উলিপুরে টাকার বিনিময়ে আইএসপিপি প্রকল্পে অর্ন্তভুক্ত হচ্ছে নাম

0
87
শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ

হাফিজুর রহমান সেলিম, উলিপুর(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুরে ‘ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর দ্য পুওরেষ্ট’ (আইএসপিপি) প্রকল্পের শুরুতেই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক লেনদেন না করার জন্য এলাকায় মাইকিং করে ঘোষনা দিলেও উপকারভোগীদের কাছে তালিকাভূক্ত করার কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তবে টাকা নেয়ার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।

সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার বিভাগ অতিদরিদ্রদের জন্য আইএসপিপি প্রকল্পের মাধ্যমে আয় সহায়ক কর্মসূচি মাধ্যমে অতিদরিদ্র অন্তঃস্বত্ত্বা নারী, পাঁচ বছরের কম বয়সী উপজেলায় ১৮ হাজার ১৫০ শিশু ও তাদের মা-দের পুষ্টির বিপরীতে নগদ অর্থ প্রদান করা হবে।

প্রকল্পের সুবিধাভোগী মা অন্তঃস্বত্ত্বাকালীন অবস্থায় ৪ বার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ৮০০ টাকা এবং ২৪ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর ওজন ও উচ্চতা পরিমাপের জন্য ৩ মাসে ১ হাজার ৫০০টাকা পাবেন। দুই থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুরা এ সময় পাবে ১ হাজার টাকা। আর অন্তঃস্বত্ত্বা নারী এবং ৫ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর মা পুষ্টি ও মনোদৈহিক বিকাশ সংক্রান্ত শিক্ষামূলক সেশনে অংশগ্রহনের জন্য ৩ মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা পাবেন।

প্রকল্পটি সুষম বন্টনের জন্য উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে উপদেষ্টা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সভাপতি করে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে টিম গঠন করা হয়। প্রকল্পের উপকারভোগীদের তালিকা করার দায়িত্ব পড়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপর।

এ সুযোগে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়াম্যান, ইউপি সদস্য ও তাদের লোকজন নাম তালিকাভূক্তির কথা বলে জনপ্রতি ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। জানা যায়, উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মহু বাদশার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই ওয়ার্ডের খইমুদ্দিনর নামের এক ব্যক্তি।

একই অভিযোগ, হাতিয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম ও ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য মর্জিনা বেগমের বিরুদ্ধে। কথা হয় ৯ নং ওয়ার্ডের পুতুল রাণী, আমিনুল ইসলাম, মমিনা বেগমের সাথে তারা জানান, সিরাজুল মেম্বার ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মর্জিনা বেগম হামার কাছে ৫ হাজার করে টেকা চাইছে। হামরা গরিব এত টেকা কনটে পাই। টেকাও দিবের পাই নাই, হামার ছাওয়ার কার্ডও জমা নেয় নাই।

ওই ইউনিয়নের ছোলার বাজার বাঁধ এলাকার কৃষক হাফিজ মিয়া বলেন, আমার তিন জন নাতির জন্য গিয়েছিলাম । তারা আমাকে বলছে তিন জনের জন্য ১৫ হাজার টাকা লাগবে হইলে আইসেন।

পান্ডুল ইউনিয়নের পারুলের পাড় গ্রামের রফিকুল ইসলাম, আশরাফ আলী,আলামিন মিয়া বলেন, চেয়ারম্যান আমাদের কাছে ৫ হাজার করে টাকা চাইছে। টাকা দিতে পারি নাই জন্য কাগজপত্র ফেরত দিছে। ধামশ্রেনী ইউনিয়নের সুফিয়া বেগম, উম্মে খাতুন, রোসনাসহ বিভিন্ন এলাকায় অনেকের সাথে কথা বলে একই ধরনের অভিযোগ উপজেলার সবকটি ইউনিয়নে পাওয়া গেছে।

হাতিয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য মর্জিনা বেগম বলেন, যে কয়টা কার্ড পেয়েছি তা সবাইকে দেয়া সম্ভব না।

প্রকল্প সুপারভাইজার আয়শা সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে সকল ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের নিয়ে বৈঠক করে কোন ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার জন্য তাদেরকে সতর্কতা করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল কাদের বলেন, যাতে কেউ টাকা লেনদেন করতে না পারে সেজন্য আমরা প্রতিটি ইউনিয়নে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করেছি। তাছাড়া যদি কেউ লিখিত অভিযোগ করে তা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।


শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ