আলোর যুগ অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর নদীর বাঁধ কাটল ভ্রাম্যমাণ আদালত , ৫০ হাজার টাকা জড়িমানা

0
55
শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ


আলোর যুগ প্রতিনিধি (শামীম খান)ধামরাই:-
ঢাকার ধামরাইয়ে নদীতে বাঁধ দিয়ে কথিত সেই যুবলীগ নেতার মাটি ভরাট করে ট্রাক চলাচলের নিজস্ব রাস্তাটি কেটে দিয়েছে উপজেলা ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেই সঙ্গে কে ৫০হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়েছে। অনাদায়ে আরাও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ প্রদান করেছে ওই উপজেলা ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অন্তরা হালদার। বৃহস্পতিবার দেশের সর্বাধিক প্রচারিত গণমাধ্যম সাপ্তাহিক আলোর যুগ অনলাইন পোর্টালে ঐ সংবাদ প্রকাশ হলে সংবাদটি উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দৃষ্টিগোচর হয়। এরপর দুপুর ৩ টায় সরেজমিনে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এ দন্ড প্রদান করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
উল্লেখ্য, ধামরাই উপজেলার নান্নার ইউনিয়নের ধাইরা গ্রামের কৃষক মোঃ আব্দুল মান্নানের ছেলে মোশারফ হোসেন দীর্ঘ্যদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি ব্যবসা করে আসছে। সেই সঙ্গে রাতে ইটভাটায় বসে মাদকের হাট চালানো সহ একাধিক অপরাধ মুলক কাজে জড়িত। সরকারী দলের নাম ভাঙ্গীয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা মাদকের বেচাকেনা হয়ে থাকে ঐ ইটভাটায়।স্থানীয় প্রশাসনিক ও ক্ষমতাশীন দলের বাড়তি সুবিধা পাওয়ার জন্য নিজেকে নান্নার ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা বলে পরিচয় দিয়ে আসছে। এ প্রভাব খাটিয়ে ধাইরা এলাকায় ঐতিহ্যবাহী গাজীখালী নদীতে বাঁধ দিয়ে মাটি পরিবহণের জন্য নিজস্ব ট্রাক চলাচলের রাস্তা নির্মাণ করে চুটিয়ে মাটির ব্যবসা করে আসছিল। এতে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েন। একদিকে নদীর পানি প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় পঁচনশীল পদার্থের দুর্গন্ধ,রাস্তা ও বাড়ী ঘরে ট্রাক চলাচলের কারণে ধুলোয় অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দারা।এব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক আলো যুগ অন লাইন পোর্টালে পত্রিকায় ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হলে স্থানীয় প্রশাসনের টনক নড়ে।
বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারি কমিশনা(ভুমি)অন্তরা হালদারের নজরে আসলে তিনি বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। প্রকাশিত সংবাদের তথ্য উপাত্য সঠিক প্রমাণিত হওয়ায় তিনি ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসান। এ সময় স্বঘোষিত নেতা মোশারফ হোসেনকে ৫০হাজার টাকা অর্থদন্ড করেন। অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ প্রদান করা হয়। সেই সঙ্গে নদীতে বাঁধ দিয়ে মাটির ট্রাক চলাচলের রাস্তাটি কেটে দেয়া হয়।এ খবরে এলাকাবসী স্বস্তির নিশ্বাস ছেড়েছেন।স্বঘোষিত ওই যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও নদীর বাঁধটি কেটে দেয়ায় এলাকাবসী সকলেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অন্তরা হালদারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
এলাকাবাসী জানান, তার ইটভাটায় রাতের আাঁধারে বসে নেশাখোরদের জলসা ও মাদকের হাট। ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে টু-শব্দ করার সাহস পায় না। তাই তারা এলাকায় যাচ্ছে তাই কর্মকান্ড করেও বহাল তবিয়তেই ছিল। খবর প্রকাশের ফলে আজ কথিত ওই যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
অপরদিকে নান্নার ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুরাদ হোসেন ফরায়েজি বলেন,মোশারফ হোসেন কোনদিন আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলনা। বর্তমানেও নেই। সে যুবলীগসহ আওয়ামীলীগের কোন কমিটিতেও নেই। সে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষন্ন করেছে। এজন্য তার বিরুদ্ধে সাংগাঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এব্যাপারে নান্নার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রভাষক মোঃ কামাল উদ্দিন বলেন,মোশারফ হোসেন আমাদের দলের কেউ নয়। সে কখনও আওয়ামীলীগ তো দূরের কথা কোন অঙ্গসংগঠনেরও সদস্য নয়। সে দলের নাম ভাঙিয়ে ব্যবসায়ীক সুবিধা নিচ্ছে। এব্যাপারে তার বিরুদ্ধে সাংগাঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নীতি ও আদর্শকে কেউ ভলুন্ঠিত করবে তা আমরা কখনও কোনভাবেই মেনে নেবনা।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অন্তরা হালদার বলেন,চলমান নদীতে বাঁধ দিয়ে ট্রাক চলাচলের রাস্তা বানিয়ে মানুষের প্রতিবন্ধকতার সৃৃষ্টি করে মাটির ব্যবসা করবে তা কি করে হয়। তাই ভ্রম্যমাণ আদালত বসিয়ে নামধারি ওই যুবলীগ নেতা মোশারফ হোসেনকে অর্থদন্ড প্রদান ও নদীর ওপর নির্মিত বাঁধটি কেটে দেয়া হয়েছে।


শেয়ার করে সকল কে জানিয়ে দিনঃ