেউ যদি করে থাকে তা অন্যায় করেছে।


শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ